1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

সমাজ সংস্কৃতি

জার্মানিতে প্রবাসী ইউক্রেনীয় বিশ্ববিদ্যালয়

বহুদিন ধরেই এটার অবস্থান ছিল ছায়াঢাকা৷ তবে ইউক্রেন সংকটের পর থেকে চিত্রটা অনেক পাল্টেছে৷ ক্রমেই শিক্ষার্থীর সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে মিউনিখের ইউক্রেনি ফ্রি ইউনিভার্সিটিতে৷ রাজনৈতিক সংকট বিশ্ববিদ্যালয় জগতেও প্রভাব ফেলছে৷

ইউক্রেনের প্রবাসী ইউনিভার্সিটি ‘ইউক্রেনি ফ্রি ইউনিভার্সিটি’ সংক্ষেপে ইউএফইউ মিউনিখে অবস্থিত৷ শীতল যুদ্ধের সময় অ্যামেরিকার একটি ফাউন্ডেশনের সহায়তায় গড়ে ওঠে এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠান৷ ইউক্রেন সংকটের কারণে এটি আবার চাঙা হয়ে উঠেছে৷ ইউক্রেন সংকট শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের মধ্য কীরকম প্রভাব বিস্তার করছে এবং বিশ্ববিদ্যালয়টির আর্থিক অবস্থাই বা কেমন? এ বিষয়ে এক ঝলক দৃষ্টি দেওয়া যাক৷

শিক্ষার মাধ্যম ইউক্রেনি

সেমিনারের পেপারটি কেমন হয়েছে, সে ব্যাপারে স্টেফান কিছুটা উদ্বিগ্ন ছিল৷ কিন্তু অধ্যাপকের মাথা নাড়া দেখে স্বস্তি পায় সে৷ ‘‘মায়দান ও ইউক্রেনি ভাষায় এর প্রভাব’’ লেখাটি ভালোই হয়েছে৷ ইউএফইউ-এর ক্লাস চলে ইউক্রেনি ভাষায়৷ তাই শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের এই ভাষায় দখল থাকতে হয়৷ চলতি সংকট, মায়দানে বিক্ষোভ, রাজনৈতিক পরিস্থিতি ইত্যাদি সম্পর্কে ক্লাসে তুলে ধরা হয়৷ বলেন জন্মসূত্রে অস্ট্রিয়ান শিক্ষক মিশায়েল মোসার৷

জার্মানিতে কাজ করতে পারেন

বাভারিয়ার সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় কর্তৃক স্বীকৃত ইউএফইউ৷ এখান থেকে ডিগ্রি পাওয়া ব্যক্তিরা জার্মানির যে কোনো জায়গায় কাজ করতে পারেন৷ ইউক্রেন বা পূর্ব ইউরোপীয় দেশগুলির সঙ্গে যে সব প্রতিষ্ঠানের ব্যবসায়িক সম্পর্ক রয়েছে, সে সব প্রতিষ্ঠানে কাজ পাওয়ার ভাল সুযোগ রয়েছে ইউএফইউ-এর ডিগ্রিধারীদের৷ তবে ব্যাচেলর কোর্স পড়ানো হয় না এখানে৷ তার মানে প্রত্যেক শিক্ষার্থীরই আগে কোনো ডিগ্রি থাকতে হয়৷

তারাস-এর জার্মানি সম্পর্কে ব্যক্তিগতভাবে কোনো ধারণা ছিল না৷ তবুও ইউক্রেনে ইতিহাস নিয়ে পড়াশোনা শেষ করে ইউএফইউতে ভর্তি হয়েছে এই তরুণ৷ ‘‘ইউক্রেনের শিক্ষা বিভাগ সাবেক সোভিয়েত আমলের রাজনৈতিক সংস্কৃতি দ্বারা প্রভাবিত৷ যে সব বিষয়ে আমার আগ্রহ, এখানে সেসব বিষয় পড়ার সুযোগ পেয়ে আমি আনন্দিত৷’’ বলে তারাস৷ বিশেষ করে তার ভালো লাগে: প্রত্যেক শিক্ষক নিজেদের রাজনৈতিক মতামত প্রকাশ করতে দ্বিধা বোধ করেন না বলে৷

দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন

পশ্চিম ইউক্রেন থেকে আসা তারাসের কাছে আর একটা ইতিবাচক দিক হলো, এই বিশ্ববিদ্যালয়ে দেশের অন্যান্য অঞ্চলের ছেলে-মেয়েদের সঙ্গে পরিচিত হওয়া৷ ইউক্রেন রাষ্ট্রের উন্নতির ব্যাপারে তাদের দৃষ্টিভঙ্গি বিভিন্ন রকম, কিন্তু সংঘর্ষ হওয়ার মতো কিছু ঘটে না৷ সবাই নিজেকে ইউক্রেনি বলে মনে করে৷ দেশটি ভেঙে পড়ুক তা কেউ চায় না৷ অনেকে মিউনিখ থেকেই মায়দানের বিক্ষোভকারীদের সহায়তা করেছে৷ সংগ্রহ করেছে চাঁদা৷

তারাসের সহপাঠী কাটারিনা এসেছে পূর্ব ইউক্রেন থেকে৷ সেখানে রুশপন্থি বিচ্ছিন্নতাবাদীরা নিজস্ব প্রজাতন্ত্র গঠনের চেষ্টা করছে৷ তার মাতৃভাষা রুশ৷ কাটারিনা বলে, ‘‘আমরা এখানে খুব আলোচনা করি৷ আমি লক্ষ্য করছি, আমার মতামতের পরিবর্তন হচ্ছে৷ আগে আমি মনে করতাম পশ্চিম ইউক্রেনীয়রা রুশ ভাষাভাষী মানুষদের প্রতি বৈরিভাবাপন্ন৷ এখন আমি বুঝতে পারছি সেটা ঠিক নয়৷’’

অনেকেই ফিরবে না

কাটারিনা ইউএফইউতে প্রথম সেমিস্টারে পড়ছে৷ ইউক্রেনে জার্মান ভাষা নিয়ে পড়াশোনা করার পর মিউনিখে এক বছর সামাজিক বছর করেছে৷ তার জার্মান ভাষাজ্ঞান বেশ ভালো৷ জার্মানির যে কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ে টিউশন ফি ছাড়াই পড়াশোনা করতে পারতো সে, কিন্তু ইউক্রেনি সংস্কৃতি ও ইতিহাস সম্পর্কে আরো জানার আগ্রহ তার প্রবল৷ আর তাই প্রতি সেমিস্টারে ৬০০ ইউরো টিউশন ফি দিয়ে ইউএফইউ-তে পড়াশোনা করছে এই ছাত্রী৷

এই প্রতিষ্ঠানের অধিকাংশ শিক্ষার্থীর কাছে একটা বিষয় স্পষ্ট: ইউক্রেনের পরিস্থিতির পরিবর্তন না হলে স্বদেশে ফিরবে না তারা৷ যদিও ইউক্রেনি কর্মদাতাদের কাছে এই বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিগ্রির বিশেষ মূল্য রয়েছে৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়