1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

জার্মানি

জার্মানিতে প্যাকিং-এর আবর্জনা বেড়ে চলেছে

এমনিতে জার্মানি রিসাইক্লিং চ্যাম্পিয়ন বলে পরিচিত৷ কিন্তু এ দেশেই সবচেয়ে বেশি প্যাকিং মেটিরিয়াল জনিত বর্জ্য তৈরি হয়৷ এক্ষেত্রে মাথাপিছু বর্জ্য সৃষ্টিতে জার্মানরা ইউরোপে নাম্বার ওয়ান৷

বিভিন্ন ধরনের ট্র্যাশ বা বর্জ্য আলাদা করায় জার্মানদের জুড়ি নেই – কাগজ এখানে, তো প্লাস্টিক ওখানে – খাবারদাবারের অবশিষ্ট এখানে, তো বাগানের ঘাস-পাতা ওখানে – এ সবই আছে৷ সেই বর্জ্যের রিসাইক্লিংও চলছে পুরোদমে৷ বর্জ্যের প্রায় অর্ধেকই জার্মানিতে রিসাইক্লিং করা হয়: এখানেও জার্মানরা বিশ্বচ্যাম্পিয়ন, বলা চলে৷

কিন্তু ‘ডয়চে উমভেল্টহিল্ফে' (ডিইউএইচ) পরিবেশ সংগঠনের সর্বাধুনিক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, জার্মানরা রিসাইক্লিং-এ বিশ্বসেরা হলেও, আবর্জনা সৃষ্টিতেও তারা খুব কম যান না৷ দৃশ্যত প্রত্যেক জার্মান বছরে গড়ে ২১৩ কিলোগ্রাম ‘প্যাকেজিং ওয়েস্ট' বা প্যাকিং সংক্রান্ত বর্জ্য সৃষ্টি করেন – যা কিনা দিনে ৬০০ গ্রাম প্যাকিং বর্জ্য!

মনে রাখতে হবে, ফ্রান্স, অস্ট্রিয়া ও সুইডেনের ক্ষেত্রে এই পরিসংখ্যান হলো যথাক্রমে ১৮৫ কিলোগ্রাম, ১৫০ কিলোগ্রাম ও ১০৯ কিলোগ্রাম৷ কাজেই প্যাকেজিং বর্জ্যে জার্মানি ইউরোপে পয়লা নম্বর৷ ওদিকে বাকি বিশ্বের মতো জার্মানিতেও গত এক দশকে প্যাকেজিং বর্জ্য বেড়েছে – এ দেশে মোট ১৩ শতাংশ৷ একদিকে কোম্পানিগুলো মুনাফার লোভে প্যাকিং বাড়াচ্ছে, অন্যদিকে সরকার আইন করে সেই প্যাকেজিং কমাতে চাইছেন৷

প্যাকেজিং থেকে মুনাফা

আগে থেকেই অংশে অংশে, এবং বিশেষ করে ছোট পরিমাণে প্যাক করে বিক্রি করার প্রবণতা বাড়ার কথা বলেছে ডিইউএইচ৷ দৃশ্যত একা মানুষদের সংসারের সংখ্যা বাড়ার ফলেই কোম্পানিগুলি এই স্ট্র্যাটেজি অনুসরণ করতে বাধ্য হয়েছে৷ কিন্তু আরেকটি কারণ হলো, প্যাকিং-এর সাইজ বাড়িয়ে, তার ভিতর পণ্যের পরিমাণ কমিয়ে কিংবা সমান রেখে, কোম্পানিগুলো অনেক বেশি মুনাফা করছে৷

সেই সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে ‘ট্রেন্ড', যেমন কফি ক্যাপসুলের ট্রেন্ড৷ সাধারণ কফি বিক্রির চেয়ে ১৬ গুণ বেশি প্যাকেজিং লাগে এই কফি ক্যাপসুলে -– কিন্তু লাভও বাড়ে চারগুণ৷ ঠিক এভাবেই কোম্পানিগুলো আর পানীয়ের বোতল পুনর্ব্যবহার করতে আগ্রহী নয়, যদিও এককালে জার্মানিতে পরিবেশবাদীদের ধ্বজা ছিল পানীয়ের বোতলের ওপর রিফান্ড ও বোতল ফেরৎ নেওয়া৷ কোম্পানিদের দৃষ্টিকোণ থেকে একবার ব্যবহারযোগ্য বোতল সস্তা আর তা রাখবার জন্য জায়গার দরকার পড়ে না৷ ২৫ বছর আগে বোতলের উপর ডিপোজিট নেওয়ার প্রণালী যখন চালু হয়, তখন এই সব বোতলের ৯০ ভাগ ব্যবহারের পর দোকানে ফেরৎ আনা হতো – এখন সেটা কমে দাঁড়িয়েছে ৩০ ভাগে৷ আল্ডি বা লিডল-এর মতো বড় বড় সুপারমার্কেট চেন ডিপোজিট সুদ্ধ প্লাস্টিক বটল রাখাই বন্ধ করে দিয়েছে৷

কোম্পানিরা প্যাকেজিং বর্জ্য কমানোর জন্য কিছু কিছু ছোটখাট পদক্ষেপ নিয়েছে, যেমন কমপ্রেসড প্যাকেজিং বা কেনাকাটা নিয়ে যাওয়ার প্লাস্টিক ব্যাগ বিক্রি বন্ধ করা৷ কিন্তু বিশেষজ্ঞদের মতে শুধু কোম্পানি ও গ্রাহকদের সচেতনতার উপর ব্যাপারটা ছেড়ে না দিয়ে, সরকারের এবার সক্রিয় হওয়া উচিত৷ মুশকিল শুধু এই যে, সরকার গত চার বছর ধরে সেই আইনের খসড়া নিয়ে ব্যস্ত রয়েছেন৷

আপনার কি কিছু বলার আছে? লিখুন নীচের মন্তব্যের ঘরে৷

কিইও ড্যোরার/এসি

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়