1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

সমাজ সংস্কৃতি

জার্মানিতে পুরস্কার পেলেন ভেস্টারগার্ড

২০০৫ সালে ডেনমার্কে ইসলাম ধর্মের মহানবীর ব্যাঙ্গচিত্র প্রকাশিত হওয়ায় গোটা বিশ্বে প্রবল বিতর্ক ও হিংসাত্মক বিক্ষোভ দেখা দিয়েছিল৷ সেই ব্যাঙ্গচিত্রের স্রষ্টা কুর্ট ভেস্টারগার্ড জার্মানিতে এক পুরস্কারে ভূষিত হলেন৷

default

ম্যার্কেল’এর হাত থেকে পুরস্কার গ্রহণ করছেন ভেস্টারগার্ড

একবার হামলা সত্ত্বেও প্রাণে বেঁচে গেছেন ডেনমার্কের ৭৫ বছর বয়স্ক কার্টুনিস্ট ভেস্টারগার্ড৷ ফলে কড়া নিরাপত্তার মধ্যে জীবনযাপন করতে হয় তাঁকে৷ বুধবার পট্সডামে ‘এম ১০০' পুরস্কার নেওয়ার সময়ও তাঁকে পুলিশের পাহারায় থাকতে হয়েছে৷ জার্মান চ্যান্সেলার আঙ্গেলা ম্যার্কেল স্বয়ং উপস্থিত ছিলেন সেই অনুষ্ঠানে৷ ধর্মীয় মৌলবাদীদের চোখ রাঙানি সত্ত্বেও সংবাদ মাধ্যমে মত প্রকাশের অধিকার রক্ষার ক্ষেত্রে তাঁর অবদানের ভূয়সী প্রশংসা করেন ম্যার্কেল৷ ম্যার্কেলের মতে, ‘‘মুক্তি বা স্বাধীনতার রহস্যই হলো সাহস৷'' ইউরোপে এই বাক স্বাধীনতার তাৎপর্য তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘‘আমরা ভেস্টারগার্ড'এর আঁকা ব্যাঙ্গচিত্র রুচিকর বলে মনে করি কি না, প্রয়োজনীয় বা সহায়ক বলে গণ্য করি কি না – তার সঙ্গে মত প্রকাশের অধিকারের কোনো সম্পর্ক নেই৷ একই ভাষণে তিনি অ্যামেরিকায় পবিত্র কোরআন পোড়ানোর হুমকির তীব্র সমালোচনা করেন৷ সেইসঙ্গে সহিষ্ণুতার পাশাপাশি তিনি দায়িত্বজ্ঞানের বিষয়টির প্রতিও মনোযোগ আকর্ষণ করেন৷

NO FLASH Karikaturist Westergaard, Merkel und Gauck in Potsdam

ইউরোপে মত প্রকাশের অধিকারের তাৎপর্য তুলে ধরেন চ্যান্সেলার ম্যার্কেল

একদিকে ধর্মীয় ভাবাবেগ ও সংবেদনশীলতা – অন্যদিকে মত প্রকাশের স্বাধীনতা৷ গণতান্ত্রিক সমাজে এই দুইয়ের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখা মোটেই সহজ কাজ নয়৷ মত প্রকাশের অধিকারের কোনো সীমা থাকা উচিত কি না, তা নিয়েও বিতর্কের শেষ নেই৷ যেমন জার্মানির রাজনীতিক টিলো সারাৎসিন মুসলিম ও ইহুদিদের সম্পর্কে সম্প্রতি যেসব মন্তব্য করেছেন, তাকে ঘিরে এই মুহূর্তে প্রবল বিতর্ক চলছে৷ চ্যান্সেলার আঙ্গেলা ম্যার্কেল সহ রাজনীতি জগতের একটা বড় অংশ সারাৎসিন'এর অবস্থানের তুমুল সমালোচনা করে চলেছেন৷ ‘মুসলিম অভিবাসীরা জার্মান সমাজে সম্পৃক্ত হতে পারে না' অথবা ‘জিনগত কারণে ইহুদিরা বাকিদের থেকে ভিন্ন' – এমন সব দাবির কারণে সারাৎসিন কোণঠাসা হয়ে পড়েছেন৷ তবে হ্যাঁ, অপ্রিয় হলেও তাঁর মত প্রকাশের অধিকার সম্পর্কে ঐক্যমত রয়েছে৷

জার্মানিতে ভেস্টারগার্ড'কে যেভাবে এমন যে সময়ে পুরস্কৃত করা হলো, তার বিরুদ্ধেও সমালোচনার ঝড় উঠেছে৷ জার্মানির কেন্দ্রীয় মুসলিম সংগঠনের সাধারণ সভাপতি আইমান মাজইয়েক বলেন, ম্যার্কেল এমন এক কার্টুনিস্টকে সম্মান দিচ্ছেন, যিনি মহানবীকে ‘পায়ের নিচে পিষ্ট করেছেন'৷ সংগঠনের প্রধান আক্সেল আয়ূব ক্যোলার বলেন, এর মাধ্যমে ‘আগুনে আরও ঘী ঢালা' হচ্ছে৷ তাঁরা দু'জনেই বিশেষ করে ভেস্টারগার্ড'কে পুরস্কার দেওয়ার জন্য ঠিক এই সময়টি বেছে নেওয়ারও সমালোচনা করেন৷ তাঁদের মতে, টিলো সারাৎসিনের বিস্ফোরক মন্তব্যের কারণে পরিবেশ এমনিতেই বিষিয়ে রয়েছে৷ সেখানে আরও নতুন প্ররোচনার প্রয়োজন ছিল না৷ জার্মানিতে তুর্কি সমাজের নেতা কেনান কোলাত পবিত্র রমজান মাসে এমন এক পুরস্কার প্রদানের সিদ্ধান্তেরও সমালোচনা করেছেন৷

প্রতিবেদন: সঞ্জীব বর্মন
সম্পাদনা: সুপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়

ইন্টারনেট লিংক