1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

সমাজ সংস্কৃতি

জার্মানিতে পথে থাকে ত্রিশ হাজার গৃহহীন মানুষ

ইউরোপের অন্যতম শক্তিশালী অর্থনীতির দেশ জার্মানিকে কোনো কোনো দেশ হয়তো ঈর্ষার চোখে দেখতে পারে, মূলত দেশটির সামাজিক নিরাপত্তার বিভিন্ন কর্মসূচির কারণে৷ কিন্তু এই দেশে এখনো অন্তত ৩০ হাজার মানুষের থাকার কোনো জায়গা নেই৷

default

কোলনের মূল ডোমের কাছের জায়গাটিকে বলা হয় ‘বাড়ি হারাদের বাড়ি'৷

এ এক অন্য রকম জায়গা৷ সেখানে সাধারণত কেউ থাকেন না৷ থাকেন শুধু এমন মানুষেরা, যাঁদের নেই কোনো থাকার জায়গা, নেই খাবারের ব্যবস্থা করার মতো পর্যাপ্ত অর্থ৷ কেউ কেউ বলে তাঁরা ভবঘুরে, কেউ বলে অলস৷ এরা কিন্তু নিজেদের কোনো গোত্রে ফেলতে রাজি নন৷ তাঁরা বলেন, ‘‘আমাদের কাজ দিন, থাকবার জায়গা দিন, আমরা রাস্তায় থাকবো না৷''

পল বসে ছিলেন কোলন শহরের রাইন নদী ঘেষা একটি জায়গায়৷ নদী যেভাবে বয়ে চলে, ঠিক একই ভাবে বয়ে গেছে পলের জীবন৷ হাঙ্গেরিতে একজন ট্রাক ড্রাইভার হিসাবে কাজ করতেন তিনি৷ ভাগ্যের নির্মমতা তাঁকে প্রথমে টেনে নিয়ে যায় অস্টিয়া এরপর স্পেন এবং ডেনমার্কে৷ কিন্তু কোথাও কোন ভালো কিছু করতে পারেন নি তিনি৷ তারপর চলে এলেন জার্মানিতে৷ না, এখানেও ভাগ্য খুললো না তাঁর৷ আশ্রয় নিলেন কোলন শহরের এক জায়গায়৷ রাইন নদীর তীর ঘেষা আর কোলনের মূল ডোমের কাছে ঐ জায়গাটিকে বলা হয় ‘বাড়ি হারাদের বাড়ি'৷ না আদতে তাঁরা কোন বাড়িতে থাকেন না৷ তাই রাস্তাকেই বাড়ি হিসাবে ভাবতে শুরু করেন তাঁরা৷

Kölner Dom bei Nacht

নদী ঘেষা এই জায়গায় কাজ করছে ‘ওয়াসে' স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন

পলের কথায়, ‘‘সত্যিই এক দীর্ঘ খারাপ সময় চলছে আমার৷ কী করবো আমি, ভেবে পাই না৷ সময় চলে যাচ্ছে৷ প্রতি দিন বাঁচার জন্য নতুন নতুন অভিজ্ঞতা নিতে হচ্ছে৷ এই ধরণের অভিজ্ঞতা এক দুই দিন নিলে কোন ক্ষতি নেই৷ কিন্তু দিনের পর দিন সত্যিই অন্যরকম৷''

সিগারেটের ধোঁয়ার কটু গন্ধ আর গাট্টি বোঁচকা নিয়ে কুকুরকে নিয়ে বসে আছেন কেউ কেউ৷ সেখানেই কথা হলো ডানিয়েলের সঙ্গে৷ বছর বিশেক বয়স তাঁর৷ ডানিয়েল'এর নিজের কথায়, ‘‘আমাদের দেখলেই অনেকে ভ্রু কুঞ্চিত করে৷ ভাবে প্রতিটি গৃহহীন মানুষ, আর আমরা এক একজন ভিক্ষুক৷ আমাদের একটি ময়লা ব্যাগ থাকবে, গায়ে চাপানো থাকবে আধ ময়লা কোট৷ একটি পয়সার জন্যও যে আমরা হাত পাতি৷ কিন্তু তারা ফিরে চায় না৷ তারা কী জানে না, আমরাও মানুষ ?''

পল আর ডানিয়েলরা যে জায়গায় থাকেন সেখানে একটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের কয়েকজন তরুণ কর্মী কাজ করছেন৷ এই সংগঠনের নাম ‘ওয়াসে'৷ নদী ঘেষা ঐ জায়গাটির নামে হয়েছে এই নাম৷ খোলা জায়গায় সেখানে রয়েছে অনেকে অনেক তাঁবু৷ খোলা ঐ প্রান্তরটিতে চলছে মূলত নির্মান কাজ৷ সেখানেই তাঁদের দেখভাল করছেন ওয়াসের সঙ্গে জড়িত মাত্র ২০ জন স্বেচ্ছাসেবী৷

এরাই এখানে আসা মানুষদের নানা ধরণের সহযোগিতা দিচ্ছে৷ যেমন বললেন এই সংগঠনের অন্যতম একজন সাবিনা রোথার৷ তিনি জানান, ‘‘আমাদের এখানে যাঁরা আসেন, সেই গৃহহীন মানুষরা নানা প্রশ্ন করেন৷ এই যেমন, তাঁরা কোথায় ঘুমাবে, কোন জায়গা থেকে তাঁরা সরকারি বা সামাজিক সুযোগ-সুবিধাগুলি পেতে পারেন ইত্যাদি৷ অনেকে এখানে আসেন শুধুমাত্র আড্ডা মারতে৷ তাঁরা আসেন একটু পানীয় পানের জন্য, মন খুলে কথা বলার জন্য৷ এমনকি বিকেলে বই বা অন্য কিছু পড়ার জন্য, কিংবা দুপুরে স্বল্প মূল্যে খাবারের জন্যও আসেন তাঁরা৷''

খাবারের ব্যাপারটা যখন আসলোই তখন জানিয়ে রাখা ভালো, ঐ সংগঠন এসব মানুষদের জন্য ৫০ সেন্ট বা এক ইউরোর বিনিময়ে খাবারের ব্যবস্থা করেছে৷ সেই খোলা প্রান্তরেই হয় রান্না-বান্না৷ সপ্তাহে তিন দিন এই কাজের দায়িত্ব সিফেনের৷ তাঁর কথায়, ‘‘আমিও এক সময় ছিলাম গৃহহীন৷ রাস্তায় থাকতাম৷ তাই আমি জানি তাঁদের কী দুঃখ৷ তাঁদের সমস্যার কথা আমি জানি৷ রাস্তায় থাকাটা একটি মানুষের জন্য যে কতোটা কষ্টকর, তা ভুক্তভোগী ছাড়া অন্য কে বুঝবে ! অনেক কষ্ট তাঁদের৷ বিশেষ করে শীতের সময়ে৷ আমি এখানে কাজ করার ফলে তাঁদেরকে বুঝতে পেরেছি৷ আমি সকলের সাথে বেশ মজা করি, তাঁদের সঙ্গে আমার আড্ডাও জমে বেশ৷''

প্রসঙ্গত, কোলন শহরের সামাজিক নিরাপত্তা কর্মকর্তারা জানাচ্ছেন যে, তাঁরা এই গৃহহীন মানুষদের সরকারি নিয়ম অনুসারে সুবিধাদী দিচ্ছেন৷ কর্মহীন মানুষকে আবাস দিতে, কাজ দিতে চেষ্টা চালিয়েও যাচ্ছেন তাঁরা৷

প্রতিবেদন: সাগর সরওয়ার

সম্পাদনা: দেবারতি গুহ

সংশ্লিষ্ট বিষয়