1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

জার্মানি ইউরোপ

জার্মানিতে নির্বাচন: পোস্টার পড়তে শুরু করেছে

জার্মানরা শৃঙ্খলা বোঝে৷ নির্বাচনে দেয়াললিখনের ব্যাপার নেই৷ ছোট-বড় পোস্টার ছাপাও আর নির্দ্দিষ্ট জায়গায় আঁটো৷ ভোট শেষ হবার পরদিনই সেগুলোকে নামিয়ে নিতে হবে, সে-ও নিয়ম করে বলে দেওয়া আছে৷

স্টারও আবার যেমন-তেমন হলে চলবে না: বড় বড় অ্যাডভার্টাইজিং এজেন্সিকে দিয়ে তৈরি করানো সব পোস্টার৷ তার যেমন ছবি, তেমন ক্যাপশন: উর্বর, পেশাদারি মস্তিষ্কপ্রসূত৷ কিন্তু প্রশ্ন হলো: আজকের যুগে পোস্টার সেঁটে নির্বাচনী প্রচারণাকে সময়োপযোগী বলা চলে কিনা৷

সেপ্টেম্বরে নির্বাচন৷ বলতে কি, নির্বাচনী প্রচার এখনও ঠিকমতো শুরু হয়নি৷ তারই মধ্যে এসপিডি দল এক সমস্যার সম্মুখীন: তাদের নির্বাচনী পোস্টারগুলোর কাগজ কি কালিতে কোনো ভুল ছিল, তাই বৃষ্টিতে রং ধুয়ে সেগুলোর বিতিকিচ্ছিরি অবস্থা হয়েছে৷ শেষমেষ পয়সা খরচ করে সেই সব পোস্টার সরাতে হয়েছে৷

নয়ত নির্বাচনের ছ'সপ্তাহ আগে প্রায় সব দলই তাদের এবারকার নির্বাচনী পোস্টারগুলো জন – এবং মিডিয়ার সমক্ষে পেশ করেছে৷ নির্বাচনের ঠিক দু'মাস বাকি থাকতে সেগুলো প্রকাশ্য স্থানে সাঁটার অনুমতি৷ কাজেই সব দেয়াল অথবা স্ট্যান্ড থেকেই নির্বাচনপ্রার্থী রাজনীতিকদের সহাস্য বদন আপামর জনতাকে অভিবাদন জানাচ্ছে৷ কোনো কোনো শহরের অবস্থা যেন বহু টিকিট লাগানো খামের মতো৷ তবে জার্মান নির্বাচনে এই পোস্টারগুলোর যে আজও একটা ভূমিকা আছে, তা নিয়ে বিশেষজ্ঞদের মধ্যেও দ্বিমত নেই৷

Bundestagswahlen 2013 Wahlplakat CDU

মানুষের মনোযোগ আকর্ষণ করতে পোস্টারের জুড়ি নেই

সস্তার বিজ্ঞাপন, অথচ সকলেরই চোখে পড়ে

বড় বড় শহরে অতি কম সময়ের মধ্যে লক্ষ লক্ষ মানুষের মনোযোগ আকর্ষণ করতে পোস্টারের জুড়ি নেই, বলেন বিশেষজ্ঞরা৷ ওদিকে পৌর কর্তৃপক্ষ শুধুমাত্র নির্বাচনী প্রচারের জন্য আলাদা করে বিলবোর্ডের ব্যবস্থা করে থাকেন, কাজেই বিলবোর্ড ভাড়া করার খরচও নেই৷ তা না হলে পোস্টার লাগানো সংক্রান্ত বিশেষ আইন-কানুন, বিধিনিষেধ নেই৷ এমনভাবে পোস্টার লাগানো চলবে না যে যানচলাচলের ব্যাঘাত ঘটে৷ আর জার্মানিতে গাছগাছালির উপর ফেস্টুন ঝোলানোরও কোনো রীতি নেই৷ কোন দল কতটা জায়গা পাবে, তা নিয়ে ভাবনা-চিন্তা করা হয়নি, কেননা তার কোনো প্রয়োজন পড়েনি৷ পোস্টার সাঁটার ভালো জায়গাগুলো যে দল আগে দখল করতে পারবে, তাদের৷

হালের নির্বাচনী প্রচার অভিযান টেলিভিশন কিংবা অনলাইন ছাড়া সম্ভব নয়৷ কিন্তু রাস্তা বা গলির মোড়ের কি রাজপথের রাউন্ড্যাবাউটের নির্বাচনী পোস্টার চিরন্তনী, তার চেয়ে সস্তার আর কোনো পথ কিংবা পন্থা নেই৷ তাই জার্মানির হালফ্যাশনের পাইরেটস দল, যারা নাকি ইন্টারনেটে বিশ্বাসী, তাদেরও নির্বাচনী বাজেটের এক-তৃতীয়াংশ যাচ্ছে পোস্টার ছাপাতে৷

জার্মান নির্বাচনী পোস্টারগুলো সাবধানি, ভদ্র, রঙচঙে – কিন্তু বেশি রঙচঙে নয়৷ সামান্য ব্যঙ্গ-রসিকতা চলতে পারে, কিন্তু বাড়াবাড়ি করলে চলবে না৷ প্রার্থীদের ছবি দেখানো চলবে, কিন্তু সে ছবি সাম্প্রতিক ও বাস্তবসম্মত হতে হবে৷ টাচিং করে বয়স কমানো, কন্দর্পকান্তি অথবা হুরীপরী করে তোলার প্রথা জার্মানিতে নেই৷

বিজ্ঞাপন জগতের এক পণ্ডিত নাকি একবার বলেছিলেন: নির্বাচন বাদ দিলে, এভাবে দাঁতের মাজন বেচাও অসম্ভব৷ বাণিজ্যের সঙ্গে রাজনীতির বোধহয় সেখানেই তফাৎ৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়