1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

আলাপ

জার্মানিতে ড্রাগস এখনও একটা বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়ায়নি

ক্রনিক মাথাধরার মতো সমস্যাটা চিরকালই ছিল, এখনও আছে৷ ‘ড্রাগ ওয়ার' নেই; আছে ‘ড্রাগ প্রিভেনশনের' প্রচেষ্টা ও পুলিশি কড়াকড়ি৷ সব সত্ত্বেও ‘ড্রাগ সিন' আছে, বিশেষ করে বড় শহরগুলোতে৷

‘ড্রাগস' বা ‘মাদক' হলো আধুনিক, শহুরে পশ্চিমি সভ্যতার একটা অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ – দেখলে তাই মনে হবে৷ ইন্টারনেটে জার্মানির ড্রাগ সিন নিয়ে প্রশ্ন দিলেই নানা ‘শুভানুধ্যায়ীরা' সঙ্গে সঙ্গে জানিয়ে দেন, কোন শহরে, কোথায় কি ধরনের ড্রাগস পাওয়া যায় অথবা যায় না৷ কেউ হয়ত লিখলেন, ‘ইলেকট্রনিক মিউজিক ক্রাউডে' খোঁজখবর করে দেখো৷ এক বিশ্বনিন্দুক লিখলেন, যেখানে ছাত্র, সেখানেই তো ড্রাগস৷ আরেক মহাত্মা লিখলেন, ক্যানাবিস এখানে সর্বত্র, তবে মানুষজন ‘সাইকেডেলিক্স' সম্পর্কে সন্দিগ্ন, তারা ‘কেমিক্যাল ড্রাগস' পছন্দ করেন না, ‘স্পিড'-এর মতো স্টিমিউল্যান্টের খুব চল, ইত্যাদি৷ ‘কোকেন' নাকি বিশেষ চালু নয়, এক বিজনেস এগজিকিউটিভ আর ম্যানেজার গোত্রীয় কিছু মক্কেল ছাড়া৷

বলতে কি, জার্মানির ড্রাগস পলিসি বেশ উদার হলেও, নেদারল্যান্ডসের চেয়ে বেশি কড়া বলে মনে করা হয়৷ ১৯৯৪ সালেই ফেডারাল সাংবিধানিক আদালত রায় দেন যে, ড্রাগ অ্যাডিকশন বা মাদকাসক্তি কোনো অপরাধ নয়, যেমন ব্যক্তিগত ব্যবহারের জন্য স্বল্প পরিমাণ ড্রাগস নিজের কাছে রাখাটাও কোনো অপরাধ নয়৷ জার্মানির নার্কোটিক আইনকে বলে – তার আদ্যক্ষর অনুযায়ী – বিটিএমজি৷ ২০০০ সালে এই বিটিএমজি সংশোধন করে সুপারভাইজড ড্রাগ ইনজেকশন রুম, অর্থাৎ সরকারি তত্ত্বাবধানে ড্রাগস নেওয়ার ঘরের ব্যবস্থা করা হয়৷ ২০০৯ সালে হেরোইন আসক্তদের মেথাডন দেওয়ার মতো সরকারি তত্ত্বাবধানে হেরোইন দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয় – যার খরচ বহন করবে সংশ্লিষ্ট মাদকাসক্তের স্বাস্থ্য বীমা৷

অরুণ শঙ্কর চৌধুরীর ছবি

অরুণ শঙ্কর চৌধুরী, ডয়চে ভেলে

‘কোনো বড় ইস্যু নয়'

ড্রাগস আর জার্মানিতে কোনো বড় ইস্যু নয়, যদিও বেআইনি ড্রাগসের বিরুদ্ধে সংগ্রামে রাষ্ট্র ও সরকার প্রতিবছর আনুমানিক সাড়ে তিন থেকে সাড়ে চার বিলিয়ন ইউরো ব্যয় করে থাকেন৷ তাতে যে বিশেষ ফললাভ হয়েছে, এমন নয়৷ ‘উইড', ‘এক্সস্ট্যাসি' সর্বত্র পাওয়া যায়, বলে শোনা যায়৷ ‘এলএসডি' পাওয়া ততটা সহজ নয়৷ রাস্তায় কেনা অ্যাম্ফেটামাইনের কোয়ালিটি বিশেষ ভালো নয়৷ ‘মেথ' বিশেষ পাওয়া যায় না, তবে ক্র্যাক পাওয়ার চান্স মন্দ নয় – এ সবই হল ইন্টারনেট জ্ঞানদাতাদের জার্মান ড্রাগ সিন সম্পর্কে লিখিত মন্তব্যের সংক্ষিপ্তসার৷

আসল মুশকিল হলো, হিপি আমলে অর্থাৎ ষাটের দশকে ‘ক্যানাবিস' সেবন মাত্রাধিক বেড়ে যাওয়ার পর ১৯৭২ সালে যে আইন প্রণয়ন করা হয়, তার মূলমন্ত্র ছিল দমননীতি, যা আদৌ কাজ করেনি৷ এমনকি নব্বই-এর দশকের গোড়ায় নিজের কাছে ক্যানাবিস রাখা সংক্রান্ত আইনটিকে কিছুটা শিথিল করা হয় – বিশেষ করে সবুজ দলের চাপে৷ কিন্তু নতুন সহস্রাব্দে এখন বছরে প্রায় ৮০ থেকে ৯০টি নতুন ধরনের ড্রাগস প্রতিবছর বাজারে আসছে, সেই সঙ্গে যুক্ত হয়েছে নানা হালফ্যাশনের প্রবণতা, যার একটি দৃষ্টান্ত হলো ‘টোড লিকিং' বা ব্যাঙ চাটা৷

দক্ষিণ অ্যামেরিকার এই চ্যাপটা উভয়চরটিকে অনলাইনেই পাওয়া যায়৷ ব্যাঙটিকে টিপলে, তার গ্ল্যান্ড মানে লালাগ্রন্থি থেকে এক ধরনের ‘সাইকোঅ্যাকটিভ' পদার্থ নিঃসৃত হয়৷ তরুণ-তরুণীরা পার্টিতে এই ব্যাঙকে হাত থেকে হাতে হস্তান্তর করেন ও চাটেন – তাতে নাকি নেশা হয়৷ কাজেই এক হিসেবে বলতে গেলে, সরকার আর পুলিশ যতই তৎপর হোন না কেন, নেশাখোররা নেশা করার কোনো না কোনো পন্থা খুঁজে বার করবেনই৷

উদারপন্থি নেদারল্যান্ডস, যেখানে মারিজুয়ানার নিয়ন্ত্রিত ব্যবহার বহুলাংশে অপরাধমুক্ত করা হয়েছে, সেখানেও ২০০৮ সাল যাবৎ একাধিক পৌরপরিষদ তথাকথিত কফি শপ-গুলি বন্ধ করার নির্দেশ দিয়েছেন৷ তাহলে সমাধান? আপনারাই বলুন৷

অরুণ শঙ্কর চৌধুরীর লেখা আপনাদের কেমন লাগলো? জানান আমাদের, লিখুন মন্তব্যের ঘরে৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়