1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

ব্লগ

জার্মানিতে ট্রাফিক আইন মানতে যেভাবে বাধ্য করা হয়

গাড়ি চালানোর কথা উঠলে অনেকে বলেন, ‘‘জার্মানির মহাসড়কে কোনো নির্দিষ্ট গতিসীমা নেই৷ যেভাবে খুশি গাড়ি চালানো যায়৷'' এ কথা আংশিক সত্য৷ মহাসড়কের অনেক জায়গায় গতিসীমা নেই৷ তবে অন্যত্র আছে কড়া নিয়ম, যা না মানলে কঠোর জরিমানা৷

জার্মানিতে গাড়ি চালানো আনন্দের ব্যাপার৷ বিশেষ করে জার্মান ভাষায় ‘অটোবান' হিসেবে পরিচিত মহাসড়কগুলো অত্যন্ত মসৃণ এবং মজবুতভাবে তৈরি৷ হাজার হাজার কিলোমিটার পথ একইভাবে, একই ডিজাইনে তৈরি করা হয়েছে যেগুলো জনবসতি এবং বড় শহরের বাইরে থেকে চলে গেছে৷ হঠাৎ কোথাও ভাঙা রাস্তায় চাকা আটকে যেতে পারে এমন শঙ্কা নিয়ে গাড়ি চালাতে হয় না এদেশে৷ কিংবা নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে বেপরোয়া গাড়ি চালানো জার্মান চালকও খুব একটা নেই৷ মোটের উপর মহাসড়কে সাইকেল কিংবা পায়ে হেঁটে মানুষের চলাচল নিষিদ্ধ৷ তাই নিয়মকানুন জানা থাকলে, মহাসড়কে দ্রুত গতিতেও গাড়ি চালানো যায় নিরাপদে৷ আর দুর্ঘটনায় প্রাণহানীও আমাদের দেশের তুলনায় অনেক কম৷

জার্মানিতে ট্রাফিক আইন মানতে চালকদের বাধ্য করতে কয়েকটি কড়া উদ্যোগ রয়েছে৷ চলুন জেনে নেয়া যাক সেগুলো:

প্রথমত, জার্মানিতে গাড়ি চালানোর লাইসেন্স পেতে কঠিন এক পরীক্ষায় অবতীর্ন হতে হবে৷ তাত্ত্বিক পরীক্ষায় মোট নম্বরের চেয়ে পাঁচ নম্বর কম পেলেই ফেল হিসেবে বিবেচনা করা হয়৷ আর ব্যবহারিক পরীক্ষা দেয়ার আগে অন্তত ৩২ ঘণ্টার বেশি একজন প্রফেশনাল প্রশিক্ষকের কাছ থেকে গাড়ি চালানোর প্রশিক্ষণ গ্রহণ করতে হয়৷ এরপর একজন পরীক্ষকসহ আধাঘণ্টার মতো গাড়ি চালানোর পরীক্ষা হয়৷ এতে ফেল করা বেশ সহজ৷ পরীক্ষকের সামনে বড় কোন ভুল করলে বা ছোট ছোট কয়েকটি ভুল করলে ব্যবহারিক পরীক্ষায় ফেল হিসেবে বিবেচিত হন একজন পরীক্ষার্থী৷ আর তাত্ত্বিকে পাশ না করে ব্যবহারিক পরীক্ষা দেয়া যায় না৷ গাড়ির লাইসেন্স পাওয়ার এই কঠিন প্রক্রিয়া পাশ করে যখন একজন গাড়ি চালানো শুরু করেন তারপক্ষে নিয়মকানুন ভুলে যাওয়া বা স্বাভাবিক অবস্থায় এলোপাথাড়ি গাড়ি চালানো কঠিন৷

দ্বিতীয়ত, জার্মানির রাস্তাঘাটে রয়েছে অসংখ্য স্পিডক্যামেরা৷ কিছু ক্যামেরা আবার মোবাইল, অর্থাৎ হঠাৎ করে কোনো এক রাস্তায় বসিয়ে দেয়া হয়৷ এ সব ক্যামেরার কাজ হচ্ছে আপনি সেই রাস্তায় নির্ধারিত গতির চেয়ে বেশি গতিতে গাড়ি চালালে আপনার চেহারা এবং গাড়ির নম্বর প্লেটের ছবি তুলে ফেলা৷ এরপর আপনার ঠিকানায় চলে যাবে বিল৷ গাড়ির গতি নির্ধারিত গতির যত বেশি হবে জরিমানার হার ততই বেশি৷ নির্ধারিত সীমার বেশি হলে অনেক সময় লাইসেন্স নির্দিষ্ট সময়ের জন্য বাতিল এমনকি চালক মানসিকভাবে সুস্থ কিনা সে পরীক্ষাও করা হতে পারে৷

আরাফাতুল ইসলাম

আরাফাতুল ইসলাম, ডয়চে ভেলে

তৃতীয়ত, জার্মানিতে পুলিশ হঠাৎ হঠাৎ চালক মদ্যপান করেছেন কিনা তা যাচাইয়ের জন্য চৌকি বসায়৷ পরিমিতমাত্রার চেয়ে বেশি এলকোহল পান করে গাড়ি চালানো গুরুতর অপরাধ৷ এই অপরাধ লাইসেন্স হারাতে পারেন একজন চালাক৷ পাশাপাশি আর্থিক জরিমানাতো রয়েছেই৷ মোটের উপর মদ্যপ অবস্থায় একজন গাড়ি চালালে তার দোষ ছাড়া দুর্ঘটনা ঘটলেও তাকে দোষী করা হয়৷

চতুর্থত, গাড়ি চালানোর ক্ষেত্রে সিটবেল্ট না বাধা এবং গাড়ি চালানোর সময় মোবাইল ব্যবহারের মতো বিষয়গুলো নজরদারিতে রাখা হয় দুর্ঘটনা এড়াতে৷ পাশাপাশি জার্মান মহাসড়কে বিভিন্ন দুর্ঘটনা প্রতিরোধক প্রচারণাও চালানো হয়৷ সবমিলিয়ে নিয়মনীতির দিক থেকে দুর্ঘটনা এড়ানোর সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হয়৷ আর তারপর দুর্ঘটনা ঘটলে দোষীদের জার্মান আইনে উপযুক্ত শাস্তি নিশ্চিত করা হয়৷ এক্ষেত্রে পালিয়ে বাঁচার সুযোগ তেমন নেই৷

আমার মনে হয়, জার্মানির মতো বাংলাদেশেও গাড়ি চালানোর লাইসেন্স দেয়ারক্ষেত্রে কড়াকড়ি আরোপ এবং স্বচ্ছতার সঙ্গে পরীক্ষার মাধ্যমে উপযুক্ত ব্যক্তিকে গাড়ির লাইসেন্স দেয়া হলে দুর্ঘটনা কমানো সম্ভব হবে৷ পাশাপাশি চালু করা যেতে পারে উপরে উল্লেখিত অন্যান্য বিষয়ও৷ প্রশ্ন হচ্ছে, বাংলাদেশ সরকার কি এ সব করার ক্ষমতা রাখে?

এ বিষয়ে আপনি কী ভাবছেন? মন্তব্য লিখুন নীচের ঘরে৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়