1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

সমাজ সংস্কৃতি

জার্মানিতে ‘জিহাদি পর্যটক’ দমনে বিশেষ আইনকানুন

জিহাদ বা ‘পবিত্র যুদ্ধে’ যোগ দিতে বিদেশে পাড়ি দিচ্ছেন জার্মান মুসলিমরাও৷ সিডিইউ-এর রাজনীতিকরা এই ‘জিহাদ পর্যটকদের’ জন্য কঠোর আইন প্রণয়নের দাবি জানাচ্ছেন৷ অবশ্য বিরোধী দল বলছে, এটা ‘সস্তা জনপ্রিয়তা’ অর্জনের প্রচেষ্টা৷

‘‘পরকালই সত্যিকারের ইমানদারদের জন্য প্রকৃত বাসস্থান''

ফিলিপ বি, ফেসবুকে এইভাবেই তাঁর মনের কথা লিখেছেন৷ কালাশনিকোভ রাইফেলের বেশ কিছু ছবিও প্রকাশ করা হয়েছে তাঁর সাইটে৷ নিজেকে ‘আল্লাহর দাস' উল্লেখ করেছেন তিনি৷

আগে পিৎসা সরবরাহ করতেন ফিলিপ৷ জার্মানির ডিনসলাকেন থেকে সিরিয়ার জিহাদে যোগ দেওয়ার পর নিজেকে এখন আবু ওসামা নামে পরিচয় দেন তিনি৷ জার্মান পাসপোর্টধারী একজন জিহাদি৷ ‘‘বিদেশি বংশোদ্ভূতদের ক্ষেত্রে আমাদের দেশের নাগরিকত্ব আবার বাতিল করা যায় কিনা সে ব্যাপারে চিন্তা-ভাবনা করা উচিত৷'' বলেন খ্রিষ্টীয় গণতান্ত্রিক দল সিডিইউ-এর উপপ্রধান টোমাস স্ট্রোবল৷

Salafisten Deutschland

জার্মানিতে সক্রিয় সালাফি (ফাইল ফটো)

বর্তমান আইনে সম্ভব নয়

অন্যদিকে ‘‘কট্টর জিহাদিদের নাগরিকত্ব বাতিল করা বর্তমান আইন অনুযায়ী সম্ভব নয়৷'' বলেন ক্রিমিনাল আইন বিশেষজ্ঞ কাট্রিন গিয়ারহাকে৷

হেসেন রাজ্যের আইন মন্ত্রী সিডিইউ-এর এফা ক্যুনে-হ্যোরমানের মতে, ‘‘আমরা তরুণদের সশস্ত্র সংগ্রামে যোগ দিতে যেতে দিতে পারি না৷''

আইন বিশেষজ্ঞ গিয়ারহাকে বলেন, জার্মানিকে চিন্তা-ভাবনা করতে হবে, জিহাদিদের ব্যাপারে আইনত কী ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া যায়৷ বাস্তব ঘটনা হলো, ফিলিপ ও বার্লিনের ব়্যাপার ‘ডেসো ডগ'-এর মতো ইসলামিস্টরা কোনো বাধা ছাড়াই কট্টরপন্থার দিকে ঝুঁকছেন, জিহাদে যোগ দিচ্ছেন৷ ইন্টারনেটে তাঁদের পথ অনুসরণ করার জন্য জার্মান ভাষায় মানুষকে আহ্বান জানাচ্ছেন৷

নজরদারিতে জিহাদি পর্যটকরা

ধারণা করা হয়, বর্তমানে সিরিয়ায় ৩২০ জনের মতো জার্মান জিহাদি যুদ্ধ করছেন৷ তাঁরা ফিরে এসে সহিংসতায় প্রস্তুত ৪৩,০০০ ইসলামিস্টের সঙ্গে যোগাযোগ করবেন৷ মনে করে সংবিধান সুরক্ষা দপ্তর৷

এখন পর্যন্ত বড় রকমের কোনো সন্ত্রাসী হামলা জার্মানিতে হয়নি৷ কিন্তু জার্মান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দে মেজিয়ের‘মারাত্মক বিপদের সম্ভাবনা' দেখছেন৷ ব্রাসেলস-এ ইহুদি মিউজিয়ামে হামলা সম্ভাবনাকে আরো কাছে এনে দিয়েছে৷ হামলাকারী ফরাসি পাসপোর্টধারী সিরিয়া-যুদ্ধ ফেরত এক ব্যক্তি৷ ফিলিপ বি-এর মতো জিহাদ পর্যটকরা স্বদেশ জার্মানিতেও এই ধরনের হামলা চালাতে পারেন বলে উদ্বেগ বেড়ে যাচ্ছে সাধারণের মনে৷

সবুজ দলের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা বিষয়ক মুখপাত্র ইরেনে মিহালিক বলেন, ‘‘ক্রিমিনাল আইনই এক্ষেত্রে যথেষ্ট৷ সন্ত্রাসের ঝুঁকি মোকাবেলা এবং এ ব্যাপারে তদন্তের জন্য আমাদের নিরাপত্তা কর্তৃপক্ষকে সচেষ্ট হতে হবে৷ আইনকে সুষ্ঠুভাবে প্রয়োগ করতে হবে৷''

সম্ভাব্য সন্ত্রাসী হামলা প্রতিহত করার জন্য একটি আইন রয়েছে, যা ‘সন্ত্রাস দমন আইন' বলে পরিচিত৷ জিহাদ ফেরত কট্টরপন্থিদের বিশেষ নজরদারিতে রাখার কথা বলা হয়েছে এই আইনে৷

তবে ২০০৯ থেকে চালু এই আইনটির ৮৯-এ ধারা নিয়ে সমালোচনাও শোনা যায়৷ আইন বিশেষজ্ঞ কাট্রিন গিয়ারহাকে বলেন, এতে অপরাধ ঘটানোর প্রস্তুতিপর্বেই কাউকে আইনভঙ্গকারী হিসাবে বিবেচনা করা হয়৷ কিন্তু অপরাধ আইনে প্রতিরোধের স্থান নেই৷ কেউ কোনো অপরাধকর্ম করলেই কেবল অপরাধী বলে গণ্য হবে৷

বিশেষজ্ঞরা একমত নন

কিন্তু এখানে প্রশ্ন জাগে, তাহলে রাষ্ট্র তার নাগরিকদের আত্মঘাতী হামলাকারীদের হাত থেকে কীভাবে রক্ষা করবে? এক্ষেত্রে বিশেষজ্ঞরা একমত নন৷ কাট্রিন গিয়ারহাকে মনে করেন, অপরাধ আইনের বাইরে নতুন ধরনের প্রতিরোধ আইনের প্রবর্তন করা উচিত৷ তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, কেউ সিরিয়া থেকে ফিরে এলে কিংবা জিহাদের ব্যাপারে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করলেই আইন আনুযায়ী তাকে সন্দেহ করা যায় না৷

ISIS Kämpfer Militärparade in Syrien 30.06.2014

বর্তমানে সিরিয়ায় ৩২০ জনের মতো জার্মান জিহাদি যুদ্ধ করছেন (ফাইল ফটো)

গিয়ারহাকের প্রস্তাব: একটি প্রতিরোধ-নীতিমালার প্রবর্তন৷ যা পর্যায়ক্রমে চলতে পারে৷ প্রথমে সন্দেহজনক গতিবিধি লক্ষ্য রাখতে হবে৷ যেমন কোনো ব্যক্তি যদি ঘৃণা বা হিংসাত্মক বাণী প্রচারণাকারীর সংস্পর্শে থাকে৷ হামলা-পরিকল্পনার স্পষ্ট আভাস পাওয়া গেলে পরবর্তী ধাপে তার গতিবিধি সীমিত করা যেতে পারে৷ সাময়িকভাবে আটকও করা যেতে পারে৷ তবে দশ বছর নয় দুই এক বছরের জন্য৷

রাষ্ট্র নিরুপায়

আসল কথা হলো রাষ্ট্র এক্ষেত্রে নিরুপায়৷ ‘‘কেউ যদি গৃহযুদ্ধে অংশ নিতে চায়, তাকে তো নিষেধ করা যায় না৷'' তবে হিংসাত্মক কার্যকলাপের ইঙ্গিত পাওয়া গেলে, তা নজরে রাখা যায় এবং প্রচলিত আইনের আওতায় পদক্ষেপও নেওয়া যায়৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়