1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

আলাপ

জার্মানিতে ছোটদের মারধর প্রায় উঠে গেছে

স্কুলে শারীরিক নিপীড়ন বর্জন করা হয় ১৯৮৩ সালে৷ বাড়িতেও বাচ্চাদের গায়ে হাত তোলা পুরোপুরি নিষিদ্ধ হয়েছে ২০০০ সাল থেকে৷ আইন করেও যে প্রচলিত সামাজিক প্রথা, আচার-ব্যবহার বদলানো যায়, জার্মানি তার প্রমাণ৷

নয়ত জার্মানিতে স্কুলের মাস্টাররা এককালে বেত হাতে করেই ক্লাসে ঢুকতেন৷ বাড়িতে দুষ্টু ছেলেদের শাসনের পদ্ধতিও কিছু আলাদা ছিল না৷ কিন্তু নাৎসি আমলের দুঃস্বপ্নের পর যে নতুন গণতান্ত্রিক, প্রগতিশীল জার্মানি সৃষ্টি হয়, সেখানে আদর্শ থেকে আইনের দূরত্ব অনেক ছোট হয়ে আসে৷ আরো বড় কথা, মানুষজন সেটাকে মেনে নিয়ে নিজেদের বদলাতে শেখেন৷ অর্থাৎ আগে আইন বদলে, পরে মানুষ বদলানো৷ না, ঘটনাটা ঘটেছিল অন্যভাবে৷

স্কুলে শারীরিক দণ্ডদানের বিরুদ্ধে নিরুচ্চার থেকে সোচ্চার প্রতিবাদের ঢেউ ওঠে বিশেষ করে সত্তরের দশকে, তথাকথিত আটষট্টির প্রজন্মের আধা-হিপি জার্মানরা যখন যাবতীয় কর্তৃত্বমূলক ব্যবস্থা ও আচার-আচরণ প্রত্যাখ্যান করতে শুরু করেন৷ সেই ঢেউ গিয়ে থামে ১৯৮৩ সালে, যখন স্কুলে শারীরিক শাস্তি বর্জন করা হয়৷ শিক্ষকদের জন্য সে ধরনের শারীরিক দণ্ডদান দায়রা অপরাধ বলে ঘোষণা করা হয় তারও দশ বছর পরে, ১৯৯৩ সালে৷ বাড়িতে মারধোরের সমস্যাটা কিন্তু তখনও রয়েই গিয়েছে৷

শিক্ষকের পরে বাবা-মা

২০০০ সালে জার্মান সরকার একটি আইন প্রণয়ন করেন, যে আইনে বাড়িতে ছেলে-মেয়েদের শারীরিক দণ্ডদান নিষিদ্ধ করা হয়৷ জার্মান সিভিল কোড-এর ১৬৩১ ধারা সংশোধন করে দাঁড়ায়: ‘‘শিশুদের অহিংসভাবে প্রতিপালিত হবার অধিকার আছে৷ শারীরিক দণ্ডদান, মানসিক আঘাত বা অপরাপর অবমাননাকর পদক্ষেপ অনুমতিযোগ্য নয়৷''

এ তো গেল আইন৷ কিন্তু সেই আইনকে বাস্তবের সঙ্গে মেলানোর একটি ভালো দৃষ্টান্ত ছিল জার্মান সরকারের সামনে: সুইডেন, যারা ১৯৭৯ সালেই ছোটদের শারীরিক দণ্ডদান সংক্রান্ত আইন সংশোধন করেছিল৷ সুইডেনের দেখাদেখি জার্মান সরকারও আইনের সঙ্গে সঙ্গে একটি পূর্ণাঙ্গ গণসচেতনতা বৃদ্ধি অভিযান শুরু করেন৷ সে অভিযানের দায়িত্ব ছিল পরিবার মন্ত্রণালয়ের হাতে – তা-তে যোগ দিয়েছিল বহু সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, এনজিও এবং বিশেষজ্ঞরা৷ অভিযানের লক্ষ্য ছিল, বাবা-মায়েদের শারীরিক দণ্ডদানের কুফল সম্পর্কে অবহিত করা এবং অহিংস, ইতিবাচক অভিভাবকত্বের পন্থা প্রদর্শন করা৷

আইন প্রণয়নের বছর দুয়েকের মধ্যেই একটি গবেষণা থেকে দেখা যায় যে, সেই আইন শিশুদের শারীরিক দণ্ডদানের আইনগত বাধাবিপত্তি সম্পর্কে সচেতনতা বাড়িয়েছে; শারীরিক দণ্ডদান যে এক ধরনের সহিংসতা, সে বিষয়ে চেতনা বাড়িয়েছে; এবং শারীরিক নিপীড়ন না করে শিশুদের অন্য কি ধরনের সাজা বা শাস্তি দেওয়া যেতে পারে, সে ব্যাপারে পারিবারিক আঙ্গিকে আলাপ-আলোচনা ও তর্কাতর্কি বাড়িয়েছে! অর্থাৎ আইন প্রণয়নের মতো একটি শুকনো ঘটনা জনতার মনোভাব ও আচরণ প্রভাবিত করতে সক্ষম, যদি প্রচারণা ও গণশিক্ষামূলক অপরাপর কর্মসূচি তার সঙ্গে যুক্ত হয়৷

Deutsche Welle DW Arun Chowdhury

অরুণ শঙ্কর চৌধুরী, ডয়চে ভেলে

কাজেই ২০০৯ সালে জার্মানির তৎকালীন পরিবারমন্ত্রী উর্সুলা ফন ডেয়ার লাইয়েনকে সগর্বে ঘোষণা করতে শোনা গেছে, ‘‘শিশুদের উপর সহিংসতা আজ অতীতের ঘটনা৷ আজ আর প্রায় কোথাও শারীরিক দণ্ডদানের বিধি নেই৷'' এককালে জার্মান অভিভাবকরা তাদের কড়া শাসনের জন্য সুবিদিত ছিলেন, আজ তা পুরোপুরি বদলে গেছে – বলেন ফন ডেয়ার লাইয়েন৷

সাধারণভাবে বলা যেতে পারে: জার্মান বাবা-মায়েরা আজকাল ছেলে-মেয়েদের সঙ্গে কথা বলে তাদের আচার-আচরণ পরিবর্তন করার চেষ্টা করেন৷ তার একটা কারণ সম্ভবত এই যে, কঠোর সময়ানুবর্তিতা আর শৃঙ্খলার মতো আদি জার্মান গুণাগুণগুলির কদরও অনেকটা শিথিল হয়ে এসেছে৷

প্রিয় পাঠক, জার্মানির মতো আমরাও কি সন্তানকে না পিটিয়ে তার সঙ্গে কথা বলে তার আচরণে পরিবর্তন আনতে পারিনা? জানান নীচে মন্তব্যের ঘরে...

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়