1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

আলাপ

জার্মানিতে ‘গিমনাজিয়ুম’ মানে হাইস্কুল...

কিন্তু মিলের ওখানেই শেষ৷ যুদ্ধোত্তর জার্মানির শিক্ষাব্যবস্থা আসলে তার সমাজব্যবস্থা, তার রাজনৈতিক ব্যবস্থা ও তার অর্থনৈতিক সাফল্যের ভিত্তি৷ যে কারণে জার্মানরা বিষয়টিকে এত গুরুত্ব দেন৷

জার্মানিতে রাজনীতি অথবা রাজনৈতিক দলগুলি সম্পর্কে আলোচনা উঠলেই কোনো না কোনো পর্যায়ে যে শব্দটি এসে পড়বে, সেটি হলো ‘বিল্ডুংসপলিটিক'৷ ‘বিল্ডুং' বলতে বোঝায় শিক্ষা৷ কাজেই ‘বিল্ডুংসপলিটিক' কথাটির অর্থ দাঁড়াচ্ছে শিক্ষানীতি বা শিক্ষাসংক্রান্ত নীতি৷ লাল, কালো হলদে কিংবা সবুজ – পক্ষান্তরে সামাজিক গণতন্ত্রী, খ্রিষ্টীয় গণতন্ত্রী, উদারপন্থি কিংবা পরিবেশবাদী – সব দলেরই শিক্ষাব্যবস্থার পরিস্থিতি, পরিবর্তন, পরিশোধন বা প্রয়োজনীয় সংস্কার সম্পর্কে একটা স্পষ্ট ধারণা থাকা চাই৷

যেমন মুক্ত গণতন্ত্রী এফডিপি দল চিরকালই দাবি করে আসছে যে, তারা ‘বিল্ডুং' বা শিক্ষা ব্যাপারটা অন্যান্য দলের চেয়ে ভালো বোঝে৷ সামাজিক গণতন্ত্রীরা শ্রমিক শ্রেণির কল্যাণে ‘এলিটিস্ট', অর্থাৎ অভিজাত কিংবা বাছাই কিংবা ‘উঁচুদরের' শিক্ষা প্রতিষ্টানগুলির বিরোধী; তারা চায় সকল শ্রেণির ছেলে-মেয়েদের জন্য সমান সুযোগ৷ সবুজরা চায় কর্তৃত্ববিহীন, কম শাসনের শিক্ষা পদ্ধতি; খ্রিষ্টীয় গণতন্ত্রীরা স্বভাবতই আরেকটু বেশি শৃঙ্খলা ও পড়ার চাপ৷ উদারপন্থিদের বাছাই শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বা প্রতিভাধর ছাত্র-ছাত্রীদের বিশেষ সুযোগ-সুবিধা দিতে কোনো আপত্তি নেই৷

একটু সহজ করে বলা হলেও, এ থেকে বুঝতে পারা উচিত যে, জার্মানিতে শিক্ষা নীতির গুরুত্ব ঠিক কতটা৷ ইতিহাস থেকে শিক্ষা নিয়েই, যুদ্ধপরবর্তী জার্মান ফেডারাল প্রজাতন্ত্রে শিক্ষাব্যবস্থার দায়িত্ব প্রধানত রাজ্যগুলির উপর ন্যস্ত করা হয়েছে, ফেডারাল সরকারের হাতে রাখা হয়নি৷ কিন্ডারগার্টেন পর্যায়ের পর ছেলে-মেয়েদের স্কুলে যাওয়া ও পাঠানোটা বাধ্যতামূলক৷ সেকেন্ডারি এডুকেশন পর্যায়ে পাঁচ রকমের স্কুলের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে, সমাজের সব শ্রেণির ছেলে-মেয়ের কথা ভেবে৷ তাদের মধ্যে প্রথমেই আসছে গিমনাজিয়ুম বা গ্রামার স্কুল, হাইস্কুলও বলা যেতে পারে, সেই সঙ্গে হায়ার সেকেন্ডারি যোগ করে৷

গিমনাজিয়ুমে আগে শেষ হতো ১৩ বছর পড়াশুনো করার পর – বলতে কি, গিমনাজিয়ুমের শেষে যে ‘আবিটুর' পরীক্ষা হয়, বিদেশে তা ব্যাচেলর বা স্নাতক ডিগ্রির সমমানের বলে গণ্য করা হতো৷ সে তুলনায় ‘রেয়ালশুলে'-র ছাত্র-ছাত্রীরা দশ বছরের মধ্যে স্কুল শেষ করে – যেন ম্যাট্রিক৷ আর ‘হাউপ্টশুলে'-র ছাত্র-ছাত্রীরা ন'বছর পরেই স্কুলের পাঠ শেষ করে ‘মিটলারে রাইফে'-র সার্টিফিকেট পকেটে নিয়ে পেশাগত প্রশিক্ষণের দিকে চলে যায়৷

এভাবেই চলছিল এবং ভালোই চলছিল, কিন্তু সমস্যা দেখা দেয় দু'দিক থেকে: প্রথমত, সন্তানদের সম্পর্কে বাবা-মায়েদের উচ্চাশা ক্রমেই বাড়তে থাকে, ফলে সবাই চান যে, তাদের ছেলে কিংবা মেয়ে গিমনাজিয়ুমে যাক; অর্থাৎ যোগ্যতা বা উপযোগিতার চেয়ে সমানাধিকারের প্রশ্নটাই বড় হয়ে দাঁড়ায়৷

অরুণ শঙ্কর চৌধুরী ডয়চে ভেলেতে চাকুরি করছেন বহু বছর ধরে৷

অরুণ শঙ্কর চৌধুরী, ডয়চে ভেলে

দ্বিতীয়ত, সাধারণভাবে বিদেশি-বহিরাগত-অভিবাসী পরিবারের ছেলে-মেয়েরাই জার্মান শিক্ষাব্যবস্থায় পিছিয়ে পড়তে থাকে ও খানিকটা সেই কারণেই শিক্ষাবিমুখ হয়ে ওঠে৷ অর্থাৎ এখানেও এসে পড়ছে সমানাধিকার ও সমান সুযোগের প্রশ্ন, এবং জার্মান শিক্ষাব্যবস্থা শিল্প-বাণিজ্যের পক্ষে স্কুল স্নাতকদের উপযোগিতার প্রসঙ্গ আপাতত শিকেয় তুলে রেখে বৈষম্য দূরীকরণ ও সামাজিক শান্তি রক্ষার পথ খুঁজতে শুরু করে৷

তবুও এদেশের সরকারি স্কুলগুলিতে কোনো ফি লাগে না; ছাত্র-ছাত্রীদের গায়ে হাত তোলা নিষিদ্ধ; ক্লাশরুমে খ্রিষ্টান ক্রুশ প্রদর্শন নিষিদ্ধ৷ এদেশে শিক্ষকদের পদমর্যাদা – ও পেনশন – সরকারি অফিসারদের মতো৷ জার্মান সমাজ নিজেকে স্বাধীন সমাজ বলে গণ্য করে ও স্বাধীন সমাজই থাকতে চায়৷ সেই স্বাধীনতার একটি বড় রণাঙ্গণ হল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, স্কুল-কলেজ – বিশেষ করে স্কুল৷ স্কুলপ্রাঙ্গণেই আগামী প্রজন্মের নাগরিক ও সেই সঙ্গে গণতন্ত্রের ভবিষ্যৎ নির্ধারিত হয়ে থাকে৷

তাই শিক্ষা বাদ দিয়ে জার্মানিতে রাজনীতি হয় না৷

আপনি কি লেখকের সঙ্গে একমত? লিখুন নীচের মন্তব্যের ঘরে৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়