1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বিজ্ঞান পরিবেশ

জার্মানিতে গড়ে তোলা হচ্ছে ‘ডিজিটাল তথ্যভাণ্ডার'

জার্মানির অসংখ্য সংগ্রহালয়ে ছড়িয়ে রয়েছে মূল্যবান বইপত্র, শিল্পকর্ম, অডিও, ভিডিও ইত্যাদি৷ এবার ‘ভারচুয়াল' জগতে সেগুলিকে নিয়ে আসার বিশাল উদ্যোগ চলছে৷

default

গোটা গ্রন্থাগার উঠে আসবে ইন্টারনেটের পর্দায়

Digitalisierungsprojekt in der Anna Amalia Bibliothek

১৮৭৭ সালে প্রকাশিত মহাকবি গ্যোটের ‘ফাউস্ট’এর ইংরাজি সংস্করণের ডিজিটাল রূপ দেওয়া হচ্ছে

‘কপি-পেস্ট' প্রতিরোধের হাতিয়ার

ক'দিন আগে পর্যন্ত এক রাজনৈতিক কেলেঙ্কারি নিয়ে গোটা জার্মানি উত্তাল হয়ে উঠেছিল৷ ডক্টরেট থিসিসের অংশবিশেষ অবৈধভাবে নকল করার অভিযোগে প্রতিরক্ষামন্ত্রী হিসেবে পদত্যাগ করতে হয় তারকা-রাজনীতিক বলে পরিচিত কার্ল টেওডোর সু গুটেনব্যার্গ'কে৷ ছাপা অক্ষর নকল করা আজকাল কোনো সমস্যাই নয়৷ ওয়েবসাইট অথবা যে কোনো টেস্ট ফাইলের পছন্দমতো অংশ ‘কপি' করে তা অন্য কোথাও ‘পেস্ট' করলেই হলো৷ প্রয়োজনে ফরম্যাটে শুধু কিছু রদবদল করে নিতে হয়৷ কিন্তু কখন কে অবৈধভাবে নকল করে ফেলবে – এমন আশঙ্কায় ইন্টারনেট থেকে সব লেখা সরিয়ে দেওয়া নিশ্চয় বাস্তবসম্মত সমাধান হতে পারে না৷ তাহলে উপায় কী?

এমনই এক সমাধানসূত্র নিয়ে এসেছে জার্মানির বিখ্যাত গবেষণা প্রতিষ্ঠান ফ্রাউনহোফার ইন্সটিটিউট৷ এমন প্রতিষ্ঠান বোধহয় দুনিয়ায় দ্বিতীয়টি নেই, যা মৌলিক গবেষণা দ্রুত পৌঁছে দিয়ে চলেছে বাজারের উপযুক্ত পণ্য ও পরিষেবার আকারে৷ ফ্রাউনহোফার ছাড়া এমপিথ্রি সাউন্ড ফাইলের অস্তিত্ব থাকতো কি না সন্দেহ৷ যাই হোক, ডিজিটাল গ্রন্থাগার গড়ে তোলার ক্ষেত্রে অভিনব এক প্রযুক্তি সৃষ্টি করেছে এই প্রতিষ্ঠান৷ সংবাদপত্র, পত্রিকা বা ইন্টারনেটে প্রকাশিত অন্যান্য লেখার নকল করলে তেমন কোনো বড় ক্ষতির আশঙ্কা থাকে না৷ কিন্তু বিভিন্ন গ্রন্থাগার বা অন্যান্য শিক্ষা গবেষণা প্রতিষ্ঠানে রক্ষিত দুষ্প্রাপ্য বই ও পান্ডুলিপির ক্ষেত্রে বাড়তি সাবধানতার প্রয়োজন হয়ে পড়ে বৈকি৷ এতকাল নকলের ভয়ে এমন সব বইপত্র ডিজিটাল রূপে প্রকাশ করার ক্ষেত্রে যথেষ্ট উদ্যোগ দেখা যায় নি৷

CeBIT 2011 Fraunhofer Stand auf der CeBIT 2011

সদ্য সমাপ্ত সেবিট মেলায় ফ্রাউনহোফার ইন্সটিটিউটের প্যাভিলিয়ন

বইপত্রের ডিজিট্যালিকরণ'

ফ্রাউনহোফার ‘কন্টেনটাস' নামের প্রকল্পের মাধ্যমে এই সমস্যার সমাধানসূত্র তুলে ধরেছে৷ এই প্রকল্পের একাধিক দিক রয়েছে৷ বিশেষ স্ক্যানার ও সফটওয়্যারের মাধ্যমে অত্যন্ত দ্রুত একটা গোটা বইয়ের ডিজিট্যাল সংস্করণ তৈরি হচ্ছে৷ এমনকি পুরানো বইয়ের কোনো পাতার পিছনের অংশ অস্পষ্ট দেখা গেলেও তা ফিল্টার করার ব্যবস্থাও রয়েছে৷ অস্পষ্ট অক্ষরও সংশোধন করে ‘পড়ে ফেলার' ক্ষমতা রাখে এই সফটওয়্যার৷ প্রক্রিয়া শেষ হলে গোটা বইয়ের টেক্সট যে কোনো ডিজিট্যাল টেক্সট'এর মতো পড়ে ফেলা সম্ভব৷ তবে সেই টেক্সট যাতে কেউ নকল করতে না পারে, তার ব্যবস্থাও রয়েছে৷ এমনকি এই রক্ষাকবচ চালু থাকলে মনিটরের পর্দার ছবি বা ‘স্ক্রিনশট' তৈরি করাও সম্ভব নয়৷ এভাবে গ্রন্থাগারের পুরানো বই যেভাবে হাতে নিয়ে শুধু পড়া যায়, ঠিক তেমনটাই সম্ভব হচ্ছে ভারচুয়াল ডিজিটাল জগতে৷ বই ছাড়াও ছবি, অডিও, ভিডিও নিরাপদে সংরক্ষণ করা সম্ভব এই প্রযুক্তির মাধ্যমে৷

Screenshot der DW Seite Bengali

ওয়েবসাইট সংক্রান্ত বাড়তি তথ্যও দিতে পারবে ‘কন্টেনটাস'

জাতীয় তথ্যভাণ্ডার

পুরানো বইপত্র ও অন্যান্য সামগ্রীর সংরক্ষণের এই পদ্ধতি অত্যন্ত উচ্চাকাঙ্খী এক প্রকল্পের জন্ম দিয়েছে৷ ফ্রাউনহোফার'এর এই প্রযুক্তির কল্যাণে শুরু হয়েছে এক প্রকল্প, যার নাম ‘জার্মান ডিজিট্যাল লাইব্রেরি'৷ এর আওতায় গোটা জার্মানিতে ছড়িয়ে থাকা দুষ্প্রাপ্য বইপত্র, ছবি, মানচিত্র ইত্যাদি এক একে ডিজিট্যাল রূপে রূপান্তরিত করে একটি ইন্টারনেট পোর্টাল ওয়েবসাইটে রাখা হচ্ছে৷ চলতি বছরের শেষেই এই বিশাল তথ্যভাণ্ডারের একটা প্রাথমিক সংকলন প্রস্তুত হয়ে যাওয়ার কথা৷ শুধু পাশাপাশি তথ্য জমা করা নয়, বিভিন্ন তথ্যের মধ্যে সংযোগেরও ব্যবস্থা থাকবে এই কাঠামোর মধ্যে৷ যেমন মিউজিয়ামে রাখা কোনো বিখ্যাত ছবি দেখতে চাইলে পর্দায় সেই ছবির পাশাপাশি ফুটে উঠবে ছবি সম্পর্কে অন্যান্য তথ্য, শিল্পীর আঁকা বাকি ছবির সন্ধান ইত্যাদি তথ্য৷ এই ‘ভারচুয়াল' জগতের কল্যাণে জার্মানির প্রায় সব গ্রন্থাগার ও সংগ্রহশালাই চলে আসবে সাধারণ মানুষের নাগালে৷ সশরীরে না গিয়েও স্বাদ পাওয়া যাবে বই, ছবি সহ নানা রকমের সম্পদের৷

Virtuelle Tastatur, CeBIT

‘ভারচুয়াল’ জগতই ক্রমশঃ যেন ‘বাস্তব’ হয়ে উঠছে

এতো গেল পুরানো দিনের বইপত্র ও অন্যান্য সামগ্রী ডিজিটাল পদ্ধতিতে রূপান্তরের কথা৷ ইন্টারনেটে যে বিপুল তথ্যভাণ্ডার রয়েছে এবং প্রতিনিয়ত যোগ হয়ে চলেছে, কীভাবে সেই বিচ্ছিন্ন তথ্যের মধ্যে সংযোগ তৈরি করা সম্ভব? ফ্রাউনহোফার'এর ‘কন্টেনটাস' প্রকল্পের আওতায় এক পদ্ধতি ঠিক এমনটাই করতে পারছে৷ ইন্টারনেটের ব্রাউজারে বিশেষ একটি বাড়তি গুণ যোগ করলেই হবে৷ তারপর যেকোনো ওয়েবসাইট চালু করে একটি বোতামে ক্লিক করলেই হলো৷ কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে ওয়েবসাইটের পাতায় রাখা সব তথ্য বিশ্লেষণ করে এই ‘টুল' এমন সব শব্দ বা বাক্যের অংশ চিহ্নিত করবে, যা সম্পর্কে বাড়তি তথ্য দেওয়া সম্ভব৷ শুধু বিচ্ছিন্ন শব্দ নয়, লেখার প্রেক্ষাপটও বুঝতে সক্ষম এই ‘টুল'৷ যেমন একই নামের দুই বিখ্যাত ব্যক্তি থাকলে ওয়েবসাইটের পাতায় ঠিক কার উল্লেখ করা হয়েছে, তা বুঝে নেওয়া সম্ভব৷ শব্দের পেছনে বিভিন্ন রঙের সাহায্যে আলাদা আলাদা ধরণের তথ্যের প্রতি মনোযোগ আকর্ষণ করা হয়৷

প্রতিবেদন: সঞ্জীব বর্মন
সম্পাদনা: অরুণ শঙ্কর চৌধুরী

ইন্টারনেট লিংক