1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

আলাপ

জার্মানিতে ‘কাজের বুয়া'

পশ্চিমবঙ্গে বলতো ‘কাজের লোক', ‘ঠিকে-ঝি', যা কিনা আরো খারাপ৷ জার্মানির মতো সমৃদ্ধ দেশেও এই ‘আণবিক পরিবারের' যুগে গৃহকর্মীরা আছেন৷ ওদিকে দুনিয়ায় দরিদ্র, অভাবী মানুষের তো কোনো অভাব নেই...৷

নামে কি বা আসে যায়৷ গৃহকর্মী বলাটা আজকাল ‘পলিটিক্যালি কারেক্ট'৷ কিন্তু আরো বড় কথা, জার্মানিতে যাদের ‘পুট্সফ্রাউ' বা ঘর পরিষ্কারের লোক – অর্থাৎ গৃহকর্মী হিসেবে কাজ করতে দেখি, তাদের আইনগত অধিকার বা মর্যাদা যা-ই হোক না কেন, নিজেদের সম্পর্কে, নিজেদের কাজ সম্পর্কে ধারণা – এবং সেই সঙ্গে আত্মসম্মানবোধ – আমাদের উপমহাদেশের চেয়ে অনেক বেশি৷

অথচ যাঁরা পরের বাড়ি ঘরের কাজ করতে আসেন, তাঁদের অনেকেই সে কাজ করেন বেআইনিভাবে, অর্থাৎ কর্মসংস্থান দপ্তরকে না জানিয়ে৷ নগদ পারিশ্রমিক পান, খুব সম্ভবত তার উপর আয়কর দেন না, যেমন গৃহকর্ত্রী বা গৃহকর্তারও বিভিন্ন সামাজিক বীমা খাতে যে অনুদান জমা করা উচিত, সেটা তারা বাঁচিয়ে নেন৷

একটা অস্বস্তিকর, বেআইনি পরিস্থিতি – কিন্তু যেহেতু দু'পক্ষেই প্রয়োজন এবং তাড়নাটা বৃহৎ, সেহেতু এই ‘প্রণালীটা' জার্মানির ঘরে ঘরে কাজ করছে এবং করবে, তা সরকার একে যতোই ‘শোয়ার্ৎসআর্বাইট' বা – কালো টাকার অনুকরণে – ‘কালো শ্রম' বলে দুষুন না কেন৷ আমার চেনা এক রুশ মহিলা – আদতে ছিলেন সাংবাদিকা – আজ ঘণ্টায় ১৫ ইউরো পারিশ্রমিকে বাড়ির কাজ করেন৷ এই হয়ত আয়নার কাচ পুঁছছেন; আবার প্রয়োজনে ভ্লাদিমির পুটিনের নতুন সঙ্গিনীকে নিয়ে নানা টাটকা কেচ্ছাও শুনিয়ে দিতে পারেন৷

একটি আঠেরো পরিবারের ফ্ল্যাটবাড়িতে যে কত জাতি, ভাষা ও ধর্মের গৃহকর্মীরা আসা-যাওয়া করে থাকেন, সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত – তা না দেখলে বিশ্বাস করা যাবে না৷ এই সাহায্য যারা নিচ্ছেন – নিতে বাধ্য হচ্ছেন – তাঁদের মধ্যে অশীতিপর বৃদ্ধ থেকে শুরু করে অস্ট্রেলিয়ার আইটি বিশেষজ্ঞ – জার্মানি এসেছেন ডয়চে টেলিকমের বিশেষ কাজে – ওদিকে দুই কচি সন্তান নিয়ে হিমশিম খাওয়া তরুণী মা৷ এরই মধ্যে এক ফ্ল্যাটে ক্যানসার; সেখানে যে পোলিশ মহিলাটি আসেন, তাঁর রীতিমতো নার্সিং-এর অভিজ্ঞতা আছে৷

গাড়িতে যেমন পেট্রোল ছাড়াও মোটর অয়েল লাগে, এই গৃহকর্মীরা হলেন জার্মানির সংসারকর্মের মোটর অয়েল৷ এদের ছাড়া সংসার অচল৷ এই গৃহকর্মীদের উপর অত্যাচার বা নিপীড়নের ঘটনা নিশ্চয় ঘটে থাকে এবং তার নিশ্চয় সরকারি ও বেসরকারি পরিসংখ্যান আছে – কিন্তু সেই সংখ্যা আমাদের দেশের তুলনায় কিছুই নয়, বলে আমার ধারণা৷ এ দেশে অ্যামেরিকা, ক্যানাডা থেকে শিক্ষিত তরুণী মেয়েরা আসে ‘ও পেয়ার' বা বাচ্চাদের দেখাশোনা করার কাজ নিয়ে – নিখর্চায় ইউরোপে থেকে পড়াশুনা, পর্যটন, ভাষাশিক্ষা বা অন্য কোনো গভীর উদ্দেশ্য সাধনে৷

DW Bengali Arun Sankar Chowdhury

অরুণ শঙ্কর চৌধুরী, ডয়চে ভেলে

সেইভাবেই: গৃহকর্ম ও গৃহকর্মীর আদিম সম্পর্ক ও সমস্যাটা কখনো জলের তলায়, কখনো জলের ওপরে – মানে কখনো আইনি আবার কখনো বেআইনি৷ কিন্তু মনুষ্যসমাজ যতদিন আছে, ততদিন সে-ও আছে এবং থাকবে৷ তাকে অনেক অত্যাচার, অপমান ও অপব্যবহার সইতে হবে৷ জার্মানিতেও পূর্ব ইউরোপের বিভিন্ন দেশ থেকে যে সব তরুণীদের কাজের প্রলোভন দেখিয়ে জার্মানিতে আনা হয়, তাদের যেমন মানুষের আদিমতম প্রবৃত্তির শিকার হতে হয় – এমনকি বেআইনিভাবে জার্মানিতে বসবাসকারী গৃহকর্মীদেরও সেরকম দুরবস্থা হয় বলে কখনো শুনিনি৷ গৃহকর্মীদের উপর অত্যাচার, নিপীড়ন এদেশে বিরল ও বিক্ষিপ্ত ঘটনা, পদ্ধতি বা প্রথাগত নয়৷

অপরদিকে জার্মান সমাজে বৃদ্ধবৃদ্ধাদের সংখ্যা, একাকীত্ব ও অসহায়তা যত বাড়ছে, ততই গুগল করলেই দেখতে পাওয়া যাচ্ছে পোল্যান্ডের বিভিন্ন কোম্পানির নাম, যারা ২৪ ঘণ্টার নার্স বা পরিচারিকা দিতে পারে৷ আলৎসহাইমার বা পার্কিনসনে আক্রান্ত প্রবীণদের স্বগৃহে সসম্মানে বেঁচে থাকার একমাত্র উপায় হয়ে দাঁড়াচ্ছেন এই সব আদি ও অকৃত্রিম ‘কাজের বুয়া'৷

জার্মানির কাজের বুয়াদের নিয়ে আপনার কোন প্রশ্ন আছে? থাকলে লিখুন নীচের মন্তব্যের ঘরে৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন