1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

সমাজ সংস্কৃতি

জার্মানিতে আরও বিদেশি বংশোদ্ভুত সরকারি কর্মচারী প্রয়োজন

জার্মানিতে সরকারি দপ্তরগুলিতে বিদেশি কর্মীর সংখ্যা বাড়াতে জোরালো উদ্যোগ চলছে৷ তবে এই লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করার পদ্ধতি নিয়ে বিতর্ক রয়েছে৷

default

সমাজের বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিদেশি বংশোদ্ভূত মানুষদের সক্রিয় করার চেষ্টা চলছে

সরকারি দপ্তরে যাওয়ার কথা শুনলে কার না গায়ে জ্বর আসে৷ দীর্ঘ অপেক্ষা, এক টেবিল থেকে অন্য টেবিলে চক্কর খাওয়ার ঝক্কি – এমন কত আশঙ্কাই মনে জাগে, তাই না? জার্মানিতে সরকারি দপ্তরের কাজকর্ম মোটামুটি নির্বিঘ্নে সারা গেলেও এদেশের মানুষও কিন্তু সহজে সরকারি দপ্তরে পা মাড়ান না৷ তার উপর বিদেশি হলে তো কথাই নেই৷ তাদের সুবিধার জন্য এবার সরকারি দপ্তরে বিদেশি বংশোদ্ভূত কর্মীর সংখ্যা বাড়ানোর চেষ্টা চলছে৷

প্রেক্ষাপট

জার্মানিতে বিদেশির সংখ্যা কম নয়৷ প্রতি ৫ জনের মধ্যে একজন বিদেশি বা বিদেশি বংশোদ্ভূত – সংখ্যার বিচারে যা প্রায় দেড় কোটি৷ তাদের মধ্যে আবার ৪০ লক্ষ ইসলাম ধর্মাবলম্বী৷ কিন্তু সরকারি কর্মচারীদের মধ্যে বিদেশি বংশোদ্ভূত মানুষের সংখ্যা প্রায় হাতে গোনা যায়৷ এই পরিস্থিতি বদলানোর জন্য নানা মহল থেকে চাপ আসছে৷ বিদেশিদের সমাজে মূল স্রোতে সম্পৃক্ত করার লক্ষ্যে ২০০৭ সালে যে জাতীয় পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছিল, তাতেই এই লক্ষ্যমাত্রা স্থির করা হয়েছিল৷ বলা হয়েছিল, ভিন দেশের ভাষা ও সংস্কৃতি সম্পর্কে এই সব কর্মীদের বিশেষ জ্ঞান থাকায় সরকারি কাজকর্মে সুবিধা হবে৷ বিদেশিদের অনেক সংগঠনও বহুকাল ধরেই এমন দাবি জানিয়ে আসছিল৷ এদেরই একজন বন শহরের এক বিদেশি সংগঠনের প্রতিনিধি, হালুক ইলদিজ৷ তিনি বললেন, ‘‘এটা আসলে ন্যায়বিচারের প্রশ্ন৷ সরকারি দপ্তরেও সমাজের বাস্তব অবস্থার প্রতিফলন ঘটানো উচিত৷ যেখানে প্রায় ২০ শতাংশ মানুষ বিদেশি বংশোদ্ভূত, সেখানে সরকারি কর্মচারীদের মধ্যেও আনুপাতিক হারে তাদের প্রতিনিধিত্ব থাকা প্রয়োজন৷ এই মুহূর্তে কিন্তু তেমনটা দেখা যাচ্ছে না৷''

Deutschland Soldat Goitom Migranten in der Bundeswehr

জার্মান সেনাবাহিনীতে অভিবাসিদের সংখ্যা বাড়ছে

গেলজেনকিয়ের্শেন শহরে তুর্কি-জার্মান মৈত্রী সমিতির সভাপতি মুস্তাফা চেতিনকায়া মনে করেন, নানা উদ্যোগ ও প্রচেষ্টা সত্ত্বেও জার্মান সমাজে বিদেশিদের সম্পৃক্ত করার কাজ সম্পূর্ণ করতে আরও দীর্ঘ পথ অতিক্রম করতে হবে৷ তিনি বললেন, ‘‘বিদেশিদের সমাজে সম্পৃক্ত করার ক্ষেত্রে অবশ্যই অনেক সাফল্যের দৃষ্টান্ত রয়েছে৷ যেখানেই সমাজের সব অংশের মধ্যে সরাসরি যোগাযোগের সুযোগ রয়েছে, সেখানেই বাধা দূর হয়েছে৷ কিন্তু প্রাতিষ্ঠানিক এবং রাজনৈতিক ক্ষেত্রে আরও অনেক কাজ বাকি রয়েছে৷

বিদেশি কর্ম থাকার সুবিধা

সরকারি কর্মীদের মধ্যে আনুপাতিক হারে বিদেশি বংশোদ্ভূত মানুষের সংখ্যা বাড়ালে বিদেশিদের সম্পৃক্ত করার প্রক্রিয়াও সামগ্রিকভাবে তরান্বিত হবে বলে মনে করেন হালুক ইলদিজ৷ বিদেশিরা সরকারি দপ্তরের কাউন্টারে গিয়ে যদি নিজেদের মতই আরও মানুষ দেখতে পান, তখন তাঁরা নিজেদের সমাজের অংশ হিসেবে মনে করবেন৷ এই চেতনা আরও বাড়বে৷

এই সুবিধাগুলি সম্পর্কে সচেতনতা বাড়ছে এবং ইতিমধ্যে একেবারে তৃণমূল স্তরের সরকারি দপ্তরগুলিতে বিদেশি বংশোদ্ভূত কর্মীদের সংখ্যা বাড়ানোর প্রচেষ্টাও জোরদার করা হয়েছে৷ বন'এর মত শহরে প্রায় ২৫ শতাংশ মানুষই অভিবাসি৷ শহরের যে দপ্তর কর্মী নিয়োগ করে, তার প্রধান কার্লহাইনৎস টোমাস জানালেন, বন শহরে প্রায় ২০ শতাংশ সরকারি কর্মী বিদেশি বংশোদ্ভূত৷ তাঁর কথায়, ‘‘আমাদের নাগরিক পরিষেবার স্বার্থে বিদেশি বংশোদ্ভূত কর্মী থাকা জরুরি৷ তাঁরা নানা ভাষা জানেন, বিভিন্ন দেশ সম্পর্কে জানেন৷ তাঁরা নিজেরা যখন জার্মানিতে এসেছিলেন, তখন তাঁদের যেসব সমস্যা হয়েছিল, সেসব তাঁরা ভোলেন নি৷ ফলে আজ তাঁরা অনেক সহজেই বিদেশিদের সমস্যা বুঝতে পারেন৷ এই বিশেষ দক্ষতাকে আমরা আরও বেশী করে কাজে লাগাতে চাই৷

Interkulturelle Schule Bild 1

অভিবাসিদের জার্মান শিক্ষার উপর যথেষ্ট জোর দেওয়া হচ্ছে

লক্ষ্য পূরণের পদ্ধতি নিয়ে বিতর্ক

মোটকথা, সরকারি দপ্তরে বিদেশি বংশোদ্ভূত কর্মীর সংখ্যা বাড়ানোর প্রশ্নে ইতিমধ্যে ঐক্যমত তৈরি হয়ে গেলেও কীভাবে এই লক্ষ্য পূরণ করা সম্ভব, সেবিষয়ে যথেষ্ট বিতর্ক রয়েছে৷ কোটা বা সংরক্ষণ ব্যবস্থার দাবি শোনা যাচ্ছে, যার অন্যতম প্রবক্তা জার্মানিতে তুর্কি সমাজের সভাপতি কেনান কোলাত৷ তিনি মনে করেন, ‘‘আমার মনে হয়, এবিষয়ে আলোচনার সময় এসে গেছে৷ বিষয়টিকে আর আলোচনার উর্দ্ধে রাখলে চলবে না৷ যখন নারীদের জন্য সংরক্ষণের প্রশ্ন উঠেছিল, তখনও ঠিক এমনটাই ঘটেছিল৷ তখন সংরক্ষণ-বিরোধীরা একই যুক্তি দেখিয়েছিল৷ সরকারি দপ্তরে অভিবাসীদের সংখ্যা বাড়াতে যদি অন্য কোন পদ্ধতি সফল হয়, তখন অবশ্য সংরক্ষণের প্রয়োজন হবে না৷ কিন্তু প্রশ্ন হল, এবিষয়ে যথেষ্ট সদিচ্ছা আছে কি?''

হালুক ইলদিজের কাছে মূল বিষয় হল সমাজে বিদেশিদের সম্পৃক্ত করার সার্বিক প্রয়াস৷ তবে এই লক্ষ্যে সংরক্ষণ কতটা ফলপ্রসূ হবে, সেবিষয়ে তাঁর মনে সন্দেহ রয়েছে৷ তাঁর মতে, ‘‘খুব একটা লাভ হবে না৷ সংরক্ষণ চালু করলে মানের অবনতি ঘটে৷ তবে আদৌ সংরক্ষণ নিয়ে আলোচনার যে প্রয়োজন এসে পড়ছে, তার ফলে স্পষ্ট হয়ে যাচ্ছে, যে সমাজে বিদেশিদের সম্পৃক্ত করার প্রক্রিয়া সফল হয় নি৷ কোটা ব্যবস্থা দিয়ে এই সমস্যার সমাধান করা সম্ভব নয়৷''

বন শহর কর্তৃপক্ষ এই দু'টি মতবাদের মধ্যে সমন্বয় ঘটানোর চেষ্টা করছে৷ একদিকে অভিবাসিদের সংখ্যা বাড়ানো হচ্ছে, অন্যদিকে পরিষেবার মানের যাতে অবনতি না হয়, সেদিকেও নজর রাখা হচ্ছে৷ বিশেষ করে সরকারি কর্মী হওয়ার জন্য তরুণ প্রজন্মকে আকর্ষণ করার চেষ্টা চলছে৷ হাতেনাতে এর ফলও পাওয়া যাচ্ছে৷ এই মুহূর্তে প্রায় ৭০টি দেশ থেকে আসা বিদেশিরা শহরের নানা দপ্তরে কর্মরত৷ প্রশ্ন হলো, এই সাফল্য কি একদিন দেশের বাকি অংশেও ছড়িয়ে পড়বে?

প্রতিবেদক : সঞ্জীব বর্মন

সম্পাদনা : দেবারতি গুহ

সংশ্লিষ্ট বিষয়