1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

জার্মানি

জার্মানিতে আবার গর্ভপাত নিয়ে বিতর্ক

ধর্মীয় কারণে নারীর গর্ভপাত করতে অস্বীকার করেছেন জার্মানির একটি হাসপাতালের প্রধান চিকিৎসক৷ তাঁর এই অস্বীকৃতি এক পুরনো বিতর্ককে নতুন করে সামনে নিয়ে এসেছে: গর্ভপাত কি অবৈধ?

থমাস ব্যর্নার একজন ধর্মপ্রাণ খ্রিষ্টান এবং ২৬ বছরের অভিজ্ঞতা সম্পন্ন গাইনোকোলোজিস্ট৷ ২০১০ সাল থেকে তিনি জার্মানির ডানেনব্যার্গের কোপিও এলবে-ইটজেল ক্লিনিকে কাজ করছেন, যেখানে শুধু ২০১৬ সালেই ৩১ নারীর গর্ভপাত করা হয়েছে৷

তবে সেসব গর্ভপাতের কোনোটিই ব্যর্নার করেননি৷ বরং গত বছরের ডিসেম্বরে যখন তাঁকে প্রধান চিকিৎসক হিসেবে পদোন্নতি দেয়া হয়, তখন তিনি পুরো হাসপাতালেই গর্ভপাত নিষিদ্ধ করেন৷ তিনি মনে করেন, ধর্মে আছে যে, যে কোনো পরিস্থিতিতে একটি জীবনকে রক্ষা করতে হবে৷ তাই ধর্মীয় কারণ দেখিয়ে তিনি একক সিদ্ধান্তে হাসপাতালটিতে গর্ভপাত নিষিদ্ধ করেছেন৷ জার্মানিতে একজন চিকিৎসকের ব্যক্তিগত ইচ্ছায় এমন সিদ্ধান্ত এটাই প্রথম৷

গর্ভপাত নিষিদ্ধে বিতর্কের মুখে পড়া হাসপাতালটি কাপিও গ্রুপের৷ ইউরোপের অন্যতম বড় স্বাস্থ্যসেবাদাতা এই প্রতিষ্ঠানটি শুরুতে চিকিৎসকের সিদ্ধান্ত সমর্থনও করেছে, কেননা, তারা মনে করে, গর্ভপাতে আগ্রহী নারীরা চাইলেই অন্য হাসপাতালে যেতে পারেন৷ কিন্তু চিকিৎসকের এমন সিদ্ধান্ত নিয়ে গোটা জার্মানিতেই বিতর্ক শুরু হয়েছে৷

আইনি পরিস্থিতি

জার্মান আইন অনুযায়ী, আঠারো বছরের বেশি বয়সে যে কোনো নারী গর্ভধারণের বারো সপ্তাহের মধ্যে গর্ভপাত ঘটাতে পারেন৷ তবে সেজন্য তাঁকে অবশ্যই গর্ভপাতের আগে একটি কাউন্সেলিংয়ে অংশ নিতে হবে৷ ধর্ষণের শিকার নারীদের ক্ষেত্রে অবশ্য গর্ভপাতের সময় এই শর্ত প্রযোজ্য নয়৷ চিকিৎসকের অনুমতি থাকলে তাঁরা কোনো রকমের কাউন্সেলিং ছাড়াই গর্ভপাত করাতে পারেন৷ তবে আঠারো বছরের কম বয়সি মেয়েদের ক্ষেত্রে গর্ভপাতের সিদ্ধান্ত তাঁর পরিবার বা অভিভাবককে নিতে হবে৷ আর বারো সপ্তাহের পরে গর্ভপাত ঘটালে সেটা শাস্তিযোগ্য অপরাধ৷ এক্ষেত্রে তিন বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড হতে পারে৷

জার্মানির সব হাসপাতাল গর্ভপাতের সুযোগ রাখতে বাধ্য নয়৷ তবে স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষকে নিশ্চিত করতে হয় যে কোনো নারী যদি গর্ভপাত ঘটাতে চান, তিনি যেন সেটা করতে পারেন৷

ডানেনব্যার্গের পরিস্থিতি ভিন্ন

তবে ডানেনব্যার্গের ক্লিনিকের পরিস্থিতি ভিন্ন৷ সেই অঞ্চলে এটিই একমাত্র হাসপাতাল যেটির গাইনোকোলজিক্যাল বিভাগ রয়েছে৷ নিয়ম অনুযায়ী, কোনো চিকিৎসক গর্ভপাতে সহায়তা করতে বাধ্য নন৷ কোনো কারণ ছাড়াই তারা সেটা করতে অস্বীকার করতে পারেন৷ আর গির্জা পরিচালিত হাসপাতালগুলোতেও গর্ভপাত নিষিদ্ধ৷ তবে জরুরি পরিস্থিতিতে, যেখানে একজন নারীর জীবন হুমকির মুখে, সেক্ষেত্রে চিকিৎসকরা গর্ভপাত ঘটাতে বাধ্য৷

আবার জার্মানির সর্বোচ্চ প্রশাসনিক আদালতের রুল অনুযায়ী, একজন চিকিৎসককে প্রধান চিকিৎসক হিসেবে নিয়োগ দেয়ার ক্ষেত্রে বৈধ গর্ভপাতে তার সায় থাকার বিষয়টি একটি পূর্বশর্ত৷

ফলে ডানেনব্যার্গের পরিস্থিতি বেশ জটিল৷ কেননা, সেখানে একজন চিকিৎসক তাঁর ব্যক্তিগত বিশ্বাসের ভিত্তিতে গর্ভপাত নিষিদ্ধ করেছেন যদিও হাসপাতালটি গির্জা পরিচালিত নয়৷ তবে রক্ষণশীল রাজনীতিবিদরা ব্যর্নারের সিদ্ধান্তকে সমর্থন জানিয়েছেন৷ আর ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হওয়ায় হাসপাতালটির মালিকপক্ষও সুর পাল্টাতে শুরু করেছে৷ প্রতিষ্ঠানটির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ইপিডি সংবাদ সংস্থাকে জানিয়েছেন, তাঁরা ব্যক্তিগত সিদ্ধান্তকে সমর্থন করেন, কিন্তু একটি বিভাগের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত গ্রহণের দায়িত্ব সরকারের৷

ডাক্তার ব্যর্নার অবশ্য নিজের নীতিতে অটল থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন৷ এজন্য ভবিষ্যতে তাঁর ক্যারিয়ারে যেকোনো পরিণতি মেনে নিতে প্রস্তুত তিনি৷

প্রতিবেদন: রিনা গোল্ডেনব্যার্গ/এআই

সম্পাদনা: আশীষ চক্রবর্ত্তী

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়