1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

জার্মানি ইউরোপ

জার্মানরা কি রাজনীতি বিমুখ হয়ে উঠছেন?

জার্মানিতে ক্রমেই আরো কম মানুষ ভোট দিতে যাচ্ছেন; রাজনৈতিক দলগুলোর কার্ডহোল্ডিং মেম্বার কমছে৷ বিশেষ করে তরুণ সমাজ রাজনীতি ছেড়ে অন্যদিকে মন দিয়েছে৷ জার্মানরা কি রাজনীতিতে ক্লান্ত?

বিশ বছর বয়সি তরুণ আলেক্সান্ডার অজ্লিজলো'কেই ধরা যাক৷ আলেক্স একবার তার জন্মের শহর আখেন'এর নানা রাজনৈতিক দল ঘুরে দেখেছিল: ‘‘ওখানে খালি বুড়োরা বসে৷ আর ওরা যেভাবে কথা বলে, ওখানকার যে কাঠামো, কম বয়সের লোকজনের তা'তে হাসি পায়৷'' কাজেই তার বদলে আলেক্স গত পাঁচ বছর ধরে গ্রিনপিসের হয়ে কাজ করছে: প্রতিবাদ সমাবেশের আয়োজন করে, যেমন কয়লায় চলা বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রগুলির বিরুদ্ধে৷ এমনকি একবার গ্রিনপিসের বোটে করে নর্থ সি'তেও রওনা হয়েছিল, তেলের ট্যাংকার সংক্রান্ত দুর্ঘটনা থেকে পরিবেশের বিপদ সম্পর্কে সাবধান করে দেবার জন্য৷

তরুণদের কাছে প্রচলিত রাজনৈতিক দলগুলির চেয়ে গ্রিনপিসের মতো পরিবেশ সংগঠনের আকর্ষণ হল, এখানে গোড়া থেকেই সক্রিয় হওয়া যায় - বছরের পর বছর কার্ডহোল্ডিং মেম্বার থেকে, নির্বাচনের সময় পোস্টার সেঁটে, তবে শেষমেষ দলের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তগুলিতে সংশ্লিষ্ট হবার অধিকার অর্জন করতে হয় না৷

Bundestagswahl 2013 Wahlplakate SPD Grüne Linke FDP

‘বুড়িয়েছে' রাজনৈতিক দলগুলি

নিজের নির্বাচনি এলাকায় মই ঘাড়ে করে ঘোরা থেকে সেই পোস্টারের উপর যার ছবি, সেই প্রার্থী হওয়া অবধি বহু সময় লেগে যায়৷

‘বুড়িয়েছে' রাজনৈতিক দলগুলি

জার্মানির মানুষজন যে সাধারণভাবে রাজনীতি বিমুখ হয়ে পড়েছে, হ্যানোভার বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজতত্ত্ববিদ হাইকো গাইলিং তা মনে করেন না: ‘‘যখন দেখা যায় যে, দেশের চল্লিশ শতাংশ মানুষ সামাজিক, রাজনৈতিক অথবা অন্য কোনো উদ্যোগ কিংবা আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত, তখন সেটাকে উৎসাহজনকই বলতে হয়৷'' তবে প্রচলিত রাজনৈতিক দলগুলি রাজনীতির নামে যা করে, তা'তে মানুষজন আগ্রহ হারিয়ে ফেলছে৷ বিশেষ করে তরুণরা রাজনৈতিক তকরার, ক্ষমতার লড়াই ইত্যাদির দিকে মনোযোগ দিতে রাজি নয়৷ ‘‘তরুণরা চায়, কোনো কিছুর জন্য রুখে দাঁড়াতে, সংগ্রাম করতে৷ তারা চায় হাতে হাতে ফলাফল,'' বলেন হাইকো গাইলিং৷

জার্মানিতে বিশেষ করে প্রতিষ্ঠিত রাজনৈতিক দলগুলির সদস্যসংখ্যা কমছে৷ ত্রিশ বছর আগে সামাজিক গণতন্ত্রী এসপিডি দলের সদস্যদের এক-তৃতীয়াংশের বয়স ছিল ৩৫ বছরের নীচে৷ আজ এসপিডি সদস্যদের মাত্র প্রতি দশজনের মধ্যে একজনের বয়স ৩৫'এর নীচে৷

Greenpeace demonstriert vor der russischen Botschaft in Berlin

তরুণরা গ্রিনপিসের মতো সংগঠনের সদস্য হতে বেশি আগ্রহী

রাজনৈতিক দলগুলো যেমন বুড়িয়ে যাচ্ছে, তেমনই বুড়িয়ে যাচ্ছে তাদের প্রার্থী, কর্মকর্তা, স্লোগান, পোস্টার ও বক্তৃতা৷ ও' দিয়ে আর মানুষের মন টানা সম্ভব নয়৷ কাজেই দশ বছর আগেও যেখানে ৮০ শতাংশ মানুষ ভোট দিতে যেতেন, বিগত সংসদীয় নির্বাচনে সেটা কমে দাঁড়ায় ৭০ শতাংশে৷

বিভক্ত গণতন্ত্র?

রাষ্ট্রবিজ্ঞানী রবের্ট ফেরকাম্প'এর চিন্তা ৭৫ কি ৭০ শতাংশ মানুষ ভোট দিতে গেলেন, তা নিয়ে নয়, কেননা ইউরোপীয় গড়ের তুলনায় জার্মানিতে নাগরিকদের ভোটে অংশগ্রহণ আদৌ খারাপ নয়৷ ফেরকাম্পের চিন্তা হল ঠিক সেই ধরনের ভোটারদের নিয়ে, যারা ভোট দেওয়াই ছেড়ে দিয়েছেন৷ ফেরকাম্পের বর্ণনায় এই সব মানুষ ‘‘গণতন্ত্রে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করা পরিত্যাগ করেছেন''৷ বের্টেল্সমান ফাউন্ডেশনের একটি সাম্প্রতিক জরিপ অনুযায়ী এই ধরনের ‘‘অ-ভোটাররা'' সাধারণত সমাজের দুর্বল অংশের মানুষ এবং এদের শিক্ষাদীক্ষাও সেই অনুপাতে কম৷ কাজেই জার্মানিতে একটি সামাজিক বিচারে দ্বিধাবিভক্ত গণতন্ত্রের বিপদ দেখেন ফেরকাম্প৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়