1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বিশ্ব

‘জামায়াত ছাড়াও একটি চক্র বোমা তৈরি করছে'

চলমান রাজনৈতিক অস্থিরতায় বাংলাদেশে পেট্রোল বোমা বা ককটেল-এর কদর বেশ বেড়েছে৷ দলীয় নেতাকর্মীদের বাইরেও পেশাদার একটি গ্রুপ এসব বোমা তৈরি করে চড়া দামে বিক্রি করছে বলে জানা গেছে৷

দেশে এখন প্রতিদিনই কমবেশি অর্ধশত ককটেল বা হাতবোমার বিস্ফোরণ ঘটছে৷ প্রকারভেদে এর দাম ৫০০ থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত৷

র‌্যাবের অতিরিক্ত মহাপরিচালক কর্নেল জিয়াউল আহসান বলেন, পেট্রোল বোমা বা ককটেল তৈরির জন্য জামায়াত বা শিবিরের নিজস্ব গ্রুপ রয়েছে৷ এর বাইরে অভিযানে গিয়ে তাঁরা দেখেছেন, শুধুমাত্র ব্যবসার জন্যই একটি চক্র এসব তৈরির কাজে মাঠে নেমেছে৷ বোমা তৈরির পর চাহিদা অনুযায়ী সংশ্লিষ্টদের কাছে এসব সরবরাহ করে তাঁরা৷

র‌্যাব বা পুলিশের এত অভিযানের মধ্যেও প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ বোমার বিস্ফোরণ কেন হচ্ছে – এমন প্রশ্নের জবাবে জিয়াউল আহসান বলেন, জনগণকে সম্পৃক্ত করা না গেলে এসব বোমা হামলা বন্ধ করা যাবে না৷ র‌্যাব, পুলিশ দিন-রাত অভিযান চালিয়েও পুরোপুরি সফল হতে পারবে না৷

শুক্রবারও রাজধানীর মোহাম্মদপুরে অভিযান চালিয়ে র‌্যাব শতাধিক হাতবোমাসহ তিনজনকে গ্রেফতার করেছে৷ ওই আস্তানা থেকে উদ্ধার করা হয়েছে বিপুল পরিমাণ বোমা তৈরির সরঞ্জাম৷ কর্নেল জিয়াউল আহসান বলেন, বোমা তৈরির সময় বিস্ফোরণে মোহাম্মদ শাহিন (৩৫), সাব্বির হোসেন (২০) ও বশির মিয়া (২৮) নামে তিন জন আহত হয়৷ আহত অবস্থায় তাদের গ্রেফতার করা হয়েছে৷ প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা দাবি করেছে যে, তারা কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সম্পৃক্ত নয়৷ দীর্ঘদিন ধরে তারা হাতবোমা তৈরির সঙ্গে জড়িত৷ লাভজনক হওয়ায় এটাকে তারা ব্যবসা হিসেবে নিয়েছিলেন৷ চাহিদা অনুযায়ী তারা রাজনৈতিক দলের নেতাদের কাছে শুধুমাত্র টাকার বিনিময়ে এগুলো সরবরাহ করে থাকেন৷ কর্নেল জিয়া বলেন, এদের কাছ থেকে হাতবোমা ছাড়াও এক কেজি গান পাউডার এবং বিপুল পরিমাণ বোমা তৈরির সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়েছে৷ তিনি বলেন, এরা বোমা তৈরিতে বিশেষজ্ঞ না হওয়ায় বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে৷

এর আগে গত রবিবার রাজধানীর কল্যাণপুর এলাকার একটি বাসা থেকে বিপুল পরিমাণ গান পাউডার, তাজা বোমা ও বোমা তৈরির সরঞ্জাম উদ্ধার করে পুলিশ৷ ঘটনাস্থল থেকে খালিদ হোসেন ও সাজিদ নামে দুই ভাইকে আটক করা হয়৷ মিরপুর বিভাগের পুলিশের উপ-কমিশনার ইমতিয়াজ আহমেদ বলেন, ওই আস্তানা থেকে উদ্ধার হওয়া সরঞ্জামের মধ্যে ১০ কেজি গান পাউডার ও বোমা তৈরির ৫০ কেজির মতো সরঞ্জাম রয়েছে৷ এসব সরঞ্জাম দিয়ে ৪-৫শ বোমা বানানো যেত৷ গ্রেফতারকৃতরা স্বীকার করেছে, শুধুমাত্র বাণিজ্যিক কারণেই তারা বোমা তৈরির ব্যবসায় নেমেছেন৷

ইমতিয়াজ আহমেদের মতে, রাজধানীতে এ ধরনের বেশ কয়েকটি চক্রের সন্ধান তাঁরা পেয়েছেন৷ গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে পেশাদার বোমা তৈরির চক্রকে গ্রেফতারে মাঠে নেমেছে পুলিশ৷

গত ৯ ডিসেম্বর চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে বোমা তৈরির সময় বিস্ফোরণে ছাত্র শিবিরের এক কর্মী নিহত হন৷ চট্টগ্রামের পুলিশ সুপার হাফিজ আক্তার বলেন, হাতবোমা বানানোর সময় বিস্ফোরণ ঘটলে তিন শিবিরকর্মী আহত হন৷ এর মধ্যে রাসেল আহমেদ নামে একজন মারা যান৷ এর আগে গত ৪ ডিসেম্বর রাজধানীর কাঁঠালবাগান এলাকায় অভিযান চালিয়ে একটি মেস থেকে ককটেল, গান পাউডারসহ বেশ কিছু বিস্ফোরক উদ্ধার করে পুলিশ৷ এসবের মধ্যে গান পাউডার, ১৫০টি তৈরি হাত বোমা, এক কেজি মার্বেল, ৪ লিটার পেট্রোল ও আরো কিছু বোমা তৈরির সরঞ্জাম ছিল৷

ঢাকা মেট্টোপলিটন পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের বোমা নিষ্ক্রিয়করণ টিমের প্রধান অতিরিক্ত উপ-কমিশনার ছানোয়ার হোসেন বলেন, ‘‘অপরাধীদের মধ্যেও কিছু মৌসুমী ব্যবসায়ী থাকেন৷ যারা সুবিধা অনুযায়ী ব্যবসা করে থাকেন৷ দেশে যখন অস্ত্রের চাহিদা বাড়ে তখন তারা অস্ত্র ব্যবসায় নেমে পড়ে৷ আবার যখন বোমা বা ককটেলের চাহিদা বাড়ে তখন তারা এগুলো তৈরির কাজে নেমে পড়ে৷ ইতিমধ্যে এ ধরনের কয়েকটি চক্র ধরাও পড়েছে৷ অন্যদের ব্যাপারে তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে৷ খুব শিগগিরই আরো কিছু চক্র ধরা পড়বে৷'' এই গোয়েন্দা কর্মকর্তার মতে, ‘‘বোমাবাজদের ব্যাপারে জনগণকেও সচেতন হতে হবে৷ কারো ব্যাপারে তথ্য পেলে পুলিশকে জানাতে হবে৷''

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়