জামায়াতের হরতালে রাজধানী জুড়ে যানজট | বিশ্ব | DW | 06.02.2014
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বিশ্ব

জামায়াতের হরতালে রাজধানী জুড়ে যানজট

ঢাকাসহ সারা দেশে জামায়াতে ইসলামীর বৃহস্পতিবারের হরতালে সাড়া মেলেনি৷ ঢাকায় দেখা যায় তীব্র যানজট৷ জামায়াতের নেতা-কর্মীদেরও কোনো পিকেটিং বা মিছিল করতে দেখা যায়নি৷ রাস্তায় ছিলনা জামায়াতের প্রধান শক্তি ছাত্রশিবিরও৷

default

ফাইল ছবি

৫ই জানুয়ারির নির্বাচনের পর নতুন সরকারের সময় বৃহস্পতিবরাই ছিল প্রথম সারা দেশে হরতাল৷ চট্টগ্রামের ১০ ট্রাক অস্ত্র মামলায় জামায়াতের আমীর মাওলানা মতিউর রহমান নিজামীর ফাঁসির দণ্ডের প্রতিবাদে জামায়াত এই হরতাল ডাকে৷

কিন্তু বৃহস্পতিবারের হরতালে সাড়া পায়নি জামায়াত৷ রাজধানী ঢাকাসহ সারা দেশের জনজীবনে তেমন কোনো প্রভাব ফেলতে পারেনি৷ যানবাহন চলাচল করেছে৷ দোকানপাট ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান খুলেছে৷ আর সরকারি-বেসরকারি অফিস আদালতে কাজকর্ম হয়েছে যথারীতি৷ রাজধানীতে যারা হরতালে রাস্তা-ঘাট ফাঁকা দেখতে পাবেন বলে রাস্তায় বের হয়েছেন, তারা হতাশ হয়েছেন৷ উলটে তারা দেখতে পেয়েছেন চির পরিচিত যানজট৷

রাজধানীর ফার্মগেট, যাত্রাবাড়ি, ফকিরাপুল, মতিঝিলসহ নানা এলাকা ঘুরে হরতালের কোনো আমেজ পাওয়া যায়নি৷ সকাল থেকেই রাজধানীর সড়কগুলোর ব্যস্ততা ছিল স্বাভাবিক দিনের মতই৷ ট্রাফিক পুলিশকেও দেখা যায় ব্যস্ত থাকতে৷

Rahman Nizami

১০ ট্রাক অস্ত্র মামলায় মতিউর রহমান নিজামীর ফাঁসির দণ্ডের প্রতিবাদে হরতাল ডেকেছিল জামায়াত

ফার্মগেটে যানজটের একটুও কমতি ছিলনা৷ ট্রাফিক কনস্টবল হায়দার আলি জানান, আগের হরতালে তাদের ব্যস্ততা কম থাকত৷ কারণ রাস্তাঘাটে যানবাহন থাকত কম৷ কিন্তু এবার তা নয়৷ স্বাভাবিক দিনের মতই তাকে গাড়ি ও পথচারীদেরও সামলাতে হচ্ছে৷ গণপরিবহন ছাড়াও ব্যক্তিগত গাড়ি, মোটর সাইকেল, অটোরিকশা এবং রিকশাও চলেছে রাজধানীতে যথারীতি৷

ঢাকার দোকানপাট এবং বিপণী বিতানগুলোও হরতালে ব্যস্ত সময় কাটায়৷ ক্রেতাদেরও কমতি ছিলনা৷ ফুলবাড়িয়া সুপার মার্কেটের দোকান কর্মচারী আরিফ হোসেন জানান, তাঁরা স্বাভাবিক দিনে মতই সকালে দোকান খুলেছেন৷ আর ক্রেতারাও আসছেন৷ একজন ক্রেতা হাসিবুর রহমান বলেন, হরতালের কোনো প্রভাব নেই৷ তিনি বাসা থেকে নিরাপদেই কেনাকাটা করতে এসেছেন৷

ঢাকা সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির সভাপতি খন্দকার এনায়েতুল্লাহ ডয়চে ভেলেকে জানান, সকালে ঢাকা থেকে দূর পাল্লার বাস-মিনিবাস কম চললেও সকাল ১০টার পর থেকে সব রুটে দূরপাল্লার বাস-মিনিবাস চলাচল শুরু হয়৷ ঢাকার বাইরে থেকেও বাস-মিনিবাস ছেড়ে আসে ঢাকার পথে৷ তিনি আরও জানান, তাঁরা হরতালে যানবাহন আর বন্ধ না রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন৷ কারণ এমনিতেই তাদের অনেক ক্ষতি হয়ে গেছে৷ আর ক্ষতির মুখোমুখি হতে চাননা তাঁরা৷ এদিকে ঢাকার সঙ্গে দেশের সব অঞ্চলের রেল ও নৌ যোগাযোগ স্বাভাবিক রয়েছে৷ কাজ হয়েছে চট্টগ্রাম এবং মংলাসহ সব বন্দরে৷

হরতালের আগে ২ দিন জামায়াত-শিবিরের নেতা-কর্মীরা মিরপুর এবং ধানমন্ডিতে হরতালের সমর্থনে মিছিল বের করে গাড়ি ভাঙচুরের চেষ্টা করলেও হরতালের দিন বৃহস্পতিবার তাদের মাঠে দেখা যায়নি৷ পিকেটিং বা মিছিল দেখতে পাওয়া যায়নি৷ শুধু ঢাকা নয়, চট্টগ্রামসহ দেশের অধিকাংশ বিভাগীয় শহরে একই ধরনের চিত্র দেখা গেছে৷ তবে বগুড়া এবং রাজশাহীতে হরতালের সমর্থনে গাড়ি ভাঙচুর করা হয়ছে৷

এ ব্যাপারে কথা বলতে জামায়াত-শিবিরের কোনো শীর্ষ নেতাকে পাওয়া যায়নি৷ তবে মাঠ পর্যায়ে কথা বলে জানা গেছে, তারা আন্দোলন নিয়ে নতুনভাবে চিন্তা করছেন৷ আর জামায়াত-শিবিরের শীর্ষ নেতারা কারাগারে থাকায় দল চলছে একরকম নির্দেশনা ছাড়া৷ যে সব এলাকায় প্রভাব আছে, সেখানে নেতা-কর্মীরা সক্রিয় আছেন বলে জানান তারা৷

এদিকে খাদ্যমন্ত্রী কামরুল ইসলাম বলেছেন, জামায়াতের ডাকা হরতাল দেশের মানুষ প্রত্যাখ্যান করেছে৷ তারা নাশকতার মাধ্যমে এতদিন জনগণকে জিম্মি করে রেখেছিল৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন