1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বিশ্ব

জামায়াতের বিচার নিয়ে ‘বিভ্রান্তি’ দূর করতে হবে

প্রচলিত ট্রাইব্যুনাল আইনে জামায়াতে ইসলামীর বিচার সম্ভব নয় – আইনমন্ত্রী অ্যাডভোকেট আনিসুল হকের এই বক্তব্যের পর সাবেক আইনমন্ত্রী ব্যারিস্টার শফিক আহমেদ রবিবার বলেন, প্রচলিত ট্রাইব্যুনাল আইনেই জামায়াতের বিচার সম্ভব৷

এদিকে ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট রানা দাসগুপ্ত সোমবার ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘বর্তমান আইনমন্ত্রীর কথায় জামায়াতের বিচার নিয়ে বিভ্রান্তি সৃষ্টি হয়েছে৷ সরকারের উচিত এর ব্যাখ্যা দেয়া৷''

মুক্তিযুদ্ধের সময় মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে সংগঠন হিসেবে জামায়াতের বিচারের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে আগেই৷ এরইমধ্যে ট্রাইব্যুনালের তদন্ত দল তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিয়েছে৷ আর প্রসিকিউশন ট্রাইব্যুনালে অভিযোগ দায়েরের কাজ করছে৷

তবে গত সপ্তাহে আইনমন্ত্রী অ্যাডভোকেট আনিসুল হক বলেন, ‘‘প্রচলিত ট্রাইব্যুনাল আইনে জামায়াতের বিচার সম্ভব নয়৷''

তাঁর মতে, ‘‘এখানে সংগঠনের বিচারে শাস্তির বিধান নেই৷ আর উচ্চ আদালতে জামায়াতের নিবন্ধন নিয়ে যে মামলা চলছে নতুন করে জামায়াতের বিচার হলে তাতে প্রভাব পড়তে পারে৷'' তিনি জামায়াতের বিচারের জন্য সময়টিকেও উপযুক্ত মনে করেন না৷

কিন্তু সাবেক আইনমন্ত্রী ব্যারিস্টার শফিক আহমেদ রবিবার বলেন, ‘‘ট্রাইব্যুনাল আইন যুদ্ধাপরাধী সংগঠন হিসেবে জামায়াতের বিচারের জন্য যথেষ্ট৷ এখানে শাস্তির বিধান বিচারকদের বিবেচনার ওপর ছেড়ে দেয়া হয়েছে৷'' বিষয়টি ট্রাইব্যুনালের এখতিয়ার, তাই এটাকে তিনি ট্রাইব্যুনালের ওপরই ছেড়ে দিতে বলেন৷

অন্যদিকে ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট রানা দাসগুপ্ত ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘সাবেক আইনমন্ত্রী ব্যারিস্টার শফিক আহমেদই সঠিক কথা বলেছেন৷ ট্রাইব্যুনাল আইনেই জামায়াতের বিচার সম্ভব৷'' তিনি বলেন, ‘‘আইনে ব্যক্তি এবং সংগঠন উভয়ের আলাদাভাবে বিচারের বিধান আছে৷ ব্যক্তির শাস্তির পরিমাণ আইনে উল্লেখ থাকলেও সংগঠনের কি শাস্তি হবে তা বিচারকের বিবেচনার ওপর ছেড়ে দেয়া হয়েছে৷''

তিনি বলেন, ‘‘বর্তমান আইনমন্ত্রীর কথায় বিভ্রান্তির সৃষ্টি হয়েছে৷ কারণ উচ্চ আদালতে জামায়াতের নিবন্ধন নিয়ে যে মামলা চলছে তার সঙ্গে যুদ্ধাপরাধের কোনো সম্পর্ক নেই৷ জামায়াতের গঠনতন্ত্র সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক হওয়ায় হাইকোর্ট নিবন্ধন বাতিল করেছে৷ এখন এর বিরুদ্ধে জামায়াত আপিল করেছে৷ কিন্তু তাই বলে মানবতাবিরোধী অপরাধতো মাফ হয়ে যায় না৷'' রানা দাসগুপ্ত আরো বলেন, ‘‘অন্য আইনে যাই থাকুক না কেন ট্রাইব্যুনালের আইনই প্রাধান্য পাবে৷ আর প্রচলিত ফৌজদারি আইনেও জামায়াতের অপরাধ বিচারযোগ্য৷''

তিনি বলেন, ‘‘আইনমন্ত্রী আনিসুল হকের কথায় জামায়াতের বিচার নিয়ে জনমনে যে বিভ্রান্তি সৃষ্টি হয়েছে সরকারের উচিত এই বিভ্রান্তি দূর করা৷ আর আইনমন্ত্রীর মতো সরকারও যদি মনে করে জামায়াতের বিচারের জন্য এটা উপযুক্ত সময় নয়, তারও ব্যাখ্যা দেয়া প্রয়োজন৷''

এদিকে আইনমন্ত্রীর বক্তব্য প্রত্যাহারের দাবিতে সোমবার গণজাগরণ মঞ্চের আইন মন্ত্রণালয় ঘেরাও কর্মসূচি পুলিশ পন্ড করে দিয়েছে৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন