1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বিশ্ব

জামায়াতকে ত্যাগ করুন, তারপর আলোচনা: প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ১০ম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পরদিন এক সংবাদ সম্মেলনে জঙ্গি ও যুদ্ধাপরাধী জামায়াতকে ত্যাগ করে বিএনপিকে আলোচনায় আসার আহ্বান জানান৷ তবে আলোচনা আগামী বা মধ্যবর্তী নির্বাচন নিয়ে কিনা – তা তিনি জানাননি৷

তাঁর দল এবং তাঁকে পুনরায় নির্বাচন করে আগামী পাঁচ বছরের জন্য দেশ পরিচালনার সুযোগ করে দেয়ার জন্য দেশবাসীকে ধন্যবাদ জানিয়ে সোমবার সংবাদ সম্মেলন শুরু করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা৷ বলেন, তাদের প্রতিশ্রুতি আওয়ামী লীগ বাস্তবায়ন করবে৷ ২০২১ সালের মধ্যে মধ্য আয়ের এবং ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত দেশে পরিণত হবে বাংলাদেশ৷

শেখ হাসিনা বলেন, বিরোধী দলকে নির্বাচনে আনার অনেক চেষ্টা করা হয়েছে৷ কিন্তু তারা নির্বাচনে না এসে সন্ত্রাস, অবরোধ আর হরতালের পথ বেছে নিয়েছে৷ তারা নির্বাচন প্রতিহত করার চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়েছে৷ নির্বাচন প্রতিহতের নামে হত্যা ও সন্ত্রাস করেছে৷ এই করে বিরোধী দলীয় নেত্রী খালেদা জিয়া একুল-ওকুল দু'কুলই হারিয়েছেন৷

Bangladesch Parlamentswahlen

সন্ত্রাস, সংঘাতের রাজনীতি কি শেষ হবে বাংলাদেশে?

তাই তিনি এবার বিএনপিকে জঙ্গি ও যুদ্ধাপরাধী জামায়াতের সঙ্গ ত্যাগ করে আলোচনা ও সমঝোতায় আসার আহ্বান জানান৷ তবে এই আলোচনা কি নিয়ে তা তিনি স্পষ্ট করেননি৷ এই আলোচনা আগামী নির্বাচন বা মধ্যবর্তী নির্বাচন নিয়ে কিনা – সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে শেখ হাসিনা বলেন, আগামী নির্বাচন যখন আসবে তখন আলোচনা হবে৷ তবে তখন বিএনপি তো আর বিরোধী দল থাকবে না, জানান প্রধানমন্ত্রী৷

শেখ হাসিনা গণভবনে জনাকীর্ণ সংবাদ সম্মেলনে বলেন, তাঁর সরকারের প্রথম কাজ হলো দেশের মানুষের নিরপত্তা নিশ্চিত করা৷ তিনি সন্ত্রাস ও জঙ্গি তত্‍পরতার বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স'-এর কথা বলেন৷ তিনি জানান, দেশের কেউ যাতে আর সন্ত্রাসের শিকার না হন, সে জন্য আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে৷ তিনি জানান, এ পর্যন্ত যারা বিএনপি-জামায়াতের সহিংসতায় নিহত হয়েছেন তাঁদের পরিবারকে আর্থিক সহায়তা দেয়া হবে৷ সুচিকিত্‍সার ব্যবস্থা করা হবে আহতদের৷ যেসব স্কুল পোড়ানো হয়েছে, তা নতুন করে আবার নির্মাণ করা হবে৷ আর যাঁদের সম্পদের ক্ষতি হয়েছে তাঁদের ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থা করা হবে৷

Bangladesch Wahlen 2014 Unruhen

নাকি গৃহযুদ্ধে পর্যবশিত হবে দেশ?

শেখ হাসিনা বলেন, বাংলাদেশে সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদের কোনো জায়গা নেই৷ যুদ্ধাপরাধীদের যে বিচার চলছে তা অব্যাহত থাকবে৷ তিনি বলেন, জামায়াত একটি সন্ত্রাসী দল৷ দলটি নিবন্ধন হারিয়েছে৷ আদালতে জামায়াত নিষিদ্ধ করার একটি মামলা চলছে৷ এখন আদালতই সিদ্ধান্ত নেবে জামায়াত পুরোপুরি নিষিদ্ধকরণের ব্যাপারে৷

প্রধানমন্ত্রী বলেন, যাঁরা স্বাধীনতা এবং গণতন্ত্রবিরোধী তাঁরাই এবারের নির্বাচন বর্জন করেছে৷ নির্বাচন প্রতিহত করতে মানুষ হত্যা করেছে, পুড়িয়ে মেরেছে৷ হরতাল অবরোধের নামে সম্পদের ক্ষতি করেছে৷ তাদের হাত থেকে গাছ ও নিরীহ গরুও রেহাই পায়নি৷ তাদের অপরাধের শাস্তি পেতে হবে৷ তাই অবশ্যই তাদের বিচারের আওতায় আনা হবে৷

নির্বাচন সুষ্ঠু এবং গ্রহণযোগ্য হয়েছে কিনা – এমন প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এত প্রতিকূলতার মধ্যেও এই নির্বাচনে তিনি সন্তুষ্ট৷ জনগণ যতটুকু ভোট দিতে পেরেছে, তাতেই তিনি খুশি৷ এই নির্বাচনে গণতন্ত্রের বিজয় হয়েছে বলেই তিনি মন্তব্য করেন৷



নির্বাচন প্রশ্নে বাংলাদেশ বিদেশি রাষ্ট্রের কোনো ধরণের নিষেধাজ্ঞা বা অরোধের মুখে পড়তে পারে কিনা – এমন প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এখানে এমন কিছু হয়নি যে বিদেশিরা নিষেধাজ্ঞা দেবে৷ এর চেয়েও অনেক খারাপ নির্বাচন বিদেশিদের কাছে গ্রহণযোগ্যতা পেয়েছে৷ সব দেশের সঙ্গে বাংলাদেশ সহযোগিতার সম্পর্ক আরো বাড়াতে চায়৷

শেখ হাসিনা বলেন, দেশের অর্থনীতি আরো বেগবান করা হবে৷ শিল্প, ব্যবসা-বাণিজ্য এবং বিনিয়োগের পথে সব বাধা দূর করা হবে৷ ব্যবসা-বাণিজ্যের আর ক্ষতি করতে দেয়া হবে না৷

নতুন সরকার সব দল নিয়ে হবে কী? এমন প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তাতে তাঁর আপত্তি নেই৷ তিনি চান সবাইকে নিয়েই সরকার চালাতে৷ তবে বিরোধী দলও থাকতে হবে বলে মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রী৷

উল্লেখ্য, রবিবারে একতরফা ১০ম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নির্বাচন হয়েছে ১৪৭টি আসনে৷ কারণ ৩০০টি আসনের মধ্যে ১৫৩টি আসনের প্রার্থীরা নির্বাচনের আগেই বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন৷ ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ২৩২টি আসন নিয়ে দুই তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়েছে৷ জাতীয় পার্টি ৩৩টি আসন নিয়ে দ্বিতীয় অবস্থানে আছে৷ ২৪শে জানুয়ারি চলতি সংসদের মেয়াদ শেষে আওয়ামী লীগ নতুন সরকার গঠন করবে৷ রওশন এরশাদের নেতৃত্বে জাতীয় পার্টি বিরোধী দলে বসছে বলে শোনা যাচ্ছে৷ প্রধান বিরোধী দল বিএনপির নেতৃত্বে বিরোধী ১৮ দল এই নির্বাচন বর্জনের পর, এখন নির্বাচনের ফলাফল বাতিলের দাবিতে আন্দোলন করছে৷

প্রসঙ্গত, এই নির্বাচনে ৩১.১ শতাংশ ভোট পড়েছে বলে জানিয়েছে ইলেকশন ওয়ার্কিং গ্রুপ৷ এদিকে স্থগিত হয়ে যাওয়া ৮টি আসনের নির্বাচন হবে আগামী ১৬ই জানুয়ারি৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়