1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বিজ্ঞান পরিবেশ

জাপানে গবেষণা জগতে প্রতারণা

এক জাপানি ‘স্টেমসেল’ গবেষক তাঁর গবেষণার ফলাফলকে প্রত্যাহার করে নিতে বাধ্য হন৷ কারণ তাঁর গবেষণার বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে৷ বহু গবেষণায় জালিয়াতি, অপকৌশল ও অস্বচ্ছতা হয়ত ধরাই পড়ে না৷

জাপানের ‘রিকেন সেন্টার ফর ডেভেলপমেন্ট বায়োলজি'-র বিজ্ঞানী হারুকো ওবোকাটা দেহকোষকে স্টেমসেলে পরিণত করার এক সহজ ‘উপায়' বের করেছেন বলে দাবি করেন৷ কিন্তু প্রখ্যাত বিজ্ঞান বিষয়ক ম্যাগাজিন ‘নেচার'-এ তাঁর গবেষণার ফলাফল তুলে ধরার পরপরই, অন্যান্য বিজ্ঞানীদের সমালোচনা সরব হয়ে ওঠে৷ কেননা এই গবেষণা অনুসারে পরীক্ষা-নীরিক্ষা করেও এই ধরনের ফলাফল পাননি তাঁরা৷ এছাড়া অন্যান্য রচনা থেকে অনুচ্ছেদ ও ছবি নকল করেছেন বলে ওবোকাটাকে দোষারোপ করেন সহযোগী বিজ্ঞানীরা৷

সত্যি হলে দারুণ হতো

এই ধরনের ফলাফল সত্যি হলে দারুণ হতো! কিন্তু কিছু ক্ষেত্রে হতাশ হতে হয় বিজ্ঞানীদের৷ যেমনটি ঘটেছে দক্ষিণ কোরিয়ার পশু চিকিৎসক ওয়াং উ-সুকের ক্ষেত্রে৷ ২০০৬ সালে এই গবেষক জানান, ক্লোন করে মানবভ্রূণের স্টেমসেল বের করতে পেরেছেন তিনি৷ পরে তাঁর গবেষণার ফলাফল ভুয়া প্রতিপন্ন হওয়ায় সৌল ন্যশানাল ইউনিভার্সিটির চাকরিটি হারাতে হয় তাঁকে৷

Haruko Obokata RIKEN Institut in Osaka 09.04.2014

বিজ্ঞানী হারুকো ওবোকাটা

জার্মান পদার্থবিদ ইয়ান হেন্ড্রিক শ্যোন বস্তুর অতিপরিবাহিতা বা সুপার-কন্ডাক্টার সংক্রান্ত গবেষণার কারণে খ্যাতি অর্জন করেছিলেন৷ কিন্তু ২০০২ সালে যখন জানা গেল তাঁর গবেষণার ফলাফল জাল, তখন ধসে পড়লো তাঁর খ্যাতি৷

জার্মান রিসার্চ ফাউন্ডেশন ডিএফজি এই প্রতারণা রোধ করার জন্য একটি কমিটি গঠন করেছে৷ বিজ্ঞানের ক্ষেত্রে জালিয়াতি ধরিয়ে ব্যাপারে বেনামি অভিযোগগুলি পরীক্ষা করে থাকে এই কমিটি৷

‘‘গবেষণাকাজে কারচুপি ব্যাপক কোনো বিষয় নয়৷'' বলেন ডিএফজি-র মুখপাত্র মার্কো ফিনেটি৷ গত ১৫ বছরে ৫০০টি সন্দেহজনক ঘটনা ধরা পড়েছে৷ অধিকাংশ ক্ষেত্রেই ছিল ভ্রান্ত বা অস্বচ্ছ উদ্ধৃতি৷ খুব কম ক্ষেত্রেই পাওয়া গিয়েছে বড় ধরনের জালিয়াতি, জানান ফেনেটি৷

ত্রুটিপূর্ণ লেখা পাওয়া যায়

তবে গবেষণাবিষয়ক ত্রুটিপূর্ণ লেখা যে পাওয়া যায়না তা নয়৷ বলেন ইউরোপীয়ান ‘জার্নাল অফ অরগ্যানিক কেমিস্ট্রি'-র সম্পাদক হাইমো রস৷

কিন্তু এটাও লক্ষ্য রাখতে হবে প্রতি বছর বিজ্ঞানবিষয়ক ১০,০০০ প্রবন্ধ পত্রিকায় প্রকাশের জন্য জমা দেওয়া হয়৷ সে তুলনায় যে কয়েকটি প্রতারণার খবর পাওয়া যায়, তাকে ব্যতিক্রমই বলা যায়, জানান রস৷

Doktorhut einer Chemikerin

গবেষণাগার

কোনো গবেষক লেখক যদি বলতে না পারেন, তাঁর গবেষণার ফলাফলকে কেন অদ্ভুত ও ভুয়া মনে হচ্ছে, তা হলে তাঁর লেখাকে প্রত্যাখ্যান করা হতে পারে৷ আর সিরিয়াস প্রতারণা মনে হলে সেই লেখকের লেখা প্রকাশ করা দীর্ঘ সময়ের জন্য বন্ধ করে দেওয়া হয়, বলেন রস৷

প্রকাশের আগে পরীক্ষা

গবেষণাবিষয়ক লেখা প্রকাশের আগে কমপক্ষে দু'জন বিশেষজ্ঞ তা পড়ে দেখেন৷ এছাড়া বিশেষ সফটওয়ারের সাহায্যে ছবি ও গ্রাফিকগুলি পরীক্ষা করে দেখা হয়৷ তবে যাঁরা প্রতারণা করতে চান, তাঁরা কোনো না কোনো পথ আবিষ্কার করে নিতে পারেন৷

প্রতারণা ও চাতুরির আশ্রয় নেওয়ার কারণও কম নয়৷ মূল কারণ হলো অ্যাকাডেমিক জগতে তীব্র চাপ৷ বলেন ভিলাই-ভিসিএইচ প্রকাশনা প্রতিষ্ঠানের গ্লোবাল কেমিস্ট্রি বিভাগের উপ ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক এফা ভিলে৷

প্রচণ্ড চাপ থাকে

অর্থদাতা ও রাজনীতিবিদদের কাছ থেকে প্রচণ্ড চাপ আসে গবেষকদের ওপর৷ তাঁরা গবেষণাখাতে অর্থ বিনিয়োগের প্রতিদান পেতে চান৷ এশিয়ায় বিশেষ করে চীনে এই চাপটা প্রবল৷ ডক্টরেট করার সময় অন্তত তিনটি পেপার প্রখ্যাত কোনো ম্যাগাজিন বা পত্রিকায় প্রকাশ করতে হয়৷ এই চাপ অনেকেই সামলাতে পারেন না৷ পিছলে পড়েন বৈধ পথ থেকে৷

‘‘পেপারের সংখ্যা ও পত্র-পত্রিকার মান অনুযায়ী গবেষকদের মানও বিচার করা হয়৷'' নামকরা পত্র-পত্রিকায় অসংখ্য লেখালিখি ছাপাতে পারলে অনুদানও সহজে পাওয়া যায়৷ বহুদিন কোনো পেপার প্রকাশ করা না হলে ক্যারিয়ারও নষ্ট হতে পারে৷ তাই নকল করার প্রবণতাও প্রবল হয়ে ওঠে৷

প্রফেসররা সর্বদা ‘ব্যস্ত'

এছাড়া আজকাল প্রফেসররা তাঁদের ছাত্র, গবেষকদের জন্য তেমন সময় দিতে চান না বা পারেন না৷ এফা ভিলে বলেন, প্রফেসররা সবসময় ব্যস্ত থাকেন৷ এক কনফারেন্স থেকে আরেক কনফারেন্সে যেতে যেতেই সময় চলে যায় তাঁদের৷ ছাত্রদের ঠিকমত শিক্ষা দেওয়া ও গবেষণার ফলাফল ভালভাবে পরীক্ষা করার মতো সময় পান না তাঁরা৷ আর তাই রিকেন ইন্সটিটিউটের মতো অস্বস্তিকর ঘটনা ঘটে যায়৷

এফা ভিলে মনে করেন, শিক্ষার্থীদের প্রথম সেমিস্টার থেকেই বিজ্ঞানে নৈতিকতা বিষয়ক শিক্ষা দেওয়া উচিত৷ অবশ্য যাঁদের কাছে খ্যাতির মোহটা প্রবল, নীতিশাস্ত্র তাঁদের তেমন সাহায্য করতে পারবে না৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়