1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বাংলাদেশ

জাপানি নাগরিক হত্যায় পাঁচ জেএমবি জঙ্গির ফাঁসির আদেশ

জাপানি নাগরিক হোশি কুনিও হত্যা মামলায় পাঁচজন জেএমবি সদস্যের ফাঁসির আদেশ দিয়েছে আদালত৷ এছাড়া একজনকে বেকসুর খালাস দেওয়া হয়েছে৷ মঙ্গলবার রংপুরের বিশেষ জজ নরেশ চন্দ্র সরকার এ রায় ঘোষণা করেন৷

ফাইল ফটো

ফাইল ফটো

রায়ের পর্যবেক্ষণে বলা হয়েছে, এই জঙ্গিরা কোরানের অপব্যাখ্যা দিয়ে মানুষ হত্যা করেছে৷ তাদের উদ্দেশ্য ছিল দেশকে অস্থিতিশীল করা৷ মৃত্যুদণ্ড প্রাপ্ত আসামিরা হলো নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন জেএমবির আঞ্চলিক কমান্ডার মাসুদ রানা, ইসহাক আলী, লিটন মিয়া, আহসান উল্লাহ আনসারী ও সাখাওয়াত হোসেন৷ আসামিদের মধ্যে আহসান উল্লাহ আনসারী পলাতক৷ এছাড়া আবু সাঈদ নামে একজনকে খালাস দিয়েছে আদালত৷ এর মধ্যে মাসুদ রানাসহ তিনজন সরাসরি হত্যাকাণ্ডে অংশ নেয়৷ আদালত বলেছে, সরাসরি হত্যাকারী এবং পরিকল্পনাকারী সবাই সমান অপরাধী৷ তাই পাঁচজনকেই মৃত্যুদণ্ড দেয়া হয়েছে৷

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী আব্দুল মালেক ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘আদালত রায়ের বলেছে এদের উদ্দেশ্য ছিল দেশে একটি অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি করা৷ এরা ভেবেছিল বিদেশি নাগরিক হত্যা করলে সরকার বিপাকে পড়বে৷ আর এভাবে তারা সরকারকে বিপদে ফেলে ইসলাম কায়েম করবে৷''

অডিও শুনুন 01:48

‘আসামিরা সরকারকে বিপদে ফেলে ইসলাম কায়েম করতে চেয়েছিল’

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত মাসুদ রানা স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে জানায়, ‘‘জেএমবিতে যোগদানের পর সক্রিয় ভূমিকার কারণে তাকে রংপুরের পীরগাছা থানার দায়িত্বশীল হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়৷ পরে সে আঞ্চলিক কমান্ডারের দায়িত্ব পায়৷ সে তার এলাকায় সহযোগী এছাহাক আলীকে নিয়ে সেখানে জেএমবি সংগঠনের কার্যক্রম চালিয়ে আসছিল৷ তাদের কাজ ছিল, তাদের দৃষ্টিতে যারা ইসলাম বা শরীয়তবিরোধী কাজ করতো তাদের সঠিক পথে আসার জন্য বলা৷ কথা না শুনলে হুমকি৷ এর পরেও কাজ না হলে দলীয় বিধান অনুযায়ী হত্যা করা হতো তাদের৷ বিদেশি নাগরিকদের হত্যার মাধ্যমে দেশকে অস্থিতিশীর করার নির্দেশও ছিল৷ দেশকে অস্থিতিশীল করতে পারলে দেশের অর্থনীতি ভেঙে পড়বে এবং তখন দেশে ইসলামিক অভ্যুত্থান করা সহজ হবে বলে বিদেশিদের হত্যা করার পরিকল্পনা করা হয়েছিল৷ এরই অংশ হিসেবে জঙ্গি সাদ্দাম রংপুরে অবস্থান করে জাপানি নাগরিক হোশি কুনিওকে হত্যার টার্গেট করে৷''

আব্দুল মালেক রায়ের পর্যবেক্ষণ উদ্ধৃত করে জানান, ‘‘দেশকে অস্থিতিশীল করতে এবং দেশের ভাবমূর্তি নষ্ট করার পরিকল্পনার অংশ হিসেবে ২০১৫ সালের ৩ অক্টোবর সকাল সাড়ে ৯টার দিকে রংপুরের কাউনিয়া উপজেলার সারাই ইউনিয়নের কচু আলুটারী গ্রামে রিকশায় করে নিজের ঘাসের খামারে যাওয়ার সময় জাপানি নাগরিক হোশি  কুনিওকে গুলি করে হত্যা করে জঙ্গিরা৷''

ভিডিও দেখুন 00:52

হোশি কুনিও হত্যাকাণ্ডের তীব্র নিন্দা জানালো জাপান

বিচারক তাঁর পর্যবেক্ষণে আরো বলেন, ‘‘পবিত্র কোরানের ভুল ও মনগড়া ব্যাখ্যা দিয়ে জেএমবির জঙ্গিরা ইসলাম কায়েমের নামে মানুষ হত্যা করেছে৷''

পবিত্র কোরানের ‘সুরা মায়েদা'-র উল্লেখ করে বিচারক বলেন, ‘‘সেখানে বলা আছে যদি কোনো ব্যক্তি কাউকে হত্যা করে, তার অর্থ সে পুরো মানব জাতিকে হত্যা করলো৷ পবিত্র কোরানে মানুষ হত্যাকে কখনই সমর্থন করা হয়নি, বরং নিষেধ করা হয়েছে৷ অথচ আসামিরা ইসলামের ভুল ব্যাখ্যা দিয়ে মানুষ খুন করেছে৷''

এ মামলায় বাদী পক্ষে ৫৫ জন এবং আসামি পক্ষের একজন সাফাই সাক্ষীসহ ৫৬ জন আদালতে সাক্ষ্য দেন৷ আসামি মাসুদ রানা, লিটন মিয়া ও ইসহাক আলী ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে হত্যার কথা স্বীকার করে৷

ওদিকে, আসামি পক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট আবুল হোসেন জানান যে, রায়ের বিরুদ্ধে তারা উচ্চ আদালতে আপিল করবেন৷

ভিডিও দেখুন 01:57

‘বিদেশি হত্যার সঙ্গে আইএস-এর সংশ্লিষ্টতা নেই’

নির্বাচিত প্রতিবেদন

এই বিষয়ে অডিও এবং ভিডিও

সংশ্লিষ্ট বিষয়