1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বাংলাদেশ

জানানো হলো সাঁওতাল পল্লীতে আগুন দেয়া পুলিশদের নাম

অবশেষে তদন্ত কমিটি গাইবান্ধার সাঁওতাল পল্লীতে আগুন দেয়ায় জড়িত পুলিশদের পরিচয় পেয়েছে৷ এর আগে গাইবান্ধার সাবেক পুলিশ সুপারের কারণে ওই পুলিশদের পরিচয় সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাচ্ছিল না৷

অবশেষে চিহ্নিত হয়েছেন দুই পুলিশ সদস্য, তারা্ হলেন  গাইবান্ধা পুলিশের গোয়েন্দা (ডিবি) শাখার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মাহবুবুর রহমান ও গাইবান্ধা পুলিশ লাইনসের কনস্টেবল মো. সাজ্জাদ হোসেন৷

গত বছরের নভেম্বরে গাইবন্ধার গোবিন্দগঞ্জে চিনিকলের আখ কাটাকে কেন্দ্র করে সাঁওতাল পল্লীতে আগুন দেয়া হয়৷ তারপর থেকে এই ঘটনায় মোট আটটি মামলা হয়৷ তদন্ত কমিটি গঠন করা হয় তিনটি৷ তার মধ্যে পুলিশের তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে সাঁওতাল পল্লীতে আগুনের ঘটনায় জড়িত দুই পুলিশ সদস্যের নাম- পরিচয় জানা গেল৷

বৃহস্পতিবার হাইকোর্টের বিচারপতি ওবায়দুল হাসান ও বিচারপতি কৃষ্ণা দেবনাথের বেঞ্চে পুলিশের তদন্ত প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মোতাহার হোসেন সাজু৷

অডিও শুনুন 06:16

‘পুলিশের বিরুদ্ধে প্রতিকার পাওয়া-না-পাওয়া পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করে’

তিনি সংবাদ মাধ্যমকে  জানান, ‘‘রংপুর রেঞ্জের ডিআইজির দেয়া প্রতিবেদনে আগুন দেয়ার সঙ্গে জড়িত পুলিশ সদস্য এসআই মাহবুবুর রহমান ও কনস্টেবল মো. সাজ্জাদ হোসেনের নাম রয়েছে৷ তাদের দুজনকে ইতোমধ্যে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে৷’’

প্রতিবেদনে  আরো বলা হয়, ‘‘ঘটনার দিন ওই এলাকায় মোট ৮৫ জন পুলিশ ছিল৷ তাদের মধ্যে ৫৪ জন জেলা পুলিশ, চার জন সুন্দরগঞ্জ থানার পুলিশ এবং ১৪ জন স্পেশাল ফোর্সের পুলিশ৷ এদের সবাইকে নানা জায়গায় বদলি করা হয়েছে৷ গাইবান্ধার তখনকার পুলিশ সুপার মো. আশরাফুল ইসলামকেও খাগড়াছড়িতে বদলি করা হয়েছে৷’’

শুরুতেই অভিযোগ থাকলেও পুলিশ সাঁওতাল পল্লীতে আগুন দেয়ার কথা অস্বীকার করে আসছিল৷ তবে গত ফেব্রুয়ারি মাসে বাংলাদেশ ও আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যমে একটি ভিডিও প্রচার হয়৷ সেখানে দেখা যায় দু'জন পুলিশ সদস্য সরাসরি সাঁওতাল পল্লীতে আগুন দিচ্ছেন৷ এরপরও গাইবান্ধা জেলা পুলিশ কোনো পুলিশ সদস্যের জড়িত থাকার বিষয়টি অস্বীকার করে আসছিল৷

ওই ভিডিও ফুটেজ ধরে হাইকোর্ট এক রিটের বিপরীতে বিচারিক তদন্তের নির্দেশ দেয়৷ তদন্তে দুই পুলিশ সদস্যের জড়িত থাকার প্রমাণ মেলে৷ কিন্তু তখনকার গাইবান্ধার পুলিশ সুপার মো.আশরাফুল ইসলাম তদন্ত কমিটিকে তাদের নাম ঠিকানা দেননি৷ এ কারণে হাইকোর্ট পুলিশ সুপারকে প্রত্যাহারের নির্দেশ দেন৷ পরে তাকে খাগড়াছড়ি বদলি করা হয়৷

৬ নভেম্বর গোবিন্দগঞ্জের রংপুর চিনিকলের জমিতে আখ কাটাকে কেন্দ্র করে পুলিশ ও চিনিকলের শ্রমিক-কর্মচারীদের সঙ্গে সাঁওতালদের সংঘর্ষ হয়৷ তখন সাঁওতাল পল্লীর দুই শতাধিক ঘরে আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটে৷ সংঘর্ষে উভয় পক্ষের অন্তত ২০ জন আহত ও তিন জন সাঁওতাল নিহত হন৷ ঘটনার পর সাঁওতালদের নিরাপত্তা ও ঘটনার তদন্তের নির্দেশনা চেয়ে কয়েকটি সংগঠন হাইকোর্টে রিট করে৷

রিটকারীদের একজন ব্যারিস্টার জ্যোতির্ময় বড়ুয়৷ তিনি ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘পুলিশের একটি প্রবণতা হলো শুরুতেই তারা কোনো ঘটনায় তাদের দায়-দায়িত্ব অস্বীকার করে৷ তাদের কেউ জড়িত থাকলে তারা তাদের আড়াল করার চেষ্টা করে৷ এটা যেমন গাইবন্ধায় হয়েছে, তেমনি রামুর বৌদ্ধ মন্দিরে হামলার ঘটনায়ও ঘটেছে৷’’

তিনি আরো বলেন, পুলিশ যদি দায়িত্ব পালনের নামে অপরাধ করে, তাহলে তাদের বিরুদ্ধে মামলা করতে আইনে কোনো বাধা নেই৷ কিন্তু পুলিশের বিরুদ্ধে মামলা করার সাহস পায়না সাধারণ মানুষ৷ তাছাড়া পুলিশের বিরুদ্ধে মামলা থানাও নেয় না৷ আদালতে করলেও তার তদন্ত আসে পুলিশের কাছে, ফলে কোনো লাভ হয় না৷’’

এ ঘটনায় অভিযুক্ত পুলিশ সদস্যদের চিহ্নিত করতে পারার কারণ জানাতে গিয়ে জ্যোতির্ময় বড়ুয়া বলেন, ‘‘গাইবান্ধার ঘটনায়ও মামলা হতোনা বা পুলিশকে চিহ্নিত করা হতো না, যদি বিষয়টি নিয়ে জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে কথা না হতো৷ বাংলাদেশে পুলিশের অপরাধের বিরুদ্ধে মামলা করে প্রতিকার পাওয়া যায়না- এটাই প্রচলিত ধারনা৷ তাই মামলাও হয় না৷’’

অন্যদিকে ২০১৩ সালে একটি আইন করা হয়েছে৷ সেই আইন অনুযায়ী পুলিশ হেফাযতে কেউ নির্যাতন বা হত্যার শিকার হলে মামলা করা যায়। কিন্তু ব্যারিস্টার জ্যোতির্ময় বলেন, ‘‘পুলিশের বিরুদ্ধে প্রতিকার পাওয়া-না-পাওয়া পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করে৷ আইনের ওপর তেমন নয়৷’’

প্রিয় পাঠক, এই বিষয়ে আপনার মতামত জানান নীচে মন্তব্যের ঘরে...

এই বিষয়ে আমাদের গত নভেম্বরের ছবিঘরটি দেখুন..

নির্বাচিত প্রতিবেদন

এই বিষয়ে অডিও এবং ভিডিও

সংশ্লিষ্ট বিষয়