1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বিশ্ব

জাতীয় সম্প্রচার নীতিমালার খসড়া চূড়ান্ত, উদ্বেগ

বাংলাদেশের মন্ত্রিসভা টেলিভিশন এবং রেডিওর জন্য জাতীয় সম্প্রচার নীতিমালার খসড়া চূড়ান্ত করেছে৷ এতে টক শো-তে মিথ্যা ও বিভ্রান্তিমূলক বক্তব্যের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার বিধান রয়েছে৷

নিষিদ্ধ করা হয়েছে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী নিয়ে কটাক্ষ করা৷ সম্প্রচার কমিশন গঠনের আগেই বাংলাদেশের মন্ত্রিসভা সোমবার সম্প্রচার নীতিমালার খসড়া চূড়ান্ত করল৷ এই নীতিমালার আওতায় রেডিও এবং টেলিভিশনের লাইসেন্স দেওয়ার বিধানও রাখা হয়েছে৷

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে খসড়া অনুমোদনের পর সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ মোশাররাফ হোসাইন ভূইঞা৷ তিনি জানান, ‘‘নীতিমালা অনুযায়ী সশস্ত্র বাহিনী এবং আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় নিয়োজিত কোনো বাহিনীর প্রতি কটাক্ষ বা অবমাননাকর দৃশ্য বা বক্তব্য প্রচার করা যাবে না৷ অপরাধীদের দণ্ড দিতে পারেন এমন সরকারি কর্মকর্তাদের ভাবমূর্তি বিনষ্ট করার মতো দৃশ্য বা বক্তব্যও প্রচার করা যাবে না৷ এছাড়া জনস্বার্থ বিঘ্নিত হতে পারে এমন কোনো বিদ্রোহ, নৈরাজ্য ও হিংসাত্মক ঘটনাও প্রচার করা যাবে না৷''

নীতিমালায় টক শো-তে অসত্য ও বিভ্রান্তিকর তথ্য উপস্থাপন না করার কথা উল্লেখ করা হয়েছে৷ শুধু তাই নয়, নীতিমালায় কোনো জাতি বা জনগোষ্ঠী, দেশের মর্যাদা বা ইতিহাসের জন্য ক্ষতিকর এমন কোনো কিছু এবং বিদেশি রাষ্ট্রের অনুকূলে যায় এমন কিছু প্রচার বা প্রকাশ না করার বিধান রাখা হয়েছে৷


মোশাররাফ হোসাইন ভূইঞা বলেন, সরকারি ও বেসরকারি টিভি – দুটোর ক্ষেত্রেই ওই নীতিমালা কার্যকর করা হবে৷ কমিশন গঠন না হওয়া পর্যন্ত সম্প্রচার নীতিমালা বাস্তবায়নের দায়িত্ব তথ্য মন্ত্রণালয় পালন করবে৷ টিভি এবং রেডিওর মাধ্যমে প্রচারিত সংবাদকে নির্দিষ্ট নীতিমালার আওতায় আনতে এই নীতিমালা প্রণয়ন করা বলে জানান তিনি৷ তবে মন্ত্রিসভায় অনুমোদন হওয়া ‘সম্প্রচার নীতিমালা'-য় গণমাধ্যমের ‘স্বাধীনতা নিয়ন্ত্রণ এবং মতপ্রকাশের অধিকার হরণ করায়' উদ্বেগ ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সাংবাদিক নেতারা৷

বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের একাংশের সভাপতি শওকত মাহমুদ ও মহাসচিব এম এ আজিজ এবং ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের একাংশের সভাপতি আবদুল হাই শিকদার ও সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম প্রধান এক যুক্ত বিবৃতিতে এ উদ্বেগের কথা জানান৷

সাংবাদিক নেতারা এই নীতিমালাকে ‘গণমাধ্যম ধ্বংসকারী' বলে সমালোচনা করে বলেন, ‘‘সরকার আগে সম্প্রচার নীতিমালা ও পরে সম্প্রচার কমিশন গঠন করার উদ্যোগ নিচ্ছে৷ এর মানে হচ্ছে, কমিশনকে এই নীতিমালাই অনুসরণ করতে বাধ্য করা৷ এ অবস্থায় কমিশন সরকারের আজ্ঞাবহ হতে বাধ্য৷''

তাঁরা বলেন, ‘‘এই নীতিমালায় টক শো-কে পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ করার অপচেষ্টা হচ্ছে৷''

সাংবাদিক নেতারা তাই নিরপেক্ষ সম্প্রচার কমিশন গঠন করে গণমাধ্যমের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সবার মতামতের ভিত্তিতে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও উন্নয়নের জন্য একটি সর্বজনগ্রাহ্য সম্প্রচার নীতিমালা তৈরির দাবি জানিয়েছেন৷ এদিকে নীতিমালার অনুমোদন দেয়ার প্রতিবাদে মঙ্গলবার জাতীয় প্রেসক্লাব চত্বরে বিক্ষোভ সমাবেশের ডাক দিয়েছে সাংবাদিকদের এই দুই সংগঠন৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়