1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বিশ্ব

‘জাতীয় লজ্জা' রক্ষায় এগিয়ে আসুন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী

আমাদের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গতবছর চমৎকার একটি মন্তব্য করেছিলেন৷ তিনি বলেছিলেন, বাঘ বাঁচলে বাংলাদেশ বাঁচবে৷ খুবই সত্যি কথা৷ কিন্তু বাঘ বাঁচানোর জন্য আমরা কী করছি?

এ নিয়ে তথ্য খুঁজতে গিয়ে অন্তত দুটি প্রকল্পের কথা জানতে পারলাম৷ একটি ‘বাংলাদেশ টাইগার অ্যাকশন প্ল্যান' ৷ অন্যটি ‘বাঘ প্রকল্প' ৷ প্রথমটি বাস্তবায়ন করছে পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয় এবং বন অধিদপ্তর৷ সহায়তা করছে যুক্তরাষ্ট্র, ব্রিটেন ও স্থানীয় কয়েকটি সংস্থা৷ এই প্রকল্পে কাজ শুরু হয়েছে ২০০৯ সালে, চলবে ২০১৭ সাল পর্যন্ত৷

এদিকে, বাঘ প্রকল্পের কাজের উদ্যোক্তা যুক্তরাষ্ট্রের ইউএসএইড৷ তারা কাজটি বাস্তবায়নের মূল দায়িত্ব দিয়েছে বাংলাদেশের ‘ওয়াইল্ডটিম'-কে৷ সঙ্গে বন রয়েছে অধিদপ্তর ৷ এই প্রকল্পের কাজ শুরু হয়েছে ২০১৪ সালে, চলবে ২০১৮ পর্যন্ত৷

অর্থাৎ একই সময়ে বাঘ রক্ষায় দুটি প্রকল্প বাস্তবায়িত হচ্ছে৷ কিন্তু এই সময়ে এসেই আমরা জানতে পারলাম যে, আমাদের সুন্দরবনে মাত্র ১০৬টি বাঘ আছে৷ ১০ বছর আগে করা জরিপে যে সংখ্যাটা ছিল ৪৪০৷ অবশ্য বলা হচ্ছে আগের জরিপ পরিচালনার নিয়মটি নাকি ত্রুটিপূর্ণ ছিল৷ তাই বাঘের সংখ্যা ৪৪০ থেকে কমে একেবার ১০৬ হয়ে গেছে, সেটা বলা যাবে না৷ বুঝলাম৷ হয়ত ১০ বছরে এতগুলো বাঘ হত্যা করা হয়নি বা ভারতে চলে যায়নি৷ কিন্তু বাঘের সংখ্যা নিশ্চয় কিছু কমেছে৷ অন্তত বিশেষজ্ঞরা তাই বলছেন৷ শিকারি আর চোরাকারবারীদের দৌরাত্মের কারণে নাকি বাঘের সংখ্যা দিন দিন কমছে৷

DW Bengali Mohammad Zahidul Haque

জাহিদুল হক, ডয়চে ভেলে

তবে বাঘের সংখ্যা কমেছে কি কমেনি তা নিয়ে আলোচনা করে লাভ নেই৷ এখন যে ১০৬ টি বাঘ আছে বলে বলা হচ্ছে (এবার নাকি জরিপ প্রক্রিয়া ঠিক ছিল) তার সংখ্যা কীভাবে বাড়ানো যায় সেটা ভাবতে হবে৷ আর ১০৬ থেকে সংখ্যাটা যেন কোনোভাবেই না কমে সেটা নিশ্চিত করতে হবে৷

এই দুটো কাজের জন্যই চলমান প্রকল্পগুলো সফলভাবে বাস্তবায়ন করতে হবে৷ দুটো প্রকল্পের সঙ্গেই যেহেতু সরকারি সংস্থা জড়িত সেহেতু প্রকল্পগুলো অন্য অনেক সরকারি প্রকল্পের মতো সফল নাও হবার আশঙ্কা থেকেই যায়৷ প্রকল্পের টাকায় সরকারি ও প্রকল্প সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের শুধু পকেট ভারিই হতে পারে৷ সেটা যেন না হয় তা নিশ্চিত করতে পারেন একমাত্র প্রধানমন্ত্রী৷ জানি, ছোটখাটো কাজের জন্য প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কাম্য হতে পারে না৷ কিন্তু অতীত অভিজ্ঞতা বলছে, একমাত্র প্রধানমন্ত্রীই যদি কোনো কাজ সফলভাবে করতে নির্দেশ দেন তাহলে সেটা সঠিকভাবে করেন সরকারি কর্মকর্তারা৷ চলমান পদ্মা সেতু নির্মাণকাজে সেটাই দেখা যাচ্ছে৷ প্রধানমন্ত্রীর কড়া নজরদারির কারণে দ্রুতগতিতে এগিয়ে যাচ্ছে সেতুর নির্মাণকাজ৷

এখন প্রশ্ন হলো প্রধানমন্ত্রীর কেন বাঘ রক্ষায় নজর দেয়া উচিত? তিনি নিজেই বলেছেন, বাঘ বাঁচলে বাংলাদেশ বাঁচবে৷ সুতরাং তিনিই ভালোভাবে বোঝেন কেন বাঘ রক্ষা জরুরি৷ এছাড়া প্রধানমন্ত্রী ক্রিকেটের বিশেষ ভক্ত৷ আর আমাদের ক্রিকেটারদের সারা বিশ্ব চেনে রয়েল বেঙ্গল টাইগার নামে৷ যে বাঘের নামে আমাদের সবাই চেনে সেটার অস্তিত্বই যদি না থাকে তাহলে সেটা নিশ্চয় ভালো কোনো কথা নয়৷ নজরদারি না বাড়ালে বাঘের সংখ্যা ১০৬ থেকে কমে অস্তিত্বহীন হয়ে পড়তে হয়ত বেশি সময় লাগবে না৷ অর্থাৎ একটা দেশ তখন জাতীয় প্রাণীশূন্য হয়ে পড়বে, যেটা হবে খুবই লজ্জার৷

কারণ আরেকটি আছে৷ বিশ্বব্যাপী বাঘের সংখ্যা ২০২২ সালের মধ্যে দ্বিগুন করার পরিকল্পনা করেছে ‘গ্লোবাল টাইগার ইনিশিয়েটিভ' বা জিটিআই৷ বাংলাদেশ এই উদ্যোগের এক অংশীদার৷ ২০১০ সালে রাশিয়ায় অনুষ্ঠিত এক সম্মেলনে এই পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়৷ সেখানে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা৷ এছাড়া গত বছর ঢাকায় জিটিআই এর একটি সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে৷ সেটি উদ্বোধন করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী৷ এর মাধ্যমে বাঘের ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রীর যে আগ্রহ আছে সেটা বোঝা যায়৷ এখন শুধু সেই আগ্রহটাকে কাজে লাগাতে হবে৷ প্রধানমন্ত্রীর উচিত হবে সুন্দরবন থেকে শিকারি ও চোরাকারবারীদের হটাতে সংশ্লিষ্টদের কঠোর নির্দেশ দেয়া৷ বঙ্গবন্ধুর কন্যা নিশ্চয় সেটা করবেন৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন