1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

সমাজ সংস্কৃতি

জাতিসংঘের ১৩২৫ নম্বর প্রস্তাবের দশ বছর

জাতিসংঘের এই প্রস্তাব বিভিন্ন সংঘাত এবং সংঘর্ষ নিরসনে নারীদের এগিয়ে আসতে উদ্বুদ্ধ করেছে৷ বলা হয় সংঘর্ষ, সংঘাত মোকাবিলায় নারীদের মতামত, সক্রিয়তা জরুরি৷ কিন্তু প্রস্তাবে যা বলা হয়েছে তা কি অক্ষরে অক্ষরে পালন করা হচ্ছে?

Nobel, Peace, Prize, winner, Shirin, Ebadi, United, Nations Security, Council Resolution 1325, Women, জাতিসংঘ, ১৩২৫ নম্বর,

জাতিসংঘের ১৩২৫ নম্বর প্রস্তাবের দশ বছর পূর্তি অনুষ্ঠানে নোবেল শান্তি পুরস্কার বিজয়ী শিরিন এবাদি

জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে ১৩২৫ নম্বর প্রস্তাবটি গৃহীত হয় ২০০০ সালে৷ প্রস্তাবের মূল লক্ষ্য - বিভিন্ন ধরণের সংঘাত এবং সংঘর্ষ মোকাবিলায় নারীদের সক্রিয় করা৷ যে সব নারী এসব সংঘর্ষের শিকার তাদের সমাজে একাত্ম করা, তাদের সমস্যার আলোকে সামাধান খুঁজে বের করা৷ এছাড়া শান্তি রক্ষার বিভিন্ন উদ্যোগেও নারীদের সম্পৃক্ত করা৷ একারণেই জাতিসংঘের দাবি ছিল, সদস্যদেশগুলো এই প্রস্তাব অনুযায়ী নিজ নিজ দেশে কাজ করবে৷ এবং জাতিসংঘে প্রতিবছর সে বিষয়ে নিয়মিত প্রতিবেদন পাঠাবে৷

কিন্তু সব দেশ যে প্রস্তাব মেনে কাজ করে যাচ্ছে তা নয়৷ এক্ষেত্রে জার্মানির দিক থেকেও তেমন উদ্যোগ নেই বলে অভিযোগ করা হচ্ছে৷ বেশ কিছু সংগঠন জার্মানিতে রয়েছে যারা শান্তি রক্ষা এবং শান্তি প্রতিষ্ঠায় বেশ সক্রিয়ভাবেই কাজ করছে৷ এসব সংগঠন এই প্রশ্নে সরকারের খোলাখুলি সমালোচনা করেছে৷ শান্তি রক্ষায় কাজ করে যাচ্ছেন উটে শয়েব৷ তাঁর দাবি, জার্মানি যে সব দেশে শান্তি রক্ষায় কাজ করছে অর্থাৎ বিভিন্ন ‘পিস মিশন'-এ লোক পাঠাচ্ছে সেখানে বেশি করে নারীদের নিয়োগ করা উচিৎ৷ নারী নিরাপত্তা পরিষদ প্রসঙ্গে তিনি জানান,‘‘ ২০০৩ সালে নারী নিরাপত্তা পরিষদ গঠন করা হয়৷ এর সঙ্গে অন্য কোন সংস্থা বা সংগঠনের সম্পর্ক নেই৷ সংগঠনটি স্বাধীনভাবে কাজ করছে৷ আমরা নিজেদের দেখছি এমন একটি সংগঠন হিসেবে যে সংগঠনটি ১৩২৫ প্রস্তাবটি কার্যকর করা হচ্ছে কিনা সেদিকে নজর রাখবে৷ জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে জাতিসংঘের প্রস্তবটি কতটা গুরুত্বের সঙ্গে গ্রহণ করা হয়েছে বা হচ্ছে আমরা তা জানতে চাই৷ সামরিক বা বেসামরিক শান্তি রক্ষী মিশনগুলোতে কতজন নারী নিয়োগ করা হয়েছে তা জানতে চাই৷''

গত সপ্তাহে বিশ্ব ব্যাংকের সদর দপ্তরে জাতিসংঘের বিশেষ প্রতিনিধি মার্গট ওয়ালস্ট্রম ‘নারী এবং যুদ্ধ' নামক একটি সম্মেলনে নারীর ওপর অত্যাচারের বেশ কিছু দিক তুলে ধরেন৷ এর মধ্যে ছিল যুদ্ধাবস্থায় অল্পবয়স্ক মেয়ে এবং মহিলাদের ধর্ষণের কথা৷ আক্ষেপের সঙ্গে তিনি জানান,‘‘আমি প্রায়ই শুনি সংঘাত বা যুদ্ধের সময় একটি মেয়েকে বা বেশ কিছু মেয়েকে ধর্ষণ করা হয়েছে– এটা যেন খুবই স্বাভাবিক৷ এটা যেন যুদ্ধের বিভিন্ন ক্ষয়ক্ষতির একটি অংশ হিসেবে ধরতে হবে৷''

বেশ জোর দিয়েই তিনি বলেন, ‘‘ব্যাপারটা আর এত সহজে আমরা মেনে নেব না৷ কারণ যুদ্ধের সময় এ ধরণের ঘটনা ঘটানো অন্যায়৷ মানবাধিকারের চরম লংঘন এটি৷ এর সঙ্গে সংস্কার, ঐতিহ্য বা একটি মেয়েকে ভাললাগা বা ভালবাসা জড়িত নয়৷ এটি অমানবিক, পাশবিক৷ ''

বাস্তব সত্য হল, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রায় দশ বছর সময় লেগেছে যুদ্ধাবস্থায় ‘ধর্ষণ গ্রহণযোগ্য নয়' এই কথাটি নির্দিষ্ট করতে৷

জার্মানির বিভিন্ন শান্তি রক্ষী মিশনে সামরিক এবং বেসামরিক মানুষ কাজ করছে৷ এর মধ্যে সেনা থেকে শুরু করে পুলিশ এবং সাধারণ মানুষও রয়েছে৷ কসোভোয় রয়েছে ১৫ জন মহিলা পুলিশ, তারা কাজ করছে জাতিসংঘের শান্তি মিশন উনমিকে৷ বসনিয়ায় মাত্র তিনজন এবং লাইবেরিয়ায় কয়েকজন মহিলা পুলিশ কর্মরত৷ এসব মিশনের জন্য লোক নিয়োগ করতে প্রয়োজন প্রচুর অর্থের৷ জার্মান সরকার এই খাতে বাজেট বাড়াতে নারাজ৷ তবে অন্য খাতে জার্মান সরকার অর্থ খরচ করতে কার্পণ্য করেনি৷ জানান ক্ষমতাসীন জোটের বড় শরিক সিডিইউ-র সাংসদ পেটার বায়ার৷ পেটার বললেন,‘‘ জাতিসংঘের মহিলাদের সংস্থা ইউএন ওম্যান প্রতিষ্ঠিত করতে জার্মানি প্রচুর অর্থ দিয়ে সাহায্য করেছে৷ আগামী বছরের শুরুতে এই সংস্থা কাজ শুরু করবে৷ নারী অধিকার আদায়ে এই সংস্থা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে৷ জার্মানি শুরু থেকেই এই সংস্থাকে সমর্থন করে আসছে৷''

সারা বিশ্বে জাতিসংঘের প্রায় ১ লক্ষ কুড়ি হাজার মনুষ বিভিন্ন শান্তি মিশনে কাজ করছে৷ এর মধ্যে নারী-পুরষ মিলিয়ে জার্মানির মাত্র ২৬২ জন সেনা রয়েছে৷ আর বেসামরিক বিশেষজ্ঞ রয়েছেন ২৫৯ জন৷ এত অল্প সংখ্যক মানুষ কাজ করছে এর মূল কারণ হল অর্থ সংকট৷ শান্তি মিশনে বাজেট কমিয়েছে জার্মান সরকার৷ এর তীব্র সমালোচনা করেন বামপন্থী ডি লিংকে'র কাটরিন ফলগার৷ কাটরিন ফলগারের ক্ষোভ,‘‘ যুদ্ধ-বিধ্বস্ত বা সংঘর্ষে জর্জরিত দেশে যে কোন মেয়েকে রক্ষা করার মূলমন্ত্র হল যুদ্ধ-সংঘাত-সংঘর্ষ রোধে কাজ করা৷ অথচ সরকার তেমন কিছুই করছে না৷ সংঘাত এবং সংঘর্ষ রোধের সঙ্গে সম্পর্কিত প্রকল্পগুলোর বাজেট কমানো হয়েছে প্রায় ৩০ শতাংশ৷ অন্যদিকে জার্মান সেনাবাহিনীর জন্য প্রায় চারশো মিলিয়ন ইউরো ধার্য করা হয়েছে৷ এটা একটি চরম রসিকতা ছাড়া আর কিছুই না৷''

প্রতিবেদন: মারিনা জোয়ারদার

সম্পাদনা: আবদুল্লাহ আল-ফারূক

নির্বাচিত প্রতিবেদন