1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

ভারত

জাঁকজমকপূর্ণ বিয়েকে বিদায় জানাও

ভারতীয় বিয়েতে লাগামহীন ব্যয়ের উপর রাশ টেনে ধরতে গত মাসে একটি নতুন বিল উত্থাপন করা হয়েছে সংসদে৷ আগামী অধিবেশনে বিলটির ওপর আলোচনা হতে পারে৷ বিলটি যিনি তুলেছেন সেই সাংসদের সঙ্গে কথা বলেছে ডয়চে ভেলে৷

ভারতে প্রায়ই আলোচিত হয় নানা ব্যয়বহুল বিয়ের আয়োজন৷ আর এ ধরনের বিয়েতে ব্যয় কমাতেই ফেব্রুয়ারিতে বিল উত্থাপন করা হয় সংসদে৷ এটি লোকসভায় অনুমোদিত হলে ভারতীয় বিয়ে শিল্পে বড় ধরনের অপচয় রোধ সম্ভব হবে বলে মনে করা হচ্ছে৷ প্রস্তাবিত বিল পাশ হলে তা শুধু বিয়ের খরচই কমাবে না, বরং ব্যয়বহুল বিয়ের ওপর বসবে বড় ধরনের ট্যাক্স বা করও৷ অর্থাৎ পাঁচ লাখ রুপি মোট খরচ হলে তার ওপর ট্যাক্স হবে আরো শতকরা ১০ ভাগ৷

সাম্প্রতিক সময়ে কয়েকটি ব্যয়বহুল বিয়ের আয়োজনে সমালোচনা দেখা দেয়ার পর এ ধরনের একটি বিল এলো ভারতের সংসদে৷ গত বছরই বিলটি নিয়ে আলোচনা হয়৷ ভারতে কয়েক বছর ধরে বিয়েতে প্রচুর খরচ করতে দেখা যাচ্ছে ধনীদের৷ বিয়েতে কোটি কোটি অর্থ ব্যয় হয়৷ পাঁচ তারকা হোটেলে বিয়ের আয়োজন, বলিউড তারকাদের অংশগ্রহণ, হেলিকপ্টারে করে বর আগমন-এমন নানা ধরনের আয়োজন দিন দিন বাড়ছে৷ সে তুলনায় গরিব পরিবারের বিয়েতেও এর সঙ্গে পাল্লা দেয়ার একটা প্রবণতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে৷ আর সেই রাশ টানতেই নতুন এ বিল৷

বিয়ে আয়োজন করে এমন কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের দেয়া হিসেব অনুযায়ী, দক্ষিণ এশিয়ার এই দেশটিতে প্রতি বছর ১ কোটি ২০ লাখ বিয়ের অনুষ্ঠান হয়৷ আর এ সব বিয়েতে খরচ হয় ২ হাজার ৫০০ কোটি মার্কিন ডলার, প্রতি বছর যে ব্যয় শতকরা ৩০ ভাগ বাড়ছে৷ মূলত বিয়ে হয়ে উঠেছে সম্পদ প্রদর্শনের এক মাধ্যম৷

ফোর্বস ম্যাগাজিনের মতে ভারতের দ্বিতীয় ধনী ব্যক্তি লক্ষ্মী মিত্তালের মেয়ের বিয়েতে ব্যয় হয়েছে আনুমানিক ৭ কোটি ৪০ লাখ মার্কিন ডলার৷ দিল্লির এমপি রনজিত রঞ্জন, যিনি বিলটি এনেছেন সংসদে, তার মতে বিয়েটা এখন নিজের সম্পদ দেখানোর বিষয়ে পরিণত হয়েছে৷ এর ফলে দরিদ্র পরিবারগুলোর ওপর চাপ বাড়ছে৷ এক্ষেত্রে একটা ভারসাম্য দরকার৷ কারণ এটি সমাজের জন্য ভালো নয়৷

ডয়চে ভেলে: এ ধরনের বিল উত্থাপন করার পেছনে আপনার মূল উদ্দেশ্যটা কী?

রনজিত রঞ্জন: সমস্যাটা হচ্ছে বিত্তবানদের বিয়ে দেখে মধ্যবিত্ত ও নিম্ন মধ্যবিত্ত পরিবারের তরুণদের মধ্যেও এক ধরনের আগ্রহ তৈরি হয়, তারাও স্বপ্ন দেখে বিশাল আয়োজনে বিয়ে করার৷ একজন মানুষ তার সারাজীবনের সঞ্চয়ের এক পঞ্চমাংশ খরচ করে বিয়েতে৷ কখনও কখনও জমি বন্ধক রাখে৷ এ ধরনের অপচয়ের কোনো মানে হয় না৷ তাই আমি এই বিল উত্থাপন করেছি৷

এই বিলের গুরুত্বটা কী?

কোনো পরিবার যদি বিয়েতে ৫ লাখ টাকার বেশি খরচ করতে চায়, তাকে আগেই সেটা জানাতে হবে এবং সেটার উপর ১০ ভাগ কর দিতে হবে, যেটা জমা হবে সমাজ কল্যাণ তহবিলে৷ আর এই অর্থ দেয়া হবে গরিব পরিবারগুলোকে যারা তাদের মেয়ের বিয়ে দিতে হিমশিম খাচ্ছে৷ এছাড়া এই বিলের আওতায় বিয়েতে অতিথির সংখ্যা নির্দিষ্ট করে দেয়া হবে এবং খাবারের কয়টা ‘আইটেম' বা পদ থাকবেও সেটাও সীমিত করে দেয়া হবে৷ কেননা এ সব বিয়েতে প্রচুর খাবার অপচয় হয়৷

দিল্লির এমপি রনজিত রঞ্জন

দিল্লির এমপি রনজিত রঞ্জন

কিন্তু যেসব বিত্তবান মানুষ তাদের সন্তানের বিয়েতে ‘শো-অফ' করতে চায় এই বিল তাদের বিপক্ষে যাচ্ছে না?

এটা এমন একটি দেশ যেখানে অনেক মানুষের দুইবেলা দুমুঠো খাবার জোটে না, এমনকি লাখো মানুষ অভুক্ত থাকে, সেখানে এ ধরনের জাঁকজমকপূর্ণ বিয়ের কোনো মানে হয় কি? গত নভেম্বরেই মেয়ের বিয়েতে পাঁচদিনের অনুষ্ঠান করেছেন ভারতীয় ব্যবসায়ী ও সাবেক প্রতিমন্ত্রী জি জনার্দন রেড্ডি৷ ধারণা করা হয় তাতে খরচ হয়েছে প্রায় পাঁচশ কোটি রুপি৷ এ নিয়ে তীব্র সমালোচনা হয়েছে৷

যদি বিলটি অনুমোদিত হয় এবং আইনে পরিণত হয়, তাহলে কি আসলেই বিয়েতে ব্যয়ের পরিমাণ কমবে বলে আপনার ধারণা?

জাম্মু-কাশ্মীরের সরকার কিন্তু এরই মধ্যে এ ধরনের বিশাল আয়োজনের বিয়ের উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে৷ আমরা যেসব পদক্ষেপের কথা বলছি, তারা আগামী এপ্রিল থেকে সেটা কার্যকর করবে৷ ছেলে ও মেয়ে বিপক্ষে নিমন্ত্রিত অতিথির সংখ্যা ৪০০ থেকে ৫০০ মধ্যে রাখতে হবে৷ তারা যদি এটা করতে পারে, তাহলে ভারতের বাকি অংশে কেন এটা সম্ভব নয়?

প্রতিবেদন: মুরালি কৃষ্ণাণ/এপিবি

সম্পাদনা: দেবারতি গুহ

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়