1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

ভারত

জলাভূমি বাঁচাতে লড়াই

পশ্চিমবঙ্গে ৫৪ বিঘার এক বিশাল জলাশয় বুজিয়ে পাতা হবে রেলপথ৷ এই পরিবেশ বিরোধী সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে একজোট হয়েছেন এলাকার মানুষ, চলছে বিক্ষোভ৷

বিতর্কের মূলে এক বিরাট জলাশয় ও তার ভরসায় বেঁচে থাকা এক অখ্যাত গ্রাম৷ দুয়েরই নাম ভাবাদীঘি৷ ব্লক গোঘাট ১, থানা গোঘাট, মহকুমা আরামবাগ, জেলা হুগলি৷ ১৯৯৯ থেকে ২০০০ সালে রাজ্যের বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি রেলমন্ত্রী থাকার সময়, তারকেশ্বর থেকে বিষ্ণুপুর পর্যন্ত রেললাইন সম্প্রসারণের সিদ্ধান্ত নেন৷ সেই মতো জরিপ করে রেল প্রস্তাবিত লাইনের ম্যাপ বানায়৷ ২০০৯ সালে মমতা ব্যানার্জি ফের রেলমন্ত্রী হলে লাইন বসানোর কাজ গতি পায়৷ ধাপে ধাপে তারকেশ্বর থেকে আরামবাগ, আরামবাগ থেকে গোঘাট ট্রেন চলাচল শুরু হয়৷ আর এদিকে বিষ্ণুপুর থেকে ময়নাপুর পর্যন্ত রেল চালু হয়ে যায়৷ কিন্তু সেই ২০১০ থেকে আজ অবধি গোঘাট ও ময়নাপুরের মধ্যে রেল যাতায়াত চালু হওয়া পরের কথা, রেল লাইনও পাতা হয়নি৷

অডিও শুনুন 02:51

গ্রামবাসী আন্দোলনের অন্যতম নেতা দিলীপ পণ্ডিতের সাক্ষাৎকার

এবার অবশ্য হঠাৎই সেই কাজ গতি পেয়েছে৷ তবে বদলে গিয়েছে রেলপথের নকশা৷ প্রস্তাবিত লাইনটি ভাবাদীঘির উত্তর দিকে অন্তত ২০০ মিটার দূরত্বে মাঠের মধ্যে দিয়ে যাবার কথা ছিল৷ গ্রামবাসীদের অভিযোগ, ২০০৯ সালে কাজ শুরু হলে দু'বার লাইনের ম্যাপ বদলে ফেলা হয়৷ দ্বিতীয় ম্যাপে ভাবাদীঘির উত্তরপাড় দিয়ে (জল না ছুঁয়ে) লাইন যাবে এমন কথা রেলের তরফে ছড়িয়ে দেওয়া হয়৷ আর এখন সিদ্ধান্ত হয়েছে, রেল লাইন যাবে দীঘির মাঝখান দিয়ে৷ দীঘি বুজিয়ে দু'ভাগ করে৷ ২০১০ সালের শেষদিকেই এটা গ্রামবাসীরা বুঝতে পারেন৷ গোটা গ্রাম বেঁকে বসে৷ অভিযোগ, পার্শ্ববর্তী গোলপুর গ্রামের প্রভাবশালী জনৈক পিডাব্লিউডি অফিসারের খাতিরেই রেল এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছে৷ ঐ অফিসারের ধানজমির উপর দিয়ে রেলপথ যাবার কথা হয়েছিল৷

ভাবাদীঘির মাপ ৫৪ বিঘে৷ তাকে ঘিরে শ'‌দুয়েক ঘরের ভাবাদীঘি গ্রাম৷ গ্রামবাসীদের ৯৬ দশমিক ৩৯ শতাংশ তপশিলি জাতিভুক্ত৷ চাষের মাঠে জনমজুরিই প্রধান পেশা৷ খুব কম লোকের সামান্য নিজস্ব জমি আছে৷ সঙ্গে রয়েছে গরু, হাঁস, মুরগি পালন আর মাছচাষ৷ জনজীবন অনেকটাই ভাবাদীঘির ওপর নির্ভরশীল৷ সেই দীঘি বোজানোর বিরুদ্ধে সঙ্গত কারণেই একজোট হয়েছেন সবাই৷ আদালতে মামলা করে আজ ছ'বছর হয়ে গেল, এলাকার মানুষই আটকে রেখেছেন সরকারের এই পরিবেশবিরোধী হঠকারিতাকে৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

কিন্তু শেষ বিধানসভা ভোটের পর পরিস্থিতি দ্রুত বদলাতে শুরু করে৷ আরামবাগের সাংসদ অপরূপা পোদ্দার নাকি বোঝাতে শুরু করেন, এটা স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রীর স্বপ্নের প্রকল্প৷ কাজেই দীঘি বুজিয়ে রেললাইন অবশ্যম্ভাবী৷ তাঁর যুক্তি, দীঘির উপর দিয়ে রেললাইন যাওয়া মানে দীঘি নষ্ট হওয়া নয়৷ দু'ভাগ হওয়া৷ দু'পাড়ের মানুষ দু'টো দীঘি পাবে৷ আর যদি নষ্ট কিছুটা হয়ও তিনি বাড়ি বাড়ি সজলধারার ট্যাপকল বসিয়ে দীঘির অভাব মিটিয়ে দেবেন৷ গ্রামবাসীরা এতে আরও রুষ্ট হন৷ ৫১টি পরিবারকে একটা করে চাকরি দেওয়া হবে, এমন প্রতিশ্রুতিও দেওয়া হয়৷ প্রথম যখন পাট্টা বিলি হয়, এখানে শরিক ছিলেন ৫১৷ এখন পরিবারের সংখ্যা ২৫০৷ মাত্র ৫১ জনের চাকরির নামে প্রশাসন গ্রামে লড়াই লাগাতে চাইছে কেন, সেই প্রশ্নও ওঠে?

অভিযোগ, তখন থেকেই শুরু হয়েছে সরাসরি আক্রমণ৷ স্থানীয় নেতা কর্মী, যাঁরা দীঘি বাঁচানোর আন্দোলনে নেতৃত্ব দিচ্ছিলেন, তাঁদের সরিয়ে আসরে নামে গুন্ডাবাহিনী৷ নেতৃত্বে এলাকার বিধায়ক মানস মজুমদার৷ মহিলাদের ধর্ষণ, পুরুষদের খুন, তেমন হলে গ্রাম গুঁড়িয়ে দিয়ে রেল লাইন পাতার হুমকি দেওয়া হতে থাকে প্রকাশ্যে৷ ভয় দেখাতে এখন প্রায় প্রতি রাতে বাইকবাহিনী ঢুকছে গ্রামে৷ কেসের শুনানিতে যোগ দিতে গেলে নেমে আসছে বাধা৷ রাতে গা ঢাকা দিতে হচ্ছে শহরের কাছে কোনো চেনা মানুষের বাড়ি, যাতে সকালে নির্বিঘ্নে কোর্টে যাওয়া যায়৷

সর্বশেষ খবর, গ্রামের মহিলারা ঘিরে রেখেছেন দীঘি৷ মহিলা পুলিশ সঙ্গে নিয়ে র‌্যাফ আর পুলিশের বিশাল বাহিনী ঢুকছে এলাকায়৷ আশেপাশের বিভিন্ন থানা থেকে অতিরিক্ত পুলিশ আসছে৷ একদিকে জড়ো হওয়া পুলিশের প্রচ্ছন্ন হুমকি, অন্যদিকে শাসানি স্থানীয় তৃণমূল কংগ্রেস নেতাদের৷ ভাবাদীঘি বাঁচাতে মরিয়া মানুষ তৃণমূলের পার্টি অফিস ভেঙে গুঁড়িয়ে দিয়েছে৷ স্থানীয় তৃণমূল নেতা উত্তম রায়কে ঘিরে ধরেছিলেন গ্রামবাসীরা৷ কারণ এলাকা থেকে পুলিশ ক্যাম্প তুলে নেওয়ার দাবিতে গ্রামের যাঁরা সই দিয়েছিলেন, তাঁদের বাড়িতে ঢুকে উত্তম রায় পিটিয়েছেন বলে অভিযোগ৷ বাধা দিতে গিয়েছিলেন স্থানীয় যুবক সুকুমার৷ তাঁকেও তুলে নিয়ে গিয়ে মিথ্যে মামলায় পুলিশ ফাঁসিয়েছে বলে অভিযোগ৷

এই বিষয়ে অডিও এবং ভিডিও

সংশ্লিষ্ট বিষয়