1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বিশ্ব

জলবায়ু পরিবর্তন রোধ করা না গেলে বাড়বে জিকার প্রকোপ

জার্মানির প্রখ্যাত জীবাণু বিশেষজ্ঞ এমি ভিটোর ডয়চে ভেলেকে এক একান্ত সাক্ষাৎকারে বলেছেন যে, তাঁর ধারণা জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে জিকা ভাইরাসের বিস্তার আরো বাড়বে৷ সেই সাক্ষাৎকারের একটা অংশই এখানে তুলে ধরা হলো৷

ডিডাব্লিউ: জিকা ভাইরাস কী ও তা কতটা বিপজ্জনক?

এমি ভিটোর: জিকা ভাইরাস ডেঙ্গি ভাইরাসের এক ঘনিষ্ঠ আত্মীয়৷ জিকা ভাইরাস একটি মশাবাহিত ভাইরাস, যা থেকে সাধারণত কোনো রোগের লক্ষণ দেখা দেয় না, অথবা সামান্য কিছু জ্বরজারি হয়৷ তবে সন্তানসম্ভবা মহিলারা এই ভাইরাস থেকে সংক্রমিত হলে, পেটের সন্তানের মাইক্রোসেফালি নামের একটি ‘বার্থ ডিফেক্ট' দেখা দিতে পারে, যা থেকে নবজাতকের মাথা কিছুটা ছোট হয়৷

জিকা ভাইরাস ছড়ায় কী করে?

জিকা ছড়ায় দু'টি খুব প্রচলিত মশা থেকে, যাদের ল্যাটিন নাম ‘এডিস এজিপ্টাই' ও ‘এডিস আলবোপিক্টাস'৷ এই ভাইরাস আফ্রিকা ও এশিয়ার জঙ্গল এলাকা থেকে সারা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়েছে, বিশেষ করে শহরাঞ্চলে, যেমন মশা, তেমনই মানুষদের মধ্যে৷

Aedes aegypti mosquito - Zika Virus

জিকা ভাইরাসবাহী মশা

জিকা ভাইরাস কী ধরনের পরিবেশে বাড়তে পারে, বিশেষ করে ব্রাজিলে?

ব্রাজিল এবং অন্যত্র আমরা দেখি, মানুষজন জানলা-দরজায় জাল লাগান না, বাড়িতেও ‘এয়ারকন্ডিশনিং' থাকে না, অথচ তারা কর্মসূত্রে বাড়ির বাইরে সময় কাটাতে বাধ্য হন৷ বাড়ির কাছে হয়ত পুকুর বা খানাডোবা থাকে, কেননা বাড়িতে কলের জল নেই কিংবা টিউবওয়েল নেই৷

ওদিকে আমরা ডেঙ্গি জ্বর থেকে অনেক কিছু শিখতে পারি, কেননা আমাদের জিকা ভাইরাস সম্পর্কে বিশেষ কিছু জানা নেই৷ পরিবেশগতভাবে বলতে গেলে, উষ্ণ তাপমাত্রায় ডেঙ্গি ভাইরাস মশার ভিতর ভালোভাবে বংশবৃদ্ধি করতে পারে৷ জিকার ক্ষেত্রেও সম্ভবত তা প্রযোজ্য, যদিও আমরা সঠিক করে বলতে পারি না৷ আর্দ্রতাও মশাদের বংশবৃদ্ধির পক্ষে অনুকূল৷

Infografik Die Ausbreitung des Zika-Virus Englisch

দ্রুত ছড়াচ্ছে জিকা ভাইরাস

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংগঠন বা ডাব্লিউএইচও এডিস এজিপ্টাই মশার বিস্তারের জন্য এল নিনিও-র প্রভাবকে দায়ী করেছে৷ এই দুই-এর মধ্যে সত্যিই কি কোনো সংযোগ আছে?

ব্রাজিলের সংশ্লিষ্ট এলাকাগুলিতে এডিস এজিপ্টাই মশার সংখ্যা বেড়েছে বলে আমি দেখিনি৷ তবে দক্ষিণ অ্যামেরিকার অন্যান্য দেশ থেকে তেমন খবর পাওয়া গেছে বটে৷ ডেঙ্গি রোগও বেড়েছে অনুরূপ হারে৷ তবে এলি নিনিও-র প্রভাব সব এলাকায় একরকম হয় না; কোথাও বৃষ্টি বাড়ে, আর্দ্রতা বাড়ে, আবার কোথাও কমে৷ তার ফলে মশার সংখ্যা সম্ভবত বাড়ে কিংবা কমে৷ হয়ত এগুলোর মধ্যে কোনো সংযোগ আছে৷

জলবায়ু পরিবর্তন আর মশকবাহিত রোগের মধ্যে সম্পর্কের ব্যাপারে আমরা কতটুকু জানি?

Brasilien - Forschung Zika Virus - Mikrozephalie

বিজ্ঞানীরা জিকা ভাইরাস সম্পর্কে আরো তথ্য খোঁজার চেষ্টা করছেন

সব কিছু দেখে মনে হয় যে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে ডেঙ্গি এবং জিকা ভাইরাসের বিস্তারের পক্ষে অনুকূল পরিস্থিতি সৃষ্টি হবে; দক্ষিণ অ্যামেরিকায় তা আরো দক্ষিণ দিকে যাবে; দক্ষিণ ইউরোপ থেকে উত্তরমুখে ছড়াবে৷

মধ্য আফ্রিকা আর পূর্ব এশিয়ায় উভয় ভাইরাসের পরিধি বাড়বে৷ উত্তর আর উত্তর-পূর্ব অস্ট্রেলিয়ায় এডিস আলবোপিক্টাস মশার সংখ্যা বাড়তে পারে৷ সব মিলিয়ে এজিপ্টাই ও আলবোপিক্টাস, এই দুই ধরনের মশার বিস্তার যে ক্রমাগত বেড়ে চলেছে, তার সঙ্গে জলবায়ু পরিবর্তনের সংযোগ থাকতে পারে৷

এমি ভিটোর ইউনিভার্সিটি অফ ফ্লোরিডার ইমার্জিং প্যাথোজেন্স ইনস্টিটিউটের অ্যাসিস্ট্যান্ট প্রফেসর অফ মেডিসিন৷

আপনি কী মনে করেন বন্ধু? জিকা ভাইরাসের সঙ্গে কি জলবায়ু পরিবর্তনের কোনো সম্পর্ক থাকতে পারে? জানান নীচের ঘরে৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়