1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বিজ্ঞান পরিবেশ

জলবায়ু পরিবর্তন থেকে আর্থিক সুবিধা লাভের চিন্তা করছে চীন

জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধির ক্ষতিকর দিক নিয়ে বিশ্বব্যাপী হৈচৈ হলেও কয়েকটি দেশ এ থেকে কিছু কিছু ক্ষেত্রে বিপুল আর্থিক সুবিধার সম্ভাবনা দেখছে৷ এই যেমন চীন৷

default

উত্তর মেরুতে বরফ গলতে শুরু করেছে

জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে উত্তর মেরুতে বরফ গলতে শুরু করায় চীন থেকে জাহাজগুলোর রপ্তানি দ্রব্য নিয়ে ইউরোপ ও উত্তর অ্যামেরিকায় যাবার জন্য নুতন পথের সৃষ্টি হবে৷ এতে এখনকার পথ থেকে প্রায় ৬,০০০ কিলোমিটার রাস্তা কমে যাবে বলে গবেষণায় পাওয়া গেছে৷ এর ফলে যে পরিবহন ব্যয় কমবে তা চীনের মোট জাতীয় উত্পাদনের প্রায় অর্ধেক হতে পারে বলে প্রাথমিক এক হিসেবে দেখা গেছে৷

২০১৩ থেকে ২০৬০ সালের মধ্যে যেকোন সময় ঐ অঞ্চলে গ্রীষ্মকালে পথের সৃষ্টি হতে পারে বলে বিভিন্ন গবেষণায় ধারণা করা হচ্ছে৷ উল্লেখ্য, বর্তমানে এশিয়া থেকে ইউরোপ যাবার জন্য জাহাজগুলো সুয়েজ খাল ব্যবহার করছে৷

Eisbrecher am Nordpol

জাহাজগুলো উত্তর মেরুতে গবেষণা কাজে গেছে

স্টকহোম ইন্টারন্যাশনাল পিস রিসার্চ ইন্সটিটিউট বা সিপ্রি সম্প্রতি এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, চীন ইতিমধ্যে বরফ গলার সুযোগকে কাজে লাগিয়ে কিভাবে অর্থনৈতিক ও কৌশলগতভাবে লাভবান হওয়া যায় তা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দেখা শুরু করেছে৷

তবে মজার ব্যাপার হলো উত্তর মেরুর সাথে চীনের কোনো সীমানা নেই৷ তাই সম্ভাব্য দ্বন্দ্ব এড়াতে, এ অঞ্চলের ব্যাপারে চীন এতদিন কোনো আগ্রহ দেখায়নি বলে সিপ্রি বলছে৷ কিন্তু বরফ গলে ঐ অঞ্চলে জাহাজের পথ সৃষ্টি হবার সম্ভাবনা দেখা দেয়ায় এবং সেখানকার বিভিন্ন খনিজ সম্পদের প্রতি আগ্রহ থেকেই চীন বর্তমানে এ বিষয়ে গবেষণায় প্রচুর অর্থ বিনিয়োগ শুরু করেছে বলে সংস্থাটি বলছে৷ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চীনে বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ মেরু গবেষণা কেন্দ্র রয়েছে৷ এছাড়া দেশটিতে রয়েছে বিশ্বের সবচেয়ে বড় অ-পারমাণবিক আইস ব্রেকার৷ গত বছরেই চীন মেরু গবেষণার জন্য একটি উচ্চ প্রযুক্তির আইস ব্রেকার নির্মাণ শুরু করেছে, যা ২০১৩ সালের মধ্যে চলাচল শুরু করবে বলে আশা করা হচ্ছে৷

উল্লেখ্য, উত্তর মেরুর সঙ্গে সীমানা রয়েছে এমন পাঁচটি দেশ হলো ক্যানাডা, ডেনমার্ক, নরওয়ে, রাশিয়া ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র৷ দেশগুলোর মধ্যে অঞ্চলটিতে আধিপত্য নিয়ে দ্বন্দ্ব বিরাজ করছে৷ ধারণা করা হচ্ছে, এ অঞ্চলে প্রায় ৯০ বিলিয়ন ব্যারেল তেল থাকতে পারে৷

সিপ্রির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, উত্তর মেরু নিয়ে চীন আপাত দৃষ্টিতে কিছুটা দুর্বল অবস্থানে আছে বলে মনে হলেও ভবিষ্যতে অত্র অঞ্চলে প্রভাব বিস্তারের ক্ষেত্রে দেশটি এগিয়ে যাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে৷

প্রতিবেদন : জাহিদুল হক

সম্পাদনা : আব্দুল্লাহ আল-ফারূক

সংশ্লিষ্ট বিষয়