1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বিজ্ঞান পরিবেশ

জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে ক্ষুধা, সংঘাত বাড়ার আশঙ্কা

বিশ্বব্যাপী কার্বন নির্গমন যতই বাড়ছে, ততই বাড়ছে বৈশ্বিক উষ্ণতা৷ এ কারণে এই শতকেই বিশ্বের অনেক মানুষ খাদ্যাভাবে পড়বে, বাড়বে স্বাস্থ্য ঝুঁকি৷ আর তার সঙ্গে সঙ্গে বাড়বে প্রাকৃতিক দুর্যোগ এবং মানুষে মানুষে হানাহানি৷

সোমবার প্রকাশিত জাতিসংঘের বিশেষজ্ঞ প্যানেলের প্রতিবেদনে এ সব তথ্য জানানো হয়েছে৷ তাপমাত্রা বাড়ার সাথে সাথে বিশ্বব্যাপী যে জলবায়ু পরিবর্তন হবে, তার ফলে কয়েক ট্রিলিয়ন ডলারের ক্ষতি হবে বলেও জানানো হয়েছে প্রতিবেদনে৷ নীতি নির্ধারকরা বলেছেন, গ্রিনহাউজ গ্যাস নির্গমনের ফলে প্রাকৃতিক যে বিপর্যয় হবে তার রূপটা হবে ভয়াবহ৷ জাতিসংঘের ইন্টারগভর্নমেন্টাল প্যানেল অন ক্লাইমেট চেঞ্জ আইপিসিসি-এর প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে৷ ৩২ ভলিউমের এই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিশ্ব এই অবস্থা মোকাবিলার জন্য মোটেও প্রস্তুত নয়৷

আইপিসিসি-র সভাপতি রাজেন্দ্র পাচৌরি বলেছেন, বিশ্বব্যাপী তাপমাত্রা যদি ১ থেকে ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেড়ে যায় তবে ঝুঁকির পরিমাণও সেই অনুপাতে বাড়বে৷ জলবায়ু পরিবর্তনের এই প্রভাব থেকে বিশ্বের কোনো মানুষই রেহাই পাবেন না৷

জাপানের ইয়োকোহামায় পাঁচ দিনের জলবায়ু সংক্রান্ত বৈঠকের পর এই প্রতিবেদন প্রকাশ হয়৷ এতে বলা হয়েছে, বৃষ্টিপাতের পরিমাণে দেখা দিয়েছে তারতম্য, ফলে বড় ধরনের বন্যার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে, বিশেষ করে এশিয়া ও ইউরোপে৷ শুধু তাই নয়, ঘনবসতিপূর্ণ এলাকাগুলিতে পানি সংকট এবং খরা দেখা দেবে বলেও বলা হয়েছে প্রতিবেদনে৷ এর ফলে ফসল ভালোমত হবে না, দেখা দেবে খাদ্য ঘাটতি৷

যদিও প্রতি ১০ বছরে ফসলের উৎপাদন ১০ ভাগ বেড়েছে, কিছু জনসংখ্যা বৃদ্ধির তুলনায় তা অপ্রতুল৷ বৈশ্বিক উষ্ণতার ফলে যেসব প্রাকৃতিক দুর্যোগের সৃষ্টি হবে এর ফলে মানুষের ক্ষুধা নিবৃত্তি কঠিন হয়ে পড়বে৷ বেড়ে যাবে খাদ্যদ্রব্যের দাম৷ দরিদ্র মানুষেরা চরম খাদ্যাভাবে পড়বেন৷ জনসংখ্যা বৃদ্ধির তুলনায় খাদ্যের ঘাটতির কারণে শুরু হবে হানাহানি৷ এমনকি জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে মশার উৎপাত এবং পানিবাহিত রোগ ব্যাপক হারে ছড়াবে৷ ফলে দেখা দিবে স্বাস্থ্য ঝুঁকি৷

বৈশ্বিক উষ্ণতার ফলে প্রবালসহ বেশ কিছু প্রজাতির উদ্ভিদ ও প্রাণী নিশ্চিহ্ন হওয়া আশঙ্কা রয়েছে৷ এই প্যানেল গত বছরের সেপ্টেম্বরে একটি প্রতিবেদনে জানিয়েছিল, বৈশ্বিক উষ্ণতার জন্য প্রাথমিকভাবে দায়ী মানুষের কর্মকাণ্ড৷

Bildergalerie Wilderei

গলছে বরফ, হারিয়ে যাচ্ছে শ্বেত ভাল্লুকের মতো বহু জীব

তৃতীয় প্রতিবেদনটি এপ্রিলে প্রকাশিত হবে বার্লিনে৷ যেখানে জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে কত মানুষ উদ্বাস্তু হবে তার একটা পরিসংখ্যান তুলে ধরা হবে৷

তাপমাত্রা বৃদ্ধি

রিপোর্টে বলা হয়েছে, এই শতকে বিশ্বব্যাপী তাপমাত্রা বৃদ্ধি পাবে ০.৩ থেকে ৪.৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস৷ এমনকি শিল্পকারখানা যেখানে বেশি সেখানে গড়ে ০.৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস বৃদ্ধি পাবে৷ ২১০০ সাল নাগাদ সমুদ্রে পানির উচ্চতা বাড়বে ২৬ থেকে ২৮ সেন্টিমিটার৷

সম্মেলনের উপ-সভাপতি ক্রিস ফিল্ড বলেছেন, ‘‘জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে এমন কিছু ঘটনা ঘটবে যা মানুষকে সহিংস করে তুলবে৷ যার ফলাফল হবে ভয়াবহ৷ এইসব পরিস্থিতি এতই চরম রূপ ধারণ করবে যা মোকাবিলা করা সম্ভব হবে না৷''

মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরি বলেছেন, ‘‘প্রতিবেদনে যেসব তথ্য উঠে এসেছে, তা আসলেই ভয়াবহ যা এড়িয়ে যাওয়ার উপায় নেই৷ তাই দ্রুত পদক্ষেপ নেয়ার বিকল্পও নেই৷''

রিপোর্টে অবশ্য এ কথাও বলা হয়েছে যে, গ্রিন হাউজের কার্বন নির্গমন যদি কমানো যায় তবে নাটকীয়ভাবে এই শতকের শেষ দিকে এসব ঝুঁকি কমে আসবে৷ ২০০৭ সালে আইপিসিসি-র প্রকাশিত প্রতিবেদনের উপর ভিত্তি করে ২০০৯ সালে কোপেনহেগেনে বিশ্বনেতারা একমত হন বৈশ্বিক উষ্ণতা রোধে তারা পদক্ষেপ নেবেন৷ কিন্তু কার্বন নিঃসরণ রোধের ব্যাপারে এখনও একমত হতে পারেনি বিশ্বের শক্তিধর দেশগুলো৷

এপিবি/ডিজি (এপি, এএফপি, ডিপিএ, রয়টার্স)

নির্বাচিত প্রতিবেদন