1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

অন্বেষণ

জলবায়ু পরিবর্তনের খোঁজ রাখতে স্যাটেলাইট

সুমেরুর বরফ গলছে৷ তাই নিয়ে চিন্তিত জলবায়ু গবেষকরা৷ কিন্তু কী পরিমাণ বরফ গলছে? তা জানার একমাত্র উপায় হল স্যাটেলাইটের মাধ্যমে তার পরিমাপ করা৷ ইউরোপীয় ‘স্মস’ স্যাটেলাইট ঠিক তাই করে থাকে৷

ভিডিও দেখুন 03:56

সাগরের জীবন্ত মানচিত্র

‘স্মস'-এর পাঠানো বিপুল পরিমাণ তথ্য সেঁচে পৃথিবীর সামুদ্রিক মানচিত্র তৈরি করছেন হামবুর্গের আবহাওয়াবিদ ও পদার্থবিদরা৷ কালে কালে হয়তো গোটা জলবায়ু প্রণালীকেই এভাবে কম্পিউটারের ছবি হিসেবে ফুটিয়ে তোলা যাবে৷

ইউরোপীয় কৃত্রিম উপগ্রহ ‘স্মস' প্রতি সেকেন্ডে দশ লক্ষ বর্গকিলোমিটার পরিমাণ এলাকা পরিমাপ করে সেই ছবি বেতার মারফৎ পৃথিবীতে পাঠাতে পারে৷ স্মস-এর ৮০০ কিলোমিটার নীচে ভূপৃষ্ঠে বসে সেই তথ্য বিশ্লেষণ করছেন হামবুর্গের আবহাওয়া বিশারদরা ৷

সুমেরুর বরফ গলছে

সামুদ্রিক বরফ সংক্রান্ত গবেষণার পদার্থবিদ লার্স কালেশকে স্মস থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী সুমেরু অঞ্চলের কোথায় কী পরিমাণ বরফ জমেছে, তা পর্যবেক্ষণ করেন৷

সবচেয়ে কম বরফের রেকর্ড ছিল ২০১২ সালের সেপ্টেম্বর মাসে৷ সত্তরের দশকে স্যাটেলাইট-ভিত্তিক নজরদারি শুরু হওয়া যাবৎ সুমেরুর ‘আইস ক্যাপ' বা বরফের আস্তরণ কখনো এতো সংকীর্ণ ছিল না৷

এছাড়া কালেশকে বিশেষ হাই রেজোলিউশনের স্যাটেলাইট ছবিও ব্যবহার করতে পারেন – তবে প্রতিবার ক্ষুদ্র একটি এলাকার জন্য৷ কালেশকে বলেন: ‘‘বিভিন্ন ধরনের কাঠামো দেখা যায়, খোলা সমুদ্র, তার পাশে গত গ্রীষ্মের পুরনো বরফ, যাতে নানা ধরনের কাঠামো দেখা যায়: আইস রিজ গোত্রীয়, যা শুধুমাত্র হাই রেজোলিউশনের এই স্যাটেলাইটের ছবিতেই ঠিকমতো দেখতে পাওয়া যায়৷''

কালেশকে চান আরো অনেক তথ্য, যাতে গোটা সুমেরু অঞ্চলটির উপরেই এভাবে খুঁটিয়ে নজর রাখা যায়৷ তাঁর মতে ‘‘এই সব পরিমাপ করার জন্য নতুন প্রযুক্তির প্রয়োজন পড়বে৷ নতুন সব অ্যান্টেনার প্রয়োজন পড়বে৷ নতুন স্যাটেলাইট লাগবে, যেগুলি গোটা এলাকার হাই রেজোলিউশনের ফটো ও তথ্য পাঠাতে পারবে৷''

সাগরের পরিমাপ

যেখানে বাস্তব তথ্য হাতে নেই, সেখানে জলবায়ু গবেষকরা কম্পিউটারের সাহায্য নেন৷ গ্রিড সেলের মাধ্যমে বায়ুমণ্ডল থেকে সমুদ্রবক্ষ অবধি তাপমাত্রা কিংবা বায়ুর চাপ মাপা চলে৷ আবহাওয়াবিদ জিন-সং ফন স্টর্শ এভাবেই গোটা সাগরের পরিমাপ করতে চান৷ এমন সব ইকোয়েশন, যা সাগরের গতিশীলতা বর্ণনা করে থাকে৷

আবহাওয়াবিদ জিন-সং ফন স্টর্শ বলেন: ‘‘সাগরের জলে লবণের পরিমাণ, কিংবা পানির তাপমাত্রা কিংবা স্রোতের তীব্রতা, এ সবই চলে বিশেষ বিশেষ নিয়ম অনুযায়ী৷ এই নিয়মগুলো হলো আমাদের মডেলের বুনিয়াদি ইকোয়েশনের ভিত্তি৷''

সেজন্য চাই সুপারকম্পিউটার

এই সব মডেল কোনো মানুষের পক্ষে অঙ্ক কষে বার করা সম্ভব নয়৷ সেজন্য জার্মান জলবায়ু কম্পিউটার সেন্টারের ‘ব্লিজার্ড'-এর মতো একটি সুপার-কম্পিউটারের প্রয়োজন৷ ব্লিজার্ড প্রতি সেকেন্ডে ১৫০ বিলিয়ন অঙ্ক কষতে পারে৷ জার্মান জলবায়ু কম্পিউটার কেন্দ্রের ভূপদার্থবিদ মিশায়েল ব্যোটিঙার জানালেন: ‘‘এটা আমাদের পরীক্ষাগার বলা যায় – জলবায়ু গবেষকরা এখানেই তাঁদের সব পরীক্ষা-নিরীক্ষা করতে পারেন৷ এখানে আমাদের নানা ধরনের কম্পিউটার আছে, যেগুলো পরস্পরের সঙ্গে যুক্ত হয়ে একটা বিশেষ শক্তিশালী নেটওয়ার্ক তৈরি করেছে, যাতে সব ক'টি কম্পিউটার যুগপৎ একটি সমস্যা নিয়ে কাজ করতে পারে৷''

জলবায়ু গবেষণায় এ পর্যন্ত যা অভাবনীয় ছিল, সুপারকম্পিউটার সেই অসাধ্য-সাধন করেছে৷ সমুদ্রের একটি বিশদ মডেল, যার রেজোলিউশন হল দশ কিলোমিটার৷ ঘূর্ণি, স্রোত এবং পানির তাপমাত্রা৷ একেবারে সমুদ্রগর্ভ অবধি৷ ফন স্টর্শ বলেন: ‘‘সাগরের গভীর অংশ হল এমন একটি রহস্য, যার বিষয়ে আমরা স্বল্পই জানি এবং আমাদের খুব কমই বাস্তবিক পর্যবেক্ষণ আছে৷ এই মডেলটির কল্যাণে আমরা প্রথমবার দেখতে পাই, সেটা কেমন দেখায়৷''

কম্পিউটারের সৃষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে একটি গোটা মহাসাগর তৈরি করা যায়৷ এবার লক্ষ্য হলো, সম্পূর্ণ জলবায়ু প্রণালীকেই তার পূর্ণ জটিলতায় কম্পিউটার সিমিউলেশন হিসেবে দেখানো৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

ইন্টারনেট লিংক

এই বিষয়ে অডিও এবং ভিডিও