1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বিজ্ঞান পরিবেশ

জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতি কমাতে মাঠে নেমেছে জার্মানি

জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতি কাটাতে নানা দেশ নানা উদ্যোগ নিয়েছে৷ শিল্পোন্নত দেশ বলতে যে দেশগুলোকে বোঝানো হয়, সেই দেশগুলো – বিশেষ করে জার্মানি এ ক্ষেত্রে কী করছে?

default

বাংলাদেশের উপর জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব ভয়াবহ হতে চলেছে

‘জলবায়ু পরিবর্তন: বাংলাদেশ ও ইউরোপ সংলাপ' শীর্ষক সম্মেলনটি অনুষ্ঠিত হয়ে গেল গত সপ্তাহে জার্মানির হানোফার শহরে৷ এই সংলাপে আগতদের মধ্যে ছিলেন এমন অনেক ব্যক্তি, যারা খোদ জার্মানিতেই কাজ করছেন জলবায়ু পরিবর্তন ইস্যু নিয়ে৷

জার্মানি,মধ্য ইউরোপের একটি রাষ্ট্র৷ ইউরোপের অন্যতম প্রধান শিল্পোন্নত দেশ৷ আয়তনের দিক থেকে ইউরোপের ৭ম বৃহত্তম রাষ্ট্র৷ উত্তর উত্তর সাগর ও বাল্টিক সাগরের উপকূলীয় নিম্নভূমি থেকে মধ্যভাগের ঢেউ খেলানো পাহাড় ও নদী উপত্যকা এবং তারও দক্ষিণে ঘন অরণ্যাবৃত পর্বত ও বরফাবৃত আল্পস পর্বতমালা দেশটির ভূ-প্রকৃতিকে বৈচিত্র্যময় করেছে৷ রাইন, মাইন, এলবে, দানিউব, স্পে এবং মোজেল নদী ছড়িয়ে আছে দেশের বিভিন্ন প্রান্তরে৷

Klimawandel Bangladesch Überschwemmung Slum Haors

বন্যার থাবা থেকে বাঁচতে আরও উঁচি জায়গাই ভরসা

প্রাকৃতিক এই সৌন্দর্য্যের বাইরেও একটি বিষয় আছে৷ আর তাহলো শিল্পায়ন৷ বলা হচ্ছে, এই শিল্পায়ন পৃথিবীর জলবায়ু পরিবর্তনের উপর প্রভাব ফেলছে৷ এ অবস্থায় কি করা যায়?

১৯৯২ সাল৷ জুন মাসের প্রথম এবং দ্বিতীয় সপ্তাহ৷ ব্রাজিলের রিও ডি জেনিরোতে জাতিসংঘের বিশেষ বৈঠক৷ জলবায়ু পরিবর্তন বিষযে৷ বিশ্বের অনেক দেশের শীর্ষ নেতারা আছেন তাতে৷ আছেন তখনকার জার্মান চ্যান্সেলর হেলমুট ক্যোহল৷ তিনিই সেই সম্মেলনে প্রতিশ্রুতি দিলেন, ২০০৫ সালের মধ্যে জার্মানি ক্ষতিকারক কার্বন নি:সরণ, যাকে সংক্ষেপে বলে সিওটু, তা শতকরা ২৫ ভাগ কমাবে৷ জার্মানি সেই প্রতিশ্রুতি রক্ষা করতে পারেনি! বেঁধে দেয়া সময়ের মধ্যে ক্ষতিকারক এই গ্যাস নি:সরণ কমানো হয়েছে মাত্র ২১ ভাগ৷ কিন্তু এর চার বছর বাদেই হিসেব কষে বলা হয়েছে, জার্মানি তার লক্ষ্যে পৌঁছে গেছে, ক্ষতিকারক গ্যাস নি:সরণ কমানো হয়েছে ২৭ ভাগ৷ তবে কাজ থেমে নেই তাদের৷ বিশ্ব সম্প্রদায়ের কাছে দেয়া প্রতিশ্রুতি অনুসারে, ২০২০ সাল নাগাদ শতকরা ৪০ ভাগ এবং ২০৫০ সাল নাগাদ জলবায়ু পরিবর্তনের অন্যতম এই গ্যাস নি:সরণ ৯৫ ভাগ কমানো হবে৷ ফলে শিল্প এবং জ্বালানি খাতে আনা হচ্ছে বিশাল পরিবর্তন৷ নতু্ন এই অর্থনীতির নাম দেয়া হয়েছে ‘লো কার্বন ইকোনমি'৷ এ বিষয়ে হানোফারে বাংলাদেশ- ইউরোপ সম্মেলনে অংশ নেয়া পরিবেশ বিশেষজ্ঞ ইয়োর্গান মায়ার বলছেন, ‘নবায়নযোগ্য জ্বালানি নিয়ে জার্মানির বড় ধরণের উদ্যোগ রয়েছে৷ আমরা এমনি একটি দেশ যেখানে নবায়নযোগ্য জ্বালানির প্রসার হচ্ছে দ্রুত৷ কারণ পরিবেশ বান্ধব জ্বালানিতে আমরা ২০ বছরের জন্য বিশেষ প্যাকেজ বা সুবিধা দিচ্ছি৷'

Sunderbans

সুন্দরবনের মানুষ এখনই জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব টের পাচ্ছেন

কার্বন নি:সরণের মাত্রা কমাতে জার্মানির এই উদ্যোগে বাংলাদেশের মতো জলবায়ু ঝুঁকির দেশ কি উপকৃত হবে? মায়ার বলছেন, ‘এটা জার্মানির নিজের জন্য সহায়ক হতে পারে৷ কিন্তু বাংলাদেশের মতো দেশগুলোকে সহায়তা করার জন্য এগিয়ে আসতে হবে সবগুলো শিল্পোন্নত দেশসহ ভারত ও চীনকে৷'

জার্মানি যে সকল পদক্ষেপ গ্রহণ করছে, সেই পদক্ষেপগুলো বাস্তবায়ন তো বেশ চ্যালেঞ্জের বিষয়৷ এ বিষয়ে মায়ারের ভাষ্য, ‘সত্যিই এটা বড় ধরণের চ্যালেঞ্জ৷ আমাদের এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতেই হবে৷ কারণ এটা না করা গেলে জলবায়ু পরিবর্তন একটি মহা দুর্যোগ হিসাবে চিহ্নিত হবে৷'

প্রতিবেদন: সাগর সরওয়ার
সম্পাদনা: সঞ্জীব বর্মন

সংশ্লিষ্ট বিষয়