1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

অন্বেষণ

জলজ ফার্ন থেকে কনটেনারবাহী জাহাজ!

সালভিনিয়া নাটান্স আসলে একটি জলজ ফার্ন, অর্থাৎ ফার্নগাছ৷ পানিতে বাস বলেই হয়তো তার গা-পাতা সব কিছু মোড়া থাকে বাতাসের স্তরে৷ এভাবে কি বড় বড় কনটেনার জাহাজগুলোকেও পানি-প্রতিরোধী বাতাসের স্তরে মুড়ে দেয়া সম্ভব?

default

প্রতিবছর ছ'হাজার কোটি লিটার ভারী তেল বাঁচানো সম্ভব করতে পারে এ ধরণের জলজ ফার্ন

উদ্ভিদটির উপরিভাগ, অর্থাৎ পৃষ্ঠভাগ এক ধরনের লুপ করা রোঁয়া দিয়ে ঢাকা৷ সেটাই হল বন বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকদের অনুসন্ধানের বিষয়৷ জলজ শ্যাওলা সালভিনিয়া-র ত্বকের সূক্ষ্ম রোঁয়া নাকি জাহাজের খোলের পানির সঙ্গে ঘর্ষণ কমাতে সাহায্য করবে৷ এর ফলে সারা বিশ্বে কোটি কোটি টন ভারী তেল বাঁচবে, এবং সেই পোড়া তেল থেকে সালফার ডাইঅক্সাইড ও কার্বন ডাই অক্সাইডের নির্গমনও বাঁচানো সম্ভব হবে৷

Schwimmfarne Salvinia minima

এটাও এক ধরণের জলজ ফার্ন

সালভিনিয়া উদ্ভিদটির বিশেষ ক্ষমতা হলো এই যে, জলের নীচে তার ত্বক জুড়ে থাকে ছোট ছোট বাতাসের কণিকা বা বুদবুদ৷ পদ্মপাতার উপরিভাগের বিশেষ কাঠামো আবিষ্কার করেছিলেন যে বিজ্ঞানী, তিনি হলেন প্রফেসর ভিলহেল্ম বার্টলট৷ বার্টলটের বিবৃতিতে: ‘‘হঠাৎ একদিন আমাদের মাথায় এলো, যে পদ্মপাতার মতো সালভিনিয়ার নিজেকে অমলিন রাখার ক্ষমতা নয়, বরং তার বাতাসের আস্তরণটাই আমাদের কাছে বেশি গুরুত্বপূর্ণ – যদিও আমরা সেটাকে এ যাবৎ একটা পার্শ্বপ্রভাব বলেই গণ্য করে এসেছি৷ তখন আমরা বুঝতে পারলাম, জাহাজ নির্মাতারা ঠিক কী বোঝাতে চাইছেন, যখন তারা আমাদের বলছেন, একটা গোটা জাহাজকে বাতাসের স্তরে মুড়ে দিতে পারলে খুবই ভালো হতো৷ তাহলে জাহাজটা জল কেটে না গিয়ে, বাতাসের উপর দিয়ে ভেসে যেত বলা চলে৷''

বন বিশ্ববিদ্যালয়ের নেস গবেষণা প্রতিষ্ঠানের অধ্যাপক প্রফেসর বার্টলট ও তাঁর সহযোগীরা জানতে চান, সালভিনিয়া কী করে বুদবুদগুলিকে ধরে রাখে৷ সালভিনিয়া নাটান্স নামধারী জলজ ফার্ন-এর রোঁয়াগুলি দেখা যায় ত্রিমাত্রিক অনুবীক্ষণ যন্ত্রে৷ নেস জীববৈচিত্র্য প্রতিষ্ঠানের পদার্থবিদ মাটিয়াস মাইল বলেন: ‘‘সালভিনিয়ার রোঁয়াগুলো ডিম ফেটানোর যন্ত্রের তারের মতো৷ উদ্ভিদের পাতার উপরিভাগের মতো এই রোঁয়াগুলোও পুরোপুরি মোমের মতো ক্রিস্টাল এবং বাতাসের বুদবুদে ঢাকা৷ শুধু ক্রিস্টালের মাথায় চারটি কালো কোষ আছে, যেখানে পানি আকৃষ্ট হয়ে এক ধরনের মেনিসকাস সৃষ্টি করে, যার ফলে বস্তুত বাতাসের আস্তরণটি আরো স্থিতিশীল হয়৷''

লুপ করা, পানি-প্রতিরোধী রোম ও পানির মধ্যে একটি বাতাসের স্তর সৃষ্টি হয়৷ লুপের মাথার অংশটি পানিকে আকৃষ্ট করে এবং বলতে কি, বাকি উদ্বিদের সঙ্গে জুড়ে রাখে৷ তার নীচে বাতাসের স্তর সব নড়াচড়া সত্ত্বেও মাসের পর মাস পালাতে পারে না৷

সালভিনিয়ার স্বাভাবিক, প্রাকৃতিক রোঁয়ার কাঠামোকে ধাতব ও প্রযুক্তিগত সার্ফেস বা পৃষ্ঠভাগের উপর কীভাবে সৃষ্টি করা যায়, সেটাই আবিষ্কার করতে চান বন শহরের গবেষকরা৷

ইতিমধ্যে প্রকৃতির অনুকরণে পানি-প্রতিরোধী পৃষ্ঠভাগ তৈরি করা সম্ভব হয়েছে৷ গবেষকরা জাহাজের মডেলের উপর কৃত্রিম ত্বক বসিয়েছেন, যা বাতাসের স্তরকে ধরে রাখতে সক্ষম৷ মডেল জাহাজের সংক্ষিপ্ত যাত্রায় এই বাতাসের স্তর অক্ষতই থাকে৷ জাহাজের তলাটাও শুকনোই থাকে৷ পানি ঐ বদ্ধ বাতাসের স্তরে ধাক্কা খেয়ে নিজের থেকেই সরে যায়৷ প্রফেসর বার্টলট বলেন:

‘‘স্বভাবতই পরিকল্পনা হলো, বড় বড় কনটেনার জাহাজগুলোকে এ ভাবে বায়োমেট্রিক, প্রযুক্তিলব্ধ সালভিনিয়া পৃষ্ঠভাগ দিয়ে মুড়ে দেওয়া৷ তার অর্থ, একটি বড় কনটেনার জাহাজের যাত্রাতেও এই বাতাসের স্তরগুলি স্থিরভাবে আটকে থাকবে৷''

কৃত্রিম রোঁয়াগুলিকে প্রাকৃতিক রোঁয়াগুলির মতো দেখতে না হলেও, তারা ঠিকই বাতাস ধরে রাখতে পারে – তবে যথেষ্ট সময়ের জন্য নয়৷ মাটিয়াস মাইল বলেন: ‘‘আমরা এই পশমের গোছার মতো দেখতে পৃষ্ঠভাগটিকে পানিপ্রতিরোধী করে তুলি৷ কিন্তু এখানে এখনও যেটা নেই, সেটা হলো গোটা কাঠামোর উপরের দিকে পানি আকর্ষণকারী অংশটি, যা বাতাসের স্তরটিকে স্থিতিশীল রাখতে একটি বিশেষ ভূমিকা পালন করে৷''

একটি কৃত্রিম পৃষ্ঠভাগ, যার কল্যাণে বড় বড় তেলের জাহাজ কিংবা কনটেনারবাহী জাহাজ বাতাসের উপর দিয়ে ভেসে বেড়াতে পারবে, তার অর্থনৈতিক এবং পরিবেশমূলক সুবিধা হবে অসীম৷ প্রফেসর বার্টলটের মতে: ‘‘কনটেনার জাহাজগুলোকে এ দিয়ে মুড়ে দিতে পারলে পানিতে জাহাজের ঘর্ষণ কমবে অন্তত দশ শতাংশ, এমনকি হয়ত ৩০ শতাংশের বেশি৷''

এভাবে পৃথিবী জুড়ে জাহাজ চলাচলে প্রতিবছর ছ'হাজার কোটি লিটার ভারী তেল বাঁচানো সম্ভব হবে – এবং সেই সঙ্গে কমবে পরিবেশ দূষণ৷

বিশেষ ঘোষণা: এই সপ্তাহের অন্বেষণ কুইজে অংশ নিতে ক্লিক করুন এখানে৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

ইন্টারনেট লিংক