জর্ডানে পরিবেশ রক্ষার জন্য লড়ছেন এক রাজকুমারী ও শিকারিরা | অন্বেষণ | DW | 14.02.2018
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

অন্বেষণ

জর্ডানে পরিবেশ রক্ষার জন্য লড়ছেন এক রাজকুমারী ও শিকারিরা

ওয়াদি কারাক জর্ডানের একটি সুন্দর গিরিখাত৷ কিন্তু কাছের একটি পয়ঃনিষ্কাশনের খামার থেকে দুর্গন্ধ পানি নদীতে গিয়ে পড়ে, আবার টুরিস্টরাও ময়লা ফেলেন৷ ওয়াদি কারাকের পরিবেশ রক্ষার জন্য লড়ছেন এক রাজকুমারী ও স্থানীয় বাসিন্দারা৷

জর্ডানের একটি বড় সমস্যা হলো, পশুচারণভূমি কমে আসছে, ওদিকে জমির মাটি তার উর্বরতা হারাচ্ছে৷  জার্মান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থা জিআইজেড-এর হয়ে মাহমুদ আহমেদ আল-বদুর ও তাঁর সতীর্থরা দেখছেন, কীভাবে আরো ভালোভাবে চারণভূমির দেখাশোনা করা যায়৷ মাঠে বেশি বা কম পশু চরলে, সেখানকার গাছপালা, ঘাস-পাতার ওপর তার কী প্রভাব পড়ে, সেটা তারা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দেখতে চান৷

গোপা কনসাল্টান্টস-এর  মাহমুদ আহমেদ আল-বদুর জানালেন, ‘‘আমরা এখানে আইন গজলে যে পরীক্ষা চালাচ্ছি, জর্ডানের অন্যান্য এলাকাতেও আমরা তার পুনরাবৃত্তি করতে চাই৷ এই কাজে চার থেকে পাঁচ বছর সময় লাগবে৷ প্রাথমিক ফলাফলে দেখা যাচ্ছে, এলাকাটির সুরক্ষার ব্যবস্থা করলে, তার ঘাসপাতা ও গাছপালা বাইরের এলাকাগুলো থেকে আলাদা হয়৷''

অর্থাৎ সুরক্ষিত এলাকায় বেশি ঘাসপাতা, গাছপালা গজায় – তার বৈচিত্র্যও বেশি হয়৷

আরো উত্তরে রয়েছে রয়্যাল বোট্যানিক গার্ডে, আল-রুম্মন উপত্যকার কাছে৷ এটি একটি পথিকৃৎ প্রকল্প,  যা রাজকুমারী বাসমা বিন্ত আলি প্রতিষ্ঠা করেছেন৷ ছোটবেলা থেকেই তাঁর গাছপালা সম্পর্কে আগ্রহ৷ তাঁর ব্যক্তিগত উদ্যোগের ফলে এখানে নানা বিরল ও বিপন্ন প্রজাতির গাছপালা সংগ্রহ – ও চাষ করা হয়ে থাকে৷

হার্বেরিয়ামে প্রথমে সব গাছপালার বৈজ্ঞানিক নাম-ধাম নির্ধারণ করা হয়৷ জর্ডানে যত ধরনের গাছপালা পাওয়া যায়, তাদের সকলকে এখানে নথিবদ্ধ করার প্রকল্প চলেছে৷ এছাড়া বোট্যানিক গার্ডেনের অতিথিরা প্রকৃতির মূল্য শিখবেন৷ রাজকুমারী বাসমা বিন্ত আলি বললেন, ‘‘মর্যাদা সহকারে বেঁচে থাকার জন্য প্রকৃতি আমাদের যা দেয়, তা অপরিহার্য৷''

রাজনীতিকদেরও বুঝতে হবে

রাজনীতিকদেরও পরিবেশের সুরক্ষার জন্য আরো বেশি কাজ করা উচিত, বলে তাঁর অভিমত: ‘‘প্রভাব যখন আরো বেশি হবে, তখন ওরা বুঝতে শুরু করবেন৷ গত পাঁচ বছরে বিপুল পরিমাণ শরণার্থী আসার ফলে আমাদের প্রাকৃতিক সম্পদ, প্রধানত পানি সম্পদের উপর যে ব্যাপক প্রভাব পড়েছে, তা আমরা দেখেছি৷ রাজনীতিকরা উপলব্ধি করবেন যে, বনানীকে রক্ষা করলে মাটি আরো বেশি পানি ধরে রাখতে পারে৷ প্রণালীটা একটা বৃত্তের মতো৷''

রাজনৈতিকভাবে স্থিতিহীন একটি এলাকায় নাজুক পরিবেশের সমস্যা অনেক, অথচ সেই সব সমস্যা সমাধানের জন্য বাজেট খুব বড় নয় – বলেন পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের রায়েদ বানিহানি৷ তবে তিনি প্রকৃতি সুরক্ষার ক্ষেত্রে প্রগতি দেখেন৷

পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের রায়েদ বানিহানি বললেন, ‘‘অতীতের পুরনো  আইনকানুনে জীববৈচিত্র্য সম্পর্কেনির্দিষ্ট করে কিছু বলা ছিল না৷ কিন্তু এক সপ্তাহ আগে যে নতুন আইন পাস করা হয়েছে, সেই আইনে জীববৈচিত্র্যের প্রতি বিশেষ মনোযোগ দেওয়া হয়েছে৷ এমনকি জীববৈচিত্র্য রক্ষার জন্য শাস্তিরও ব্যবস্থা রাখা হয়েছে৷''

ওয়াদি কারাক-এর পক্ষে ভালো খবর৷ গিরিখাতটি কারাক শহরের কাছে, ঊষর পারিপার্শ্বিকে জীববৈচিত্র্যের একটি মরুদ্যান৷ আজ এখানে যারা কাজ করছেন, তাদের কেউ কেউ নিজেই আগে এখানে শিকার করতেন – পরে দেখলেন যে, জীবজন্তু ক্রমেই কমে আসছে৷ তখন তারা গাছপালা ও জীবজন্তুর জন্য কিছু একটা করার সিদ্ধান্ত নেন৷

জিআইজেড-এর মাহমুদ আহমেদ আল-বদুর জানালেন, ‘‘এরা কয়েকটি জরুরি কাজ করেন, যার মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো, গিরিখাতটিকে সর্বদা সাফ রাখা৷ ওরা বারংবার নীচে নেমে জঞ্জাল পরিষ্কার করেন৷ ওরা আগন্তুকদের বোঝান, এমনকি তাদের হয়ে টুরিস্ট গাইডের কাজ করেন৷ এভাবে ওদের কিছু রোজগার হয়৷''

গিরিখাত দিয়ে যাওয়ার সময় অতিথিদের কখনো-সখনো জলপ্রপাতের ভিতর দিয়ে যেতে হয়! অতিথিদের নিরাপদে গিরিখাত দিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য এই সব ‘টুরিস্ট গাইড'-দের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে৷

ওয়াদি কারাক-এর দৈর্ঘ্য প্রায় ১২ কিলোমিটার – কিন্তু তার সবটাই এতো সুন্দর নয়৷ কাছে একটা সিউয়েজ প্ল্যান্ট বা তরল ময়লা পরিষ্কার করার কারখানা আছে৷

একটি জায়গায় দিন দশেক আগেও ময়লা পানি নদীতে ফেলা হয়েছিল – পাথরের গায়ে এখনও তার গন্ধ লেগে রয়েছে৷

শালালত মুমিয়া পর্যটন সমবায়ের রামি সালেম আল-জা'ফ্রে বললেন, ‘‘সমিতি হিসেবে আমাদের অভিমত যে, আমাদের পর্যটন সংক্রান্ত কাজকর্মের উপর এর প্রভাব পড়ে৷ যে সব টুরিস্ট আমাদের সঙ্গে উপত্যকায় নেমে ট্রেকিং করতে যান, প্রথমে তারা খুব ভালো থাকেন৷ কিন্তু এই জায়গাটায় এলেই তারা নাক কোঁচকান, কেননা এখানকার পানিতে নোংরা আছে৷''

টুরিস্টদেরও বোঝাতে হবে যে, ওয়াদি কারাকে যেখানে-সেখানে ময়লা ফেলা চলবে না৷

মাবেল গুন্ডলাখ/এসি

নির্বাচিত প্রতিবেদন

ইন্টারনেট লিংক