1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

জার্মানি ইউরোপ

জরাজীর্ণ ভেদ করে উঠে এলো চাকচিক্য

অল্পবয়সিরা শহর ছাড়ছে, কাজকর্ম পাওয়া দুরূহ হয়ে উঠছে, ক্ষয়ে পড়ছে শহরের কেন্দ্রস্থল৷ সাবেক পূর্ব জার্মানির শহরগুলি থেকে এ ধরনের চিত্রই উঠে আসে এখনও৷ তবে এর বিরুদ্ধে যে কিছু করাও যায়, সেটাই এবার দেখিয়েছে হালের গ্লাউখা শহর৷

default

জার্মান সরকারের ‘সামাজিক শহর' কর্মসূচির আওতায় নতুন করে গড়ে তোলা হচ্ছে গ্লাউখা শহর

এতদিন পর্যন্ত গ্লাউখা এক সমস্যাকীর্ণ জায়গা বলে পরিচিত ছিল৷ জার্মানির স্যাকসনি আনহাল্ট রাজ্যের হালে শহরের অংশ এটি৷ বেকারত্ব ও ক্ষয়ে পড়া বাড়িঘরের ভারে জর্জরিত এক অঞ্চল৷ অন্তত কিছুদিন আগে পর্যন্ত৷ গত কয়েক বছরে বেশ কিছু ইতিবাচক পরিবর্তন লক্ষ্য করা যাচ্ছে৷ এমনটি সম্ভব হয়েছে ‘সামাজিক শহর' প্রকল্প ও অসংখ্য ব্যক্তিগত উদ্যোগের মাধ্যমে৷

অবস্থা ছিল শোচনীয়

হালে শহরের ঊনবিংশ শতাব্দীর পুরানো বাড়িগুলির অবস্থা ছিল শোচনীয়৷ যুদ্ধের ধকল সামলে উঠলেও কমিউনিস্ট আমলে ধসে পড়ে সেগুলি৷ পুনরেকত্রীকরণের পরপরই নতুন মালিকদের পক্ষে বিশাল অঙ্কের অর্থ বিনিয়োগ করে পুনর্গঠন করা সম্ভব ছিল না৷ আর তাই হালে সেই সময় ১০০,০০০ বাসিন্দা হারায়৷

এখন অবশ্য গ্লাউখাতে ৪০০০ মানুষ বসবাস করেন৷ ৬০ শতাংশ বাড়ি ব্যক্তিগত মালিকানাধীন৷ অনেক বছর ধরে এখানে বিশেষ করে বয়োবৃদ্ধ ও অভিবাসীরাই বসবাস করতেন৷ অনেক বাড়ি খালি পড়ে ছিল৷ উদ্যোগী নাগরিকরা এই পরিস্থিতি বদলানোর সিদ্ধান্ত নেন৷ ২৭টি বাড়ি সরকারি সহায়তায় পুনর্গঠন করা হয়৷ অঞ্চলটি আবার আকর্ষণীয় হয়ে ওঠে৷ ইতোমধ্যে আরো ১৭টি বাড়ি সরকারি সাহায্য ছাড়াই মেরামত করা হয়েছে৷ এখন অল্পবয়সিরাও বাচ্চা কাচ্চা নিয়ে আবার শহরটিতে থিতু হচ্ছেন৷

‘সামাজিক শহর' প্রকল্প

জার্মান সরকার গ্লাউখার মতো অন্যান্য শহরেও সহায়তা করছে৷ ‘সামাজিক শহর' কর্মসূচির জন্য সরকারি অনুদান ৪০ মিলিয়ন থেকে ১৫০ মিলিয়ন ইউরোতে উন্নীত করা হয়েছে৷ সারা জার্মানিতে এই ধরনের ৫৮০ প্রকল্প রয়েছে৷ জার্মান নির্মাণ মন্ত্রণালয়ের উলরিশ হাটৎসফেল্ড এই প্রসঙ্গে বলেন, ‘‘প্রথমে আমরা আশেপাশের পরিবেশের উন্নয়ন করি, মালিকদের বিনিয়োগ করতে উদ্বুদ্ধ করি৷ এরপর আমরা আশা করি যে, প্রকল্পটি তার নিজস্ব গতিতে চলবে৷ গ্লাউখার-এর ক্ষেত্রে তা কার্যকর হয়েছে৷''

কোনো বাড়ির মালিক যদি মেরামতে টাকা ঢালতে রাজি না হন, তাহলে তাঁকে বাড়িটি বিক্রি করার পরামর্শ দেওয়া হয়৷ শিল্পীদেরও উদ্বুদ্ধ করা হয় শহরের সৌন্দর্য বর্ধনে অংশ নিতে৷ এর ফলাফলও দেখা গিয়েছে৷

শিল্পীরাও এগিয়ে এসেছেন

আলোকচিত্রশিল্পীরা গ্লাউখার বাসিন্দাদের এলাকার পটভূমিতে ছবি তুলে বড় করে রাস্তার ধারে সাজিয়ে রেখেছেন৷ বাড়ির মালিকরা মেরামতে বিনিয়োগ করছেন৷ এইভাবে গ্লাউখা ইতিবাচক আলোকে আসতে পেরেছে৷

তবে শহরের ভাঙাচোরা ফুটপাথ ও রাস্তাঘাটের দিকেও নজর দেওয়া এখন জরুরি হয়ে পড়েছে৷ সবুজ দেখা যায় খুব কমই৷ এ ব্যাপারে দায়িত্বপ্রাপ্ত গেরনোট লিন্ডেমান বলেন, ‘‘আমরা শুরু করার আগে খালি বাড়িঘরের পরিমাণ ছিল ৩০ শতাংশ, এখন মাত্র ৮ শতাংশ৷ এছাড়া এখন আমাদের আরো বেশি বাচ্চাদের ডেকেয়ার সেন্টার ও গাছগাছালি প্রয়োজন৷''

শুধু একটাই চিন্তা রয়ে গিয়েছে: পুরানো বাড়িঘরগুলি নতুন চাকচিক্য পেলে বহুদিনের বাসিন্দাদের কী হটিয়ে দেওয়া হবে? ‘‘এখন পর্যন্ত নয়'', বলেন উদ্যোক্তারা৷ বাড়িভাড়া যাতে সাধারণের আয়ত্তের মধ্যে থাকে, সেই চেষ্টাই করা হচ্ছে৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন