1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

সমাজ সংস্কৃতি

জমে উঠেছে বেটোফেন উৎসব

সুরের যাদুকর বেটোফেনকে নিয়ে বন শহরে শুরু হল আন্তর্জাতিক বেটোফেন উৎসব৷ আর তাই সাজ সাজ রব পড়ে গেছে বেটোফেনের জন্মস্থান বন শহরে৷ ১০ সেপ্টেম্বর থেকে মাসব্যাপী নানা ধরনের কনসার্ট, প্রদর্শনী ও আলোচনা অনুষ্ঠানে জমজমাট হয়ে থাকব

ধ্রুপদী সংগীত,বেটোফেন,বন,আন্তর্জাতিক,তারকা,Beetoven,International, Festival, Bonn,September,Symphony, Sonata,Classical Music

লুডভিশ ফান বেটোফেন (১৭৭০-১৮২৭)

ধ্রুপদী সংগীত জগতের এক উজ্জ্বল তারকা লুডভিশ ফান বেটোফেন৷ জন্ম ১৭৭০ সালের ১৭ই ডিসেম্বর জার্মানির বন শহরে৷ শৈশবেই পিয়ানোতে হাতেখড়ি তাঁর৷ জনসমক্ষে প্রথম পিয়ানো বাজান ৭ বছর বয়সে৷ ১৭ বছর বয়সে প্রিয় মাকে হারান তিনি৷ তরুণ বয়সেই পাড়ি দেন অস্ট্রিয়ার ভিয়েনায়, যেখানে পান প্রভূত খ্যাতি ও সম্মান৷ আর্থিক সাচ্ছল্যও আসে তাঁর হাতের মুঠোয়৷ এই ভিয়েনাতেই কাটে বেটোফেনের বাকি জীবন৷ সেই সময় অনেক বড় বড় শিল্পীই গির্জা বা রাজদরবারে চাকরি করতেন৷ কিন্তু ধরাবাঁধা কোনো চাকরি করা ছিল স্বাধীনচেতা এই শিল্পীর স্বভাববিরুদ্ধ৷ সংগীত রচনায় নিজের আবেগ অনুভূতিকে প্রাধান্য দিয়েছেন তিনি৷ দক্ষ ছিলেন তাৎক্ষণিকভাবে সংগীত রচনায়৷ স্বরলিপি ছাড়াই সৃষ্টি করেছেন অনেক বিখ্যাত সংগীত৷ ভাগ্যের নির্মম পরিহাসে ৩০ উত্তীর্ণ হওয়ার আগেই শ্রবণ শক্তি হারাতে থাকেন অসামান্য প্রতিভাশালী এই শিল্পী৷ কিন্তু হৃদয় বিদীর্ণ হয়ে গেলেও দমে যাননি বেটোফেন৷ উপহার দিয়ে গেছেন নানা ধরনের সংগীত, সোনাটা ও সিন্ফোনি৷ একেবারে বধির হয়ে যাওয়ার পর বিখ্যাত নবম সিন্ফোনি শেষ করেন তিনি৷ ১৮২৭ সালের মার্চ মাসে মাত্র ৫৬ বছর বয়সে মৃত্যুবরণ করেন যুগস্রষ্টা এই শিল্পী৷

বেটোফেনের জন্মস্থান বন শহর প্রতিবছর গ্রীষ্মের বিদায়বেলায় তার এই কৃতি সন্তানকে স্মরণ করে আয়োজন করে নানা রকমের অনুষ্ঠানের, যা বেটোফেন উৎসব নামে পরিচিত৷ দেড়শ বছর আগে যাত্রা শুরু হয় এই উৎসবের৷ ইতিমধ্যে আন্তর্জাতিক সংগীত মহলের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে পেরেছে এই উৎসব৷ উৎসবের পরিচালক ইলোনা শ্মিল গর্বভরে জানান, ‘‘বেটোফেনকে কিন্তু বন শহর থেকে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া সম্ভব হয়নি৷ ব্রাজিল, ভেনেজুয়েলা বা ভিয়েতনামে গেলে আমাকে লোকে জার্মানির রাজধানী সম্পর্কে প্রশ্ন করেনা৷ জানতে চায় বেটোফেনের জন্মস্থান কোন শহরে৷''

বেটোফেনের জন্মস্থান বন শহর এখন প্রাণোচ্ছল হয়ে উঠেছে বেটোফেন উৎসবকে ঘিরে৷ ১৫০টিরও বেশি কনসার্ট ও রকমারি অনুষ্ঠান, চিত্র প্রদর্শনী ও ছায়াছবি উপহার দিচ্ছে এই শহর, যার রেশ ছড়িয়ে পড়েছে আশেপাশের এলাকাতেও৷ বিশ্বের নামি দামি শিল্পীদের পদচারণায় মুখরিত হয়ে উঠেছে উৎসব৷ এবারের বেটোফেন উৎসবের মূলমন্ত্র  ‘মুক্তির পথে – সংগীতে ইউটোপিয়া ও স্বাধীনতা'৷ ইউরোপে ঊনবিংশ শতাব্দীর প্রথমার্ধে রাজনৈতিক ও সামাজিক আন্দোলনের হাত ধরে পটপরিবর্তনের ঢেউ জাগে সাংস্কৃতিক অঙ্গনেও৷ বেটোফেনের অনেক সংগীতেও লক্ষ্য করা যায় রাজনীতির ছোঁয়া, প্রচলিত প্রথার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ, ভিন্ন এক কাল্পনিক জগৎ৷ এই পটভূমিকা থেকেই নেয়া হয়েছে এবারের বেটোফেন উৎসবের মটো৷ নতুন নতুন ধ্যান ধারণা ও অভিনব কর্মসূচি দিয়ে সাজানো হয়েছে উৎসবকে৷ যা নবীন দর্শকদেরও টানতে পারবে বলে মনে করেন ইলোনা শ্মিল৷ তাঁর ভাষায়, ‘‘এই ধরনের একটি বড় উৎসবের আয়োজন করতে হলে পাবলিক ভিউয়িং-এর কথাটাও মাথায় রাখতে হয়৷ বন শহরের মুনস্টার প্লাৎস-এ পর পর তিন দিন ডয়েচে ভেলের সহযোগিতায় নির্মিত ছায়াছবি দেখানো হবে৷ হাজার হাজার মানুষ উপভোগ করতে পারবেন এইসব ছবি৷''

বেটোফেন উৎসবের সুন্দর এক ঐতিহ্য হল ক্যাম্পাস কনসার্ট-এর পরিবেশনা৷ যেখানে বিদেশি তরুণ শিল্পীদের অর্কেষ্ট্রার সুর ও লহরী উপভোগ করা যায়৷ গত বছর বন উৎসবের অতিথি হয়ে এসেছিলেন ভিয়েতনামের তরুণ অর্কেস্ট্রা শিল্পীরা৷ এবছরের অতিথি ব্রাজিলের ‘সিনফোনিকা হেলিওপোলিস' অর্কেস্ট্রা গোষ্ঠী৷ এ প্রসঙ্গে ইলোনা শ্মিল বলেন, ‘‘একে এক ধরনের সাংস্কৃতিক আদান প্রদান বলা যায়৷ আমরা সেসব দেশের সঙ্গেই সম্পর্কটা ঘনিষ্ঠ করতে চাই, যারা সেটা চায়৷ ব্রাজিলের সঙ্গে এই রকম একটা সম্পর্ক গড়ে উঠেছে আমাদের৷ ২০১১ সালে ব্রাজিলের শিল্পীদের আরো কনসার্ট অনুষ্ঠিত হবে এখানে৷ অন্যদিকে ২০১৩ সালে জার্মান শিল্পীরাও ব্রাজিলে পরিবেশন করবেন বেটোফেনের সংগীত৷''

প্রতিবেদন: রায়হানা বেগম

সম্পাদনা: সঞ্জীব বর্মন

নির্বাচিত প্রতিবেদন

ইন্টারনেট লিংক