1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বিশ্ব

জমি দান করলেন দিনমজুর, গড়ে উঠল স্কুল

অন্যের সম্পদ লুটে বড়লোক হওয়া মানুষের অভাব নেই৷ তাদের বিচরণই বেশি চোখে পড়ে৷ তবে উল্টো দৃষ্টান্তও আছে অনেক৷ লালমনিরহাটের এক দিনমজুর নিজের সামান্য জমির বেশির ভাগই দান করেছেন৷ দানের জমিতেই গড়ে উঠেছে স্কুল৷

লালমনিরহাট সদরের কুলাঘাট ইউনিয়নের পশ্চিম বড়ুয়া গ্রাম৷ এমন গ্রাম বা গ্রামের মানুষ সচরাচর খবরে শিরোনাম হয় না৷ কিন্তু এক চাতাল শ্রমিকের কারণে সেই গ্রামের দিকেই এখন অনেকের নজর৷

গ্রামটিতে দশ বছর আগেও কোনো প্রাথমিক বিদ্যালয় ছিল না৷ বিষয়টি দিনমজুর সনাতন চন্দ্র রায়কে খুব কষ্ট দিত৷ সনাতন বুঝতেন, শিক্ষার আলো ছড়াতে না পারলে পশ্চিম বড়ুয়া গ্রাম অন্ধকারেই পড়ে থাকবে, গ্রামের অগ্রগতি, গ্রামবাসীদের উন্নতির পথ থাকবে বন্ধ৷ তাই ২০০৬ সালে নিজের মাত্র ৫৩ শতাংশ জমির মধ্যে ৩৩ শতাংশই দান করে দিলেন৷ ২০০৮ সালে সেই জমিতেই একটি টিনের ঘর তুলে শুরু হয় গ্রামের ছোট ছোট ছেলে-মেয়েদের পাঠদান৷

২০১৩ সালে সরকারি স্বীকৃতি পাওয়ায় স্কুলটির নাম এখন ‘পশ্চিম বড়ুয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়'৷ যাত্রা শুরুর সময় স্কুলটিতে শিক্ষার্থী খুব কম ছিল৷ তবে এখন ২০৬ জন ছাত্র-ছাত্রী আছে স্কুলটিতে৷

নিজের সীমিত সামর্থের মধ্যেই একটি অখ্যাত গ্রামে শিক্ষা বিস্তারে বড় ভূমিকা রেখে সনাতন চন্দ্র রায় এখন সবার কাছেই প্রশংসিত৷ লালমনিরহাট জেলার প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা নাবেজ উদ্দীন দানশীল এই দরিদ্র দিনমজুরের প্রশংসা করতে গিয়ে জানান, শিক্ষার স্বার্থে সনাতন যে মহানুভবতার স্বাক্ষর রেখেছেন তাতে তিনি এবং প্রাথমিক শিক্ষা বিভাগ মুগ্ধ৷

জাতীয় দৈনিকের সংবাদ শিরোনামেও স্থান পাচ্ছেন সনাতন চন্দ্র রায়৷ ইংরেজি দৈনিক ডেইলি স্টার এক খবরে লালমনিরহাটের হৃদয়বান এই চাতাল শ্রমিককে উল্লেখ করেছে, ‘স্বর্ণহৃদয়ের এক দরিদ্র মানুষ' হিসেবে৷

তবে দুঃখের বিষয়, নিজে জমি দান করে স্কুল প্রতিষ্ঠায় সহায়তা করেও পশ্চিম বড়ুয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষিকাদের মুখে হাসি দেখতে পারছেন না সনাতন চন্দ্র রায়৷ সরকারি গেজেটে অন্তর্ভুক্ত না হওয়ায় স্কুলের শিক্ষক-শিক্ষিকারা বেতনই পাচ্ছেন না!

এসিবি/ডিজি

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়