1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

অন্বেষণ

জন্মের আগেই স্ট্রেস বোধ করতে পারে মানুষ

প্রাপ্তবয়স্কদের ‘স্ট্রেস' বা মানসিক চাপের উৎস যে মায়ের পেটে থাকতে পারে, তা জানতে পেরেছেন বিজ্ঞানীরা৷ দেখা গেছে, এক্ষেত্রে মস্তিষ্কের বয়সও অনেক দ্রুত বাড়ে৷

উৎস মায়ের পেটেই

স্ট্রেস বা মানসিক চাপের অনেক রূপ ও নানা কারণ রয়েছে৷ নির্দিষ্ট সময়ের আগেই শিশুর জন্মের উপক্রম হলে ডাক্তাররা হরমোনের সাহায্যে কৃত্রিমভাবে তার ফুসফুসকে আরো পরিণত করতে বাধ্য হন৷ কিন্তু মায়ের পেটে শিশু তখন চাপের মুখে পড়ে৷ তার মস্তিষ্কের বয়স দ্রুত বাড়ে৷ গবেষকদের ধারণা, স্মৃতিভ্রম, ডায়াবিটিস বা স্ট্রোকের মতো বিপদের আশঙ্কাও তখন বেড়ে যায়৷

গুস্তাভ-এর কথাই ধরা যাক৷ সে জানে না, তাকে নিয়ে ঠিক কী করা হচ্ছে৷ এখনো অবশ্য সে অস্থির হয়ে ওঠে নি৷ গবেষকরা তার উপর এক পরীক্ষা চালাচ্ছেন৷ প্রায় ৮০টি শিশুর উপর এমন পরীক্ষা চালানো হয়েছে৷ তাদের মধ্যে অর্ধেক মায়ের পেটে থাকতেই মানসিক চাপের মুখে পড়েছিল৷ বাকি অর্ধেককে তেমন কিছুর মুখোমুখি হতে হয়নি৷ মাটিয়াস শোয়াব বললেন, ‘‘আমি একটা গল্প বলতে শুরু করছি, তুমি চেষ্টা করো গল্পের শেষটা বলতে৷'' গুস্তাভ সহজে দমে যাবার পাত্র নয়৷ গল্প সে ভালোই বলতে পারে৷ গবেষণা প্রকল্পের প্রধান মাটিয়াস শোয়াব ইচ্ছা করে তাকে ঘাবড়ে দেয়ার চেষ্টা করছেন৷ মাটিয়াস শোয়াব বললেন, ‘‘আচ্ছা, দিগন্তে আবার আলো ফুটে উঠলো কেন? কেন এমনটা হলো?''

উত্তরটা সে জানে না৷ গুস্তাভ অস্থির হলে তার মস্তিষ্কের তরঙ্গ পর্দায় ফুটে ওঠে৷ রক্তের চাপ ও হৃৎপিণ্ডের স্পন্দন বাড়লেও তা ধরা পড়ে৷ এই পরীক্ষায় দুই দলের শিশুদের মধ্যে তফাত চোখে পড়ে৷ শোয়াব বললেন, ‘‘যে সব শিশু মায়ের পেটে থাকতেই স্ট্রেস বোধ করেছে, তারা সাধারণত পরীক্ষার আগেই উত্তেজিত হয়ে পড়ে৷ সেই উত্তেজনা আরও বেড়ে যেতে পারে৷ তারা অস্থির, নার্ভাস হয়ে পড়ে৷ ঠিকমতো মনোযোগ দিতে পারে না৷ ছটফট করে, বসে থেকেও জোরে-জোরে পা দোলায়৷''

Flash-Galerie MEDICA Messe Farbiger Ultraschall

মায়ের পেটে থাকতেই শিশুর যত্নের প্রয়োজন

মস্তিষ্কের কাঠামো ও বয়স

পরের পর্যায়ে ডাক্তাররা শিশুদের মস্তিষ্ক আরও ভালো করে পরীক্ষা করেন৷ তাঁরা জানতে চান, মস্তিষ্কের কাঠামোর মধ্যেও তফাত খুঁজে পাওয়া যা কি না এবং মস্তিষ্কের জৈবিক বয়সও বোঝা যায় কি না৷ তাঁদের মতে, যে সব শিশু মায়ের পেটে থাকতে মানসিক চাপে ভুগেছে, তাদের মস্তিষ্কের বয়স অনেক দ্রুত বাড়ে৷

মানুষের ক্ষেত্রে সম্ভব না হলেও মায়ের পেটে থাকতে ভেড়ার শিশুর উপর পরীক্ষা চালানো যায়৷ শোয়াব বললেন, ‘‘একা হয়ে পড়লেই স্ট্রেস দেখা দেয়৷ এরা পালের মধ্যে থাকতে অভ্যস্ত৷ অন্তঃসত্ত্বা অবস্থায় আমরা এদের সপ্তাহে দু-বার ৩ ঘণ্টার জন্য বিচ্ছিন্ন করে রেখেছিলাম৷''

মায়ের মনে একবার স্ট্রেস তৈরি হলে বিশেষ হরমোনের মাধ্যমে তার পেটের শিশুর মনেও তা চলে যায়৷ মা ও শিশুর মধ্যে যোগাযোগের সূত্র যে নাড়ি, তার মধ্যে রক্তের পরিমাপ করে তা টের পাওয়া যায়৷ রক্তসঞ্চালন প্রায় ৩০ শতাংশ কমে যায়৷ ফলে শিশুর শরীরে যথেষ্ট পুষ্টি ঢোকে না৷

মানুষ বা ভেড়ার তুলনায় ধেড়ে ইঁদুরের আয়ু আরও কম৷ ইঁদুরের ক্ষেত্রে গবেষকরা আরও স্পষ্টভাবে দেখতে পেয়েছেন, মায়ের পেটে স্ট্রেস হলে কীভাবে তাদের আয়ুর উপর প্রভাব ফেলে৷ ইঁদুরদের বেশি স্ট্রোক হয়, তার তীব্রতাও হয় মারাত্মক৷ ঘন ঘন মানসিক চাপের ফলে রক্তের চাপ বেড়ে যায়, শিরা শুকিয়ে যায়৷

রোগের ভয়

শোয়াব বলেন, ‘‘স্ট্রোক হলে ঠিক তার পরেই দ্রুত ধমনী বা শিরা টেনে আরও চওড়া করতে হয়, যাতে মস্তিষ্কের যে কোষের ক্ষতি হয়েছে, তাতে রক্ত সঞ্চালন ঘটতে পারে৷ কিন্তু শিরা আগে থেকেই সরু হয়ে গেলে কোনো প্রাণীর ক্ষেত্রে স্ট্রোক মারাত্মক আকার ধারণ করে৷ মানসিক চাপ না থাকলে কিন্তু সেই পশুর এমন দশা হয় না৷''

মায়ের পেটে সন্তানের স্ট্রেস জিনের উপর কী প্রভাব ফেলতে পারে, একই প্রকল্পের আওতায় আরেক দল গবেষক তা পরীক্ষা করছেন৷

গোটা ইউরোপ জুড়ে এ বিষয়ে গবেষণা চলছে৷ তাঁদের লক্ষ্য একটাই৷ এর প্রভাব আরও ভালোভাবে বুঝে একদিন এর মোকাবিলা করতে ওষুধ তৈরি করা৷

বিজ্ঞানীদের আশা, সেই দিন এলে আরও বেশি মানুষ বয়স বাড়লেও সুস্থ অবস্থায় থাকতে পারবেন৷

এসবি/ডিজি

ইন্টারনেট লিংক

সংশ্লিষ্ট বিষয়