1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

ভারত

জনসংখ্যা বৃদ্ধির দায় মুসলমানদের ঘাড়ে চাপালো বিজেপি

উত্তর প্রদেশের মিরাটে এক ধর্মসভায় বিজেপি সাংসদ সাক্ষী মহারাজ জনসংখ্যা বৃদ্ধি প্রসঙ্গে পরোক্ষভাবে মুসলিম সম্প্রদায়কে কটাক্ষ করেন৷ তাঁর এই উসকানিমূলক মন্তব্যের কারণ জানতে চেয়ে ‘নোটিস' পাঠিয়েছে নির্বাচন কমিশন৷

গৈরিক পার্টি তথা মৌলবাদী সংঘ পরিবারের অসহিষ্ণুতার আরেক চেহারা৷ গত সপ্তাহে উত্তর প্রদেশের মিরাটে বিজেপি সাংসদ সাক্ষী মহারাজ অঘোরনাথ মন্দিরে একটি সন্ত সভায় ভারতের জনসংখ্যা বৃদ্ধি প্রসঙ্গে একটি সাম্প্রদায়িক মন্তব্য করেন৷ তাঁর এই মন্তব্যকে ঘিরে বিতর্কের ঝড় ওঠে৷ ঐ ধরনের মন্তব্য সুপ্রিম কোর্টের সাম্প্রতিক রায়ের খেলাপ এবং সাম্প্রদায়িক সংঘাতে উসকানিমূলক৷ উত্তর প্রদেশসহ ভারতের পাঁচটি রাজ্যে বিধানসভা ভোটের নির্ঘণ্ট ঘোষণার পর, এই ধরনের মন্তব্য নির্বাচনি আচরণবিধি লঙ্ঘন করারই নামান্তর৷ এতে করে মধ্যপ্রদেশের উন্নাও-এর সাংসদ সাক্ষী মহারাজকে তিরস্কার করে নির্বাচন কমিশন বলে, ভবিষ্যতে কোনোরকম সাম্প্রদায়িক, জাতপাত নিয়ে মন্তব্য করলে তাঁর বিরুদ্ধে কড়া আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে৷ সেটা নির্বাচন প্রচার হোক বা অন্য সভা হোক৷ আদর্শ নির্বাচনি বিধি বলবত রয়েছে ৪ঠা জানুয়রি থেকে৷ এর আগে, নোটিস পাঠিয়ে দু'দিনের মধ্যে সাক্ষী মহারাজকে জবাবদিহি করতে বলে নির্বাচন কমিশন৷ উত্তর প্রদেশে প্রথম দফার ভোট আগামী ১১ই ফেব্রুয়ারি৷ সুপ্রিম কোর্ট তার রায়ে ধর্ম, জাতপাত, ভাষা বা সম্প্রদায়ের নামে ভোট চাইতে পারবে না, চাইলে প্রার্থীর নির্বাচন হবে অবৈধ৷

এর ভিত্তিতে কংগ্রেস নেতা নালিশ করেছেন এই বলে যে, ভোটের আগে বিজেপি সাংসদের মন্তব্য, ধর্ম ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্ট করবে৷ নির্বাচন কমিশন জেলা প্রশাসনের কাছে ঐ ঘটনার রিপোর্ট তলব করেছে৷ এতে তীব্র প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছে অন্য সব বিরোধী রাজনৈতিক দল৷ রাজনৈতিক দলগুলির অভিযোগের ভিত্তিতে স্থানীয় পুলিশ সাক্ষী মহারাজের বিরুদ্ধে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত দেবার অভিযোগে ভারতীয় দণ্ডবিধির ২৯৮ ধারা অনুযায়ী এফআইআর দায়ের করেছে৷ বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের তরফে অবশ্য মন্ত্রী ও নেতা মুখতার আব্বাস নাখভি জানান, এটা বিজেপির দলীয় অবস্থান নয়৷ এটা সংশ্লিষ্ট সাংসদের ব্যক্তিগত মত৷ সংযুক্ত জনতা দল এর নিন্দা করে বলে, ধর্ম বা সম্প্রদায় নিয়ে রাজনীতি করাটা সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশিকার খেলাপ৷ আদালতের রায়ের পর এই প্রথম এই ধরনের ঘটনা ঘটেছে৷ আঙুল উঠেছে সুশীল সমাজ থেকেও৷ তাদের প্রশ্ন, সুপ্রিম কোর্টে স্পষ্ট রায়দানের পর একজন সাংসদের তা অগ্রাহ্য করার সাহস হয় কী করে?

আসলে কী বলেছিলেন বিজেপি সাংসদ সাক্ষী মহারাজ যা নিয়ে এত হৈ চৈ? বলেছিলেন, ভারতের সমস্যা দিনকে দিন বেড়েই চলেছে৷ এর অন্যতম কারণ দেশের জনসংখ্যা বৃদ্ধি৷ এতে লাগাম টানতে মুসলিম সম্প্রদায়ের নাম না করে পরোক্ষে কটাক্ষ করে তিনি বলেন, ‘‘যাঁরা  চারটে করে বিয়ে করে এবং গোটা ৪০ বাচ্চার জন্ম দেয়, তিন তালাক প্রথার পক্ষে ওকালতি করে, মহিলাদের মান মর্যাদার পরোয়া না করে তাঁদের সন্তান জন্মদানের মেশিনে পরিণত করে, তাঁরাই এ জন্য দায়ী৷ এটা চলতে দেওয়া যায় না৷ সরকারের উচিত এর বিহিত করা৷' তিনি বলেন, এর জন্য কড়া আইন প্রণয়ন করা জরুরি৷ তাই রাজনীতির ঊর্ধে উঠে সব দলকে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে হবে৷ ভারতের ভৌগলিক আয়তন বাড়েনি অথচ জনসংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৩০ কোটির বেশি৷ এ জন্য হিন্দু সম্প্রদায় দায়ী নয়, দায়ী ঐ সম্প্রদায়৷ আগেও অন্য এক প্রসঙ্গে উনি বলেছিলেন, কোনো মুসলিম ছেলে হিন্দু মেয়েকে বিয়ে করলে হিন্দু ছেলেও মুসলিম মেয়েকে নিকা করবে৷

নির্বাচন কমিশনের ‘শো কজ নোটিস'-এর জবাব দিতে বিজেপি সাংসদ সাক্ষী মহারাজ নিজের সাফাই দিয়ে বলেন, প্রথমত তিনি কোনো রাজনৈতিক বা নির্বাচনি সভায় ভাষণ দেননি৷ দিয়েছেন অঘোরনাথ মন্দিরে সাধু সন্তের সভায়৷ দ্বিতীয়ত কোনো সম্প্রদায়ের নাম তিনি উল্লেখ করেননি৷ সাক্ষী মহারাজ নামে পরিচিত শচিদানন্দ হরি হামেশাই বিতর্কিত বিবৃতি দিয়ে থাকেন৷ তা সত্ত্বেও তিনি পাঁচবার বিজেপি প্রার্থী হিসেবে সাংসদ নির্বাচিত হন৷

উল্লেখ্য, বিজেপি ক্ষমতায় আসার পর বজরং দল, শ্রীরাম সেনা, বিশ্ব হিন্দু পরিষদের মতো উগ্র দক্ষিণপন্থি সংগঠনগুলির দাপট মাত্রা ছাড়িয়ে যায়৷ উত্তর প্রদেশে গোমাংস রাখা নিয়ে মহম্মদ আখলাকের গণপিটুনি, অপমানে জর্জরিত হয়ে হায়দ্রাবাদের কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের দলিত ছাত্র রোহিত ভেলমুলার আত্মঘাতী হওয়া, খ্রিষ্টান চার্চ এবং অন্য প্রতিষ্ঠানে ভাঙচুর করা, জোর করে খ্রিষ্টানদের ধর্মান্তরিত করা, নানদের যৌন হেনস্থা করার মতো নানা অভিযোগ উঠেছে গৈরিক দলের বিরুদ্ধে৷ এর নামই কি লাভ জেহাদ?

বিষয়টি নিয়ে আপনি কি কিছু বলতে চান? তাহলে লিখুন নীচের ঘরে৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন