1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বিশ্ব

জঙ্গি হামলা মামলার অগ্রগতি নেই, বিচার হয়েছে মাত্র একটির

জঙ্গি হামলা মামলার বিচার বা তদন্তের অগ্রগতি হতাশাজনক৷ বিশ্লেষকরা বলছেন, দায়ীদের বিচার না করা পর্যন্ত জঙ্গিদের চাপে ফেলা যাবে না৷ গুলশান হামলার পর নানা চাপে আপাতত চুপচাপ থাকলেও সুযোগ বুঝে হয়ত আবার তারা সক্রিয় হবে৷

২০১৩ সাল থেকে বাংলাদেশে এ পর্যন্ত সাতজন লেখক, প্রকাশক এবং ব্লগার হত্যার ঘটনা ঘটেছে৷ আর হত্যাসহ হামলার ঘটনা ঘটেছে ১০টি৷ এর বাইরে ধর্মীয় ভিন্নমত, ভিন্ন ধর্ম, বিদেশি এবং এলজিবিটি হত্যার ঘটনা ঘটেছে আরো ৬টি৷ এসবের মধ্যে মাত্র একটির বিচারের রায় হয়েছে৷ বাকি ঘটনার তদন্ত বা চার্জশিট পর্যন্তই শেষ৷

২০১৫ সাল থেকে শুরু করে এ পর্যন্ত হলি আর্টিজানে জঙ্গি হামলাসহ এ ধরনের হামলা বা আক্রমণে নিহত হয়েছেন ৬৭ জন৷ আহত হয়েছেন ১৪৬ জন৷ এসব ঘটনায় দায়ের করা মাত্র তিনটি মামলায় চার্জশিট দেয়া হয়েছে৷ বাকিগুলোর তদন্ত চলছে৷

২০১৩ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি ব্লগার রাজীব হায়দারকে হত্যা করা হয়৷ এই মামলার রায় দিয়েছে আদালত৷ এর আগে ১৩ জানুয়ারি ব্লগার আসিফ মহিউদ্দিনের ওপর হামলা হয়৷ ওই মামলার চার্জশিট দেয়া হয়েছে৷ আসিফ এখন জার্মানিতে আছেন৷

অডিও শুনুন 02:22

‘তদন্তের দীর্ঘসূত্রতা এবং বিচারহীনতা লক্ষ্যণীয়’

গত বছরই ঢাকা ও সিলেটে খুন হন চারজন ব্লগার৷ তারা হলেন, মুক্তমনা ব্লগের প্রতিষ্ঠাতা ও লেখক অভিজিৎ রায়, অনলাইন অ্যাক্টিভিস্ট ওয়াশিকুর রহমান বাবু, মুক্তমনা ব্লগের আরেক ব্লগার, লেখক ও ব্যাংক কর্মকর্তা অনন্ত বিজয় দাস ও ব্লগার নীলাদ্রি চট্টোপাধ্যায় (নিলয় নীল)৷ এছাড়া অক্টোবরে ঢাকায় অভিজিৎ রায়ের বইয়ের দুই প্রকাশনা সংস্থার কার্যালয়ে হামলা হয়৷ হত্যা করা হয় জাগৃতি প্রকাশনীর ফয়সল আরেফিন দীপনকে৷ শুদ্ধস্বরের কর্ণধার আহমেদুর রশীদ চৌধুরী টুটুলসহ তিনজনকে কুপিয়ে গুরুতর জখম করা হয়৷

চলতি বছরের এপ্রিলে ঢাকায় হত্যা করা হয় সমকামী অধিকার কর্মী জুলহাজ মান্নান ও তার বন্ধু মাহবুব রাব্বি তনয়কে৷এছাড়া ঢাকায় খুন হয়েছেন ইতালীয় নাগরিক তাভেল্লা সিজার৷ রংপুরে হামলায় নিহত হন জাপানি নাগরিক হোসি কুনিও৷ এছাড়া মন্দিরের পুরোহিত, মাজারের খাদেম, ধর্মান্তরিত মুক্তিযোদ্ধা হত্যার ঘটনাও ঘটেছে। গির্জার পাদ্রিকেও হত্যার চেষ্টা করা হয়েছে৷

পুলিশ এসব হামলা এবং হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জেএমবি এবং আনসারুল্লাহ বাংলা টিমের সদস্যরা জড়িত বলে দাবি করছে৷ ব্লগারসহ বেশ কয়েকটি হত্যার ঘটনায় জড়িত  অপরাধীদের আটকের দাবি করছে পুলিশ৷ ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ-কমিশনার (মিডিয়া) মাসুদুর রহমান ডয়চে ভেলেকে জানান, ‘‘ ঢাকায় যে ঘটনাগুলো ঘটেছে তার তদন্তে বেশ অগ্রগতি আছে৷ এরইমধ্যে অভিজিৎ রায় ও প্রকাশক দীপন হত্যা মামলায় কয়েকজন আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে৷ দু'জন এলজিবিটি কর্মী হত্যার ঘটনায়ও আসামি আটক আছে৷ আমরা জড়িতদের চিহ্নিত করতে পেরেছি৷ সবাইকে আইনের আওতায় আনা হবে৷''

অডিও শুনুন 01:41

‘ক্ষমতাবানরা তদন্তকে বাধাগ্রস্ত করছেন’

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়েরর আইন ও অপরাধ বিজ্ঞানের অধ্যাপক শেখ হাফিজুর রহমান ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘এসব ঘটনায় তদন্তের দীর্ঘসূত্রতা এবং বিচারহীনতা লক্ষ্যনীয়৷ আর এসব কারণে শেষ পর্যন্ত জঙ্গি বা অপরাধীরা অনেক ক্ষেত্রেই ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে যায়৷''  তিনি বলেন, ‘‘তদন্তের ক্ষেত্রে এক ধরণের অদক্ষতা এবং অনীহা আমরা দেখতে পাই৷ আর বিচারের ক্ষেত্রে দীর্ঘসূত্রতার কারণ প্রচলিত আইনে বিচার হওয়া৷ এই ধরণের মামলার জন্য আলাদা ট্রাইবুন্যাল গঠন করে দ্রুত বিচার করা দরকার৷''

আর মানবাধিকার কর্মী এবং আইন ও সালি

শ কেন্দ্র (আসক)-এর সাবেক নির্বাহী পরিচালক সুলতানা কামাল ডয়চে ভেলেকে বলের, ‘‘ব্লগাররা মুক্তমনা, তারা মুক্তচিন্তা করেন৷ তাই তাঁদের লেখায় অনেক ক্ষমতাবান স্বার্থান্বেষী মহলের আঘাত লেগেছে৷ তাই তাঁরাই বিচার প্রক্রিয়া এবং তদন্তকে বাধাগ্রস্ত করছেন৷ তাঁরা হতে পারেন প্রশাসনের, পুলিশের অথবা ক্ষমতা কেন্দ্রের৷ কিন্তু এটা মেনে নেয়া যায় না৷ তাঁদের ওপর ধর্মহীনতার নামে একটি লেবেল চাপিয়ে দিয়ে বিচার থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে৷ এটা সংবিধান এবং ন্যায়বিচার বিরোধী৷''

প্রতিবেদন: হারুন উর রশীদ স্বপন, ঢাকা

সম্পাদনা: আশীষ চক্রবর্ত্তী

প্রিয় পাঠক, এই বিষয়ে আপনাদের বক্তব্য জানতে চাই আমরা৷ জানান নীচে মন্তব্যের ঘরে৷ 

নির্বাচিত প্রতিবেদন

এই বিষয়ে অডিও এবং ভিডিও

সংশ্লিষ্ট বিষয়