1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বাংলাদেশ

জঙ্গি বানানোর ‘লাইফ স্কুল' এখন বন্ধ, মুখ খুলছে না কেউ

ঢাকার একটি স্কুলের ভর্তি প্রক্রিয়ায় অভিভাবকের সাক্ষাৎকার ছিল বাধ্যতামূলক৷ সেখানে যেসব অভিভাবককে জঙ্গিবাদে উদ্বুদ্ধ করার উপযুক্ত মনে হতো, কেবল তাদের সন্তানদেরই দেয়া হতো সেই স্কুলে পড়ার সুযোগ৷ স্কুলটির নাম ‘লাইফ স্কুল'৷

র‌্যাবের অভিযানের পর থেকে উত্তরার সেই লাইফ স্কুল এখন বন্ধ৷ স্কুলটি নিয়ে কেউ তেমন কথা বলছেন না৷ র‌্যাব জানিয়েছে, ওই স্কুলে জঙ্গিবাদে উদ্বুদ্ধ করার প্রশিক্ষণ হতো৷ নব্য জেএমবি-র রিক্রুটমেন্টে স্কুলটির ভূমিকা আছে বলেও র‌্যাবের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে৷ ওই স্কুলের সঙ্গে সম্পৃক্ত মোট ১০ জনকে র‌্যাব আটক করেছে৷ তাদের মধ্যে স্কুলের বর্তমান এবং সাবেক অধ্যক্ষও রয়েছেন৷ র‌্যাবের পরিচালক কমান্ডার মুফতি মাহমুদ ডয়চে ভেলেকে জানান, ‘‘আটকদের এখন জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে৷''

অডিও শুনুন 00:17

‘আটকদের এ মুহূর্তে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে’

মঙ্গলবার আটক ১০ জনকেই রিমান্ডে নেয়া হয়েছে৷ রিমান্ড আবেদনে বলা হয়, আটক ব্যাক্তিরা নব্য জেএমবি-র তামিম চৌধুরী গ্রুপের সদস্য৷ তামিম গুলশান হামলার পর জঙ্গিবিরোধী অভিযানে নিহত হয়েছে৷

তাদের আটকের পর সোমবার র‌্যাবের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (অপারেশন) কর্নেল আনোয়ার লতিফ খান সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ‘‘আটকদের মধ্যে শরিফুল ইসলাম শরিফ লাইফ স্কুলের সাবেক অধ্যক্ষ ও শাহরিয়ার নিজাম বর্তমান অধ্যক্ষ৷ এই স্কুলে যেসব শিক্ষার্থী আসতো তাদের অভিভাবকদের টার্গেট করে জঙ্গিবাদে উদ্বুদ্ধ করা হতো৷''

তিনি আরো বলেন, ‘‘আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে নিহত নব্য জেএমবি-র মেজর জাহিদ ও তানভীর কাদেরী শরিফের অনুসারী ছিল৷ এরা মূলত শরীফের মাধ্যমেই জঙ্গিবাদে উদ্বুদ্ধ হয়৷ প্রায় আড়াই বছর ধরে জঙ্গিবাদে উদ্বুদ্ধ করার কাজ করে আসছিল ‘লাইফ' স্কুল৷’’

কীভাবে জঙ্গিবাদে উদ্বুদ্ধ করা হতো? – এ প্রশ্নের জবাবে কর্নেল আনোয়ার সাংবাদিকদের বলেন, ‘‘স্কুলের টার্গেট মূলত অভিভাবকরা৷ ভর্তির সময় অভিভাবকদেরও ইন্টারভিউ নেয়া হতো৷ যাদেরকে জঙ্গি মতাদর্শে উদ্বুদ্ধ করা যাবে বলে মনে হতো, কেবল তাদের সন্তানদেরই ওই স্কুলে ভর্তি করা হতো৷''

কর্নেল আনোয়ার জানান, ‘‘এরা প্রত্যেকেই বিভিন্ন অ্যাপস ব্যবহার করতো৷ যেসব অ্যাপস সাধারণত মনিটর করা যায় না, সেগুলো ব্যবহার করে নিজেদের মধ্যে যোগাযোগ করতো৷ এদের অধিকাংশই উচ্চশিক্ষিত৷ তারা বিভিন্ন বিষয়ে পারদর্শী৷''

অডিও শুনুন 02:04

‘স্কুলটি অনির্দিষ্ট কালের জন্য বন্ধ করে দেয়া হয়েছে’

র‌্যাব-এর সংবাদ বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী লাইফ স্কুল থেকে আটকরা হলো আবু সাদাত মো. সুলতান আল রাজি ওরফে লিটন (৪১), আল মিজানুর রশিদ (৪১), জান্নাতুল মহাল ওরফে জিন্নাহ (৬০), মো. জিয়াউর রহমান (৩১), মো. কৌশিক আদনান সুবহান (৩৭), মিজানুর রহমান (৪৩), মেরাজ আলী (৩০), মুফতি আবদুর রহমান বিন আতাউল্লাহ (৩৭), শাহরিয়ার ওয়াজেদ খান (৩৬) এবং শরিফুল ইসলাম শরিফ (৪৬)৷

র‌্যাব-এর পরিচালক কমান্ডার মুফতি মাহমুদ ডয়চে ভেলেকে জানিয়েছেন আটকদের কাছ থেকে আরো তথ্য জানার চেষ্টা চলছে, ‘‘এখন তদন্ত চলছে৷ আটক সবাইকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে আরো তথ্য পাওয়া যাবে৷ জিজ্ঞাসাদে নতুন তথ্য পাওয়া গেলে তা নিয়ে আরো তদন্ত বা অভিযান হতে পারে৷''

র‌্যাব সূত্র দাবি করছে, এই স্কুলটি ঘিরে নব্য জেএমবি-র শীর্ষ নেতারা নেটওয়ার্ক গড়ে তোলা হয়েছিল৷ এ পর্যন্ত ৩৮ জঙ্গি আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানে নিহত হওয়ার পরও এই স্কুলটি থেকে নতুন রিক্রুটমেন্টের কাজ চলছিল৷

এদিকে মঙ্গলবার উত্তরার ওই স্কুল সরেজমিন পরিদর্শন করেন সাংবাদিক আমানুর রহমান রনি৷ ডয়চে ভেলেকে তিনি জানান, ‘‘স্কুলটিতে তালা মেরে দেয়া হয়েছে৷ গেটের ভিতরে একজন দারোয়ান আছেন৷ তিনি কোনো কথা বলতে চাচ্ছেন না৷ তবে বাইরে স্কুলের রিসেপশনিস্টের সঙ্গে আমার কথা হয়েছে৷ তিনি জানিয়েছেন এখন স্কুলে কেউ নেই৷ অনির্দিষ্ট কালের জন্য বন্ধ করে দেয়া হয়েছে৷ আর আশপাশের কেউ স্কুলটি নিয়ে কথা বলতে চাইছেন না৷''

অডিও শুনুন 01:14

‘আমার স্বামীকে কখনো কোনো খারাপ কাজ করতে দেখিনি’

আমানুর আরো জানান, ‘‘২০১২ সালে ৬ তলা ভবন ভাড়া নিয়ে স্কুলটি প্রতিষ্ঠা করা হয়৷ এখানে ১২০ জনের মতো ছাত্র ছিল৷ বাংলা, ইংলিশ এবং আরবি মাধ্যমে শিক্ষা দেয়া হতো৷ স্কুলটি ‘এ' লেভেল পর্যন্ত পড়াশুনা করানোর কথা বললেও তার কোনো অনুমোদন ছিল কিনা তা নিশ্চিত নয়৷''

অন্যদিকে র‌্যাবের অভিযানে আটক লাইফ স্কুলের সাবেক অধ্যক্ষ শরিফুল ইসলাম শরিফের স্ত্রী সোনিয়া ইসলাম ডয়চে ভেলের কাছে দাবি করেন, ‘‘আমি আমার স্বামীকে কখনো কোনো খারাপ কাজ করতে দেখিনি৷ তিনি কোনো ল্যাপটপ ব্যবহার করতেন না৷ আমার আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর ওপর আস্থা আছে৷ আমি বিশ্বাস করি, আমার স্বামী তদন্তে নির্দোষ প্রমাণিত হবেন৷''

র‌্যাব জানিয়েছে, রবিবার ঢাকার উত্তরা এবং কলাবাগান এলাকায় অভিযান চালিয়ে ওই ১০জনকে আটক করা হয়৷ দীর্ঘদিন গোয়েন্দাতথ্য সংগ্রহ করে নিশ্চিত হয়েই তাদের আটক করা হয়েছে৷ আটকদের মধ্যে কয়েকজন দেশের বাইরেও প্রশিক্ষণ নিয়েছে৷

বন্ধু, এই ‘লাইফ স্কুল’-এর কথা কি আপনি আগে শুনেছেন? স্কুলে পড়াকালীন সময় থেকে জঙ্গি বানানোর এমন পরিকল্পনা সম্পর্কে আপনার মন্তব্য জানতে চাই৷ তাই লিখুন নীচের ঘরে৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

এই বিষয়ে অডিও এবং ভিডিও