1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বিশ্ব

জঙ্গি অর্থায়নের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা

বাংলাদেশে জঙ্গি অর্থায়নের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছে সরকার৷ এ কারণেই বাংলাদেশ ইসলামী ব্যাংক লি.-এ নজরদারি বাড়ানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান কামাল৷

মূলত ব্যাংকটির আয়-ব্যয়ের হিসাব খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানান তিনি৷ বৃহস্পতিবার ‘জঙ্গিবাদ প্রতিরোধ ও প্রতিকার' কমিটির সভা শেষে স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী জানান, ‘‘ইতিমধ্যেই ইসলামী ব্যাংক তাদের লভ্যাংশ ব্যয়ের একটি প্রতিবেদন দিয়েছে৷ সেই প্রতিবেদনে শুভঙ্করের ফাঁকি আছে কিনা – তা যাচাই-বাছাই করতে গোয়েন্দাদের নির্দেশ দেয়া হয়েছে৷'' তিনি বলেন, ‘‘জঙ্গিবাদের মূল উত্‍স হলো অর্থ৷ এই অর্থের উত্‍স খুঁজে বের করতে পারলে জঙ্গিবাদ দমন অনেক সহজ হবে৷''

স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন,‘‘আরো কোনো আর্থিক প্রতিষ্ঠান জঙ্গি অর্থায়নে জড়িত কিনা – তাও তদন্ত করছেন গোয়েন্দারা৷'' তিনি বলেন, ‘‘বাংলাদেশ ইসলামী ব্যাংকের বিরুদ্ধে দেশে এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে এ ধরণের অভিযোগ আছে৷''

জঙ্গি অর্থায়নের অভিযোগ ওঠায় গত কয়েকবছর ধরেই চাপে রয়েছে ইসলামী ব্যাংক৷ অভিযোগের কারণে এইচএসবিসি যুক্তরাজ্য, সিটি ব্যাংক এনএ, ব্যাংক অফ আমেরিকা ইসলামী ব্যাংকের সঙ্গে লেনদেন বন্ধ করে দেয়৷ যুক্তরাষ্ট্রের সিনেট কমিটির এক প্রতিবেদনেও ইসলামী ব্যাংকের মাধ্যমে মুদ্রা পাচার ও সন্ত্রাসে অর্থায়নের অভিযোগ করা হয়৷

বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানায়, ‘‘ইসলামী ব্যাংকে এমন কিছু অ্যাকাউন্ট হোল্ডার পাওয়া গিয়েছিল, যাদের নাম ছিল জাতিসংঘের সন্দেহের তালিকায়৷ এ সব অ্যাকাউন্টের তথ্য বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে ‘লুকিয়েছিল' ইসলামী ব্যাংক কর্তৃপক্ষ৷

জঙ্গি অর্থায়নের অভিযোগের পাশাপাশি ইসলামী ব্যাংকের আর্থিক ব্যবস্থাপনায় ‘অনিয়ম-দুর্নীতির' অভিযোগ থাকায় ২০১০ সাল থেকেই ঐ ব্যাংকে একজন পর্যবেক্ষক নিয়োগ দিয়ে রেখেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক৷ এছাড়া অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক ড. আবুল বারাকাতও তাঁর গবেষণায় বলেছেন, ‘‘ইসলামী ব্যাংক জামায়াত নিয়ন্ত্রিত একটি আর্থিক প্রতিষ্ঠান৷ এই ব্যাংক নানা ধরণের অদৃশ্য খাতে অর্থ খরচ করে৷ আর মধ্যে জঙ্গি অর্থায়ন অসম্ভব কিছু না৷''

স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী জানান, ‘‘এরই মধ্যে সন্দেহের তালিকায় থাকা কয়েকটি আরো ইসলামী ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের আয়-ব্যয়ের হিসাব চাওয়া হয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাছে৷ আর তাদের আর্থিক পরিস্থিতি নিয়মিত পর্যবেৰণের জন্যও বলা হয়েছে৷''

তিনি জানান, ‘‘বাংলাদেশের কিছু এনজিও-র কাজেও নজর রাখা হচ্ছে৷ বিশেষ করে কক্সবাজার, উপকূলীয় এলাকা এবং পার্বত্য এলাকায় কর্মরত কিছু এনজিও-র বিরুদ্ধে জঙ্গি অর্থায়নসহ নানা ধরণের অভিযোগ আছে৷''

২০০৯ সালে ‘জঙ্গিবাদ প্রতিরোধ ও প্রতিকার' কমিটি নামের একটি আন্তঃমন্ত্রণালয় কমিটি গঠন করে সরকার৷ ২০১৩ সালের ফেব্রুয়ারিতে গণজাগরণ মঞ্চ গঠন হওয়ার পর ইসলামী ব্যাংকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার দাবি প্রবল হয়৷ এরপর চলতি বছরেই একটি জাতীয় অনুষ্ঠানে ইসলামী ব্যাংকের কাছ থেকে নেয়া তহবিল ফেরত দেয়া হয় ব্যাপক সমালোচনার মুখে৷ এই ব্যাংকটির নিয়ন্ত্রণ যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে অভিযুক্ত জামায়াতে ইসলামীর কতিপয় নেতার হাতে৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়