জঙ্গিদের তাণ্ডবে বিপন্ন ইরাকের ঐতিহ্য | সমাজ সংস্কৃতি | DW | 22.09.2014
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

সমাজ সংস্কৃতি

জঙ্গিদের তাণ্ডবে বিপন্ন ইরাকের ঐতিহ্য

মেসোপটেমিয়া, ব্যাবিলন থেকে শুরু করে রোমান সাম্রাজ্য – সিরিয়া ও ইরাকে এই সব প্রাচীন সভ্যতার নিদর্শন ধ্বংস ও কালোবাজারে বিক্রির খবর পাওয়া যাচ্ছে৷ ইসলামিক স্টেট বা আইএস জঙ্গিরা এমন অপূরণীয় ক্ষতি করছে বলে অভিযোগ উঠছে৷

আজকের সিরিয়া ও ইরাক সব বিস্তীর্ণ অঞ্চল এককালে মানবসভ্যতার গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র ছিল৷ প্রায় পাঁচ হাজার বছর আগে এই অঞ্চলে একে একে মেসোপটেমিয়া থেকে শুরু করে ব্যাবিলন ও রোমান সভ্যতার বিকাশ ঘটেছিলো৷ সেই ইতিহাসের নিদর্শনেরও অভাব নেই৷ ইরাকে এর আগের কয়েকটি যুদ্ধে তার কিছু অংশ ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়েছে৷ আজ সিরিয়া ও ইরাক জুড়ে আইসিস জঙ্গিদের তাণ্ডব প্রাচীন সভ্যতার নিদর্শনগুলির জন্য আরও বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে৷

ইসলামিক স্টেট (আইএস বা আইসিস) নিয়ন্ত্রিত এলাকায় প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শনগুলি বর্তমানে অস্তিত্বের সংকটের মুখে৷ একদিকে উগ্র ধর্মীয় মতবাদের বলে জঙ্গিরা কিছু নিদর্শন সরাসরি ধ্বংস করে ফেলছে৷ অন্যদিকে অর্থ সংগ্রহের স্বার্থে তারাই আবার প্রত্নতাত্ত্বিক সামগ্রী আন্তর্জাতিক কালোবাজারে বিক্রি করছে৷ এই অবস্থায় সিরিয়া ও ইরাকে প্রত্নতত্ত্বের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা আশঙ্কা করছেন, যে দুই দেশের প্রাচীন ইতিহাস কার্যত মুছে দেওয়া হচ্ছে৷

ইরাকের ১২,০০০ নথিভুক্ত ঐতিহাসিক স্থানের মধ্যে প্রায় ১,৮০০টি মসুল শহরের কাছে নিনেভা প্রদেশে অবস্থিত৷ গত জুন মাসে এলাকাটি আইএস জঙ্গিদের নিয়ন্ত্রণে চলে যায়৷ কালহু, দুর শারুকিন ও আশুর-এর মতো অ্যাসিরীয় সাম্রাজ্যের উল্লেখযোগ্য কেন্দ্রগুলি এখানেই ছড়িয়ে রয়েছে৷ অরাজকতার সুযোগ নিয়ে কালোবাজারিরা জঙ্গিদের সঙ্গে সহযোগিতায় অবাধ লুটপাট চালিয়ে অমূল্য ঐতিহাসিক নিদর্শনগুলি পাচার করছে বলে সংবাদ সংস্থা এপি-র কাছে দাবি করেছেন ইরাকের সরকারি জাদুঘর বিভাগের কর্মকর্তা কাইস হুসেন রশিদ৷ মসুলের সিটি মিউজিয়ামের অমূল্য সম্পদও চিরকালের জন্য হারিয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তিনি৷

আইএস জঙ্গিরা শুধু প্রাক-ইসলামি সভ্যতার বিরুদ্ধেই রোষ দেখাচ্ছে না৷ শিয়া – এমনকি কিছু সুন্নি ধর্মীয় স্থানও ধ্বংস করে দিচ্ছে তারা৷ পৌত্তলিকতার সামান্য আভাস পেলেই তারা ধ্বংসলীলা শুরু করেছে৷ তবে ঐতিহাসিক নিদর্শন বিক্রির সুযোগ পেলে সংকীর্ণ ধর্মীয় বিশ্বাসের বদলে বাস্তব মুনাফাই তাদের কাছে বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে৷ জঙ্গিরা হয় নিজেরাই সরাসরি সে সব বিক্রি করছে, অথবা কালোবাজারিদের হাতে তুলে দিচ্ছে৷

জাতিসংঘের শিক্ষা, বিজ্ঞান ও সংস্কৃতি সংগঠন ইউনেস্কো ইরাকের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের সুরক্ষায় এক আপদকালীন পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে৷ আর্ট ডিলার ও মিউজিয়াম-গুলির উদ্দেশ্যে ইরাক থেকে পাচার করা চোরাই মালপত্র না কেনার আবেদন করেছে এই প্রতিষ্ঠান৷

এসবি/ডিজি (এপি)

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়