1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

আলাপ

জঙ্গিদের ছবি প্রকাশ বিতর্ক

তর্ক বা বিতর্ক জঙ্গিদের ছবি প্রকাশ করা, না করা নিয়ে৷ ফ্রান্সের একটি পত্রিকা সম্প্রতি ঘোষণা দিয়েছে, তারা জঙ্গিদের ছবি প্রকাশ করবে না৷ ছবি প্রকাশে জঙ্গিরা উৎসাহিত হয়৷

Syrien IS Kämpfer Symbolbild

প্রতীকী ছবি

জঙ্গিদের অন্যতম টার্গেট থাকে যে কোনো উপায়ে আলোচনায় আসা৷ হামলা পরবর্তী ছবি প্রকাশ করলে এতে জঙ্গিদের উদ্দেশ্যকে সফল করে দেয়া হয়৷ ছবি প্রকাশ করা না করা নিয়ে বিতর্ক বাংলাদেশেও আছে৷ যদিও ইউরোপ বা অন্য দেশের চেয়ে বাংলাদেশের বিষয়টি আলাদা৷

ছবি প্রকাশ বা ইউরোপের জঙ্গিদের সঙ্গে বাংলাদেশের জঙ্গিবাদের কিছু মিল থাকলেও, সম্পূর্ণ এক করে দেখার অবকাশ নেই৷ জঙ্গিদের ছবি প্রকাশের বিষয়টিও বিচার করতে হবে বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে, ইউরোপ বা অন্য দেশের প্রেক্ষাপটে নয়৷ জঙ্গিবাদের ছবি প্রকাশ বিষয়ে সংক্ষিপ্ত আলোচনা৷

১. গুলশানের হোলি আর্টিজান ট্র্যাজেডির পর জঙ্গিদের লাশের ছবি পত্রিকায় ছাপা হয়েছে৷ হামলার আগে আইএসের পোশাক পরা জঙ্গিদের হাস্যোজ্জ্বল ছবিও ছাপা হয়েছে৷ এই ছবি যদি ছাপা না হতো, তবে কী ঘটত বা ঘটতে পারত? হয়তো জঙ্গিদের আসল পরিচয় জানাই যেত না৷ লাশের ছবি এবং অকাশ, বিকাশ... নাম পুলিশ যা দিয়েছিল, তাই বিশ্বাস করতে হতো৷ অসত্য বিশ্বাস করতে হতো৷

জঙ্গিদের হামলার আগের ছবি প্রকাশিত হওয়ায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেই আসল পরিচিতি প্রকাশিত হয়েছে৷ জানা গেছে, এই জঙ্গিরা আসলে কারা, তাদের সামাজিক অবস্থান কেমন৷ ফলে এক্ষেত্রে ছবি প্রকাশের অপকারিতা বা ক্ষতির চেয়ে উপকারিতাই বেশি বলে ধারণা করার যথেষ্ট কারণ রয়েছে৷

২. কল্যাণপুরে পুলিশি অভিযানে নিহত জঙ্গিদের লাশের ছবি প্রকাশ করেছে পুলিশ৷ পুলিশের সূত্র ধরেই জঙ্গিদের হামলার আগের হাস্যোজ্জ্বল ছবি প্রকাশিত হয়েছে গণমাধ্যমে৷ লাশের ছবিগুলো ছিল বীভৎস৷ ছবিগুলো প্রকাশ করা হয়েছিল নিহতদের পরিচয় সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়ার জন্য৷ হাস্যোজ্জ্বল ছবিগুলো ছাপা হয়েছে, হামলার পরে এই ছবি প্রকাশ করে আইএস দায় স্বীকার করতো, তা বোঝানোর জন্য৷

হামলার আগের ছবি প্রকাশ নিয়ে সমালোচনা হয়েছে এভাবে যে, জঙ্গিদের এসব হিরোইজমের ছবি দেখে অনেকে উৎসাহিত হতে পারে, সুতরাং এমন ছবি গণমাধ্যমে প্রকাশিত হওয়া উচিত নয়৷ কথাটা উড়িয়ে দেয়ার মতো নয়৷ গভীরভাবে চিন্তা করতে হবে, একটি ছবি প্রকাশ করে, কোনোভাবে জঙ্গিবাদ উৎসাহিত করা হচ্ছে কিনা৷ পুলিশ যে লাশের বীভৎস ছবি প্রকাশ করেছে তার আদৌ দরকার ছিল কিনা৷ এক্ষেত্রে অধিকাংশ জঙ্গির পরিচয় কিন্তু পুলিশ জেনেছে আঙুলের ছাপের সঙ্গে জাতীয় পরিচয়পত্রে থাকা আঙ্গুলের ছাপ মিলিয়ে৷ এই কাজটি ছবি প্রকাশের আগেও বা ছবি প্রকাশ না প্রকাশ করেও করা যেতো৷ আঙুলের ছাপ মিলিয়ে যদি কাউকে শনাক্ত করা না যেতো, তখন হয়ত ছবি প্রকাশের প্রসঙ্গ আসতে পারত৷

সুতরাং ছবি প্রকাশ নিয়ে গণমাধ্যম এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সবারই নতুন করে চিন্তা করে দেখার সুযোগ আছে৷

৩. বাংলাদেশের প্রেক্ষিতে জঙ্গিদের ছবি প্রকাশ করা বা না করার চেয়ে অনেক বেশি জরুরি জনআস্থা অর্জনের পদক্ষেপ নেয়া৷ আমাদের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী শুধু খারাপ কাজই করেন না, অনেক ভালোও কাজ করেন৷ যোগ্যতা দক্ষতা নিয়ে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই প্রশ্ন নেই৷ তারপরও জনআস্থায় ঘাটতি প্রবল৷ পুলিশ যা করে, যা বলে অধিকাংশ ক্ষেত্রে জনগণ পুরোপুরি বিশ্বাস করেন না৷ ‘সত্যিই কি এমন হয়েছে'- প্রশ্ন জাগে জনমনে৷

সাদা চোখে দেখলে কয়েকটি কারণে এই সন্দেহ তৈরি হয়-

ক. বিচারহীনতার সংস্কৃতিতে বাধ্য হয়ে অনেকে সমর্থন করলেও, ক্রসফায়ারের গল্প বাংলাদেশের একজন মানুষও বিশ্বাস করেন না৷

খ. আইনশৃঙ্খলা বাহিনী অনেক নীতি নৈতিকতাহীন কাজ করে৷ তাদের অনেকেই অনিয়ম-দুর্নীতির সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে সম্পৃক্ত৷

গ. যোগ্যতা-দক্ষতার সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী অনেক ভালো কাজ করে৷ এসব কাজের প্রেক্ষিতে যতটা প্রশংসিত হওয়ার কথা, জনআস্থা বৃদ্ধি পাওয়ার কথা, বাস্তবে তা হয় না৷ এর কারণ আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বাস্তবে যা করে, তার সঙ্গে আরও কিছু গল্প তৈরি করে৷ এতে জনআস্থা বৃদ্ধি না পেয়ে আরও কমে যায়৷

৪. জঙ্গিবাদ ইস্যুতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কার্যক্রম, দৃষ্টিভঙ্গি নতুন করে পর্যালোচনা করা দরকার৷ গণমাধ্যমের সঙ্গে বৈরিতার পরিবর্তে, হৃদ্যতাপূর্ণ সম্পর্ক স্থাপন অতি জরুরি৷ গণমাধ্যম কোন ছবি প্রকাশ করবে, কোন ছবি প্রকাশ করবে না- চাপিয়ে দেয়া সিদ্ধান্তে তা নিয়ন্ত্রণ করা যাবে না৷ দেশ ও জনগণের স্বার্থে সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক দিয়ে তা করতে হবে৷ হাসনাত করিম, তাহমিদ হাসিব ও জঙ্গির ছবি গণমাধ্যমে প্রকাশিত হলে তদন্তে প্রভাব পড়া কোনোভাবেই উচিত নয়৷ ছবি প্রকাশ না করলেই যে তদন্ত সম্পূর্ণ সঠিক পথে চলত বা চলবে, সেই বিশ্বাসও জনগণের নেই৷ প্রশাসনের ওপর যেহেতু আস্থা কম, জনগণ আস্থা রাখতে চায় গণমাধ্যমের ওপর৷ জনগণের চাওয়া গণমাধ্যম সব প্রকাশ করে দিক, যাতে কিছু গোপন করা না যায়৷ জনআস্থার প্রতিফলন যে গণমাধ্যমে সব সময় ঘটে, তা-ও নয়৷

Bangladesh Journalist Golam Mortoza

গোলাম মোর্তোজা, সাপ্তাহিক পত্রিকার সম্পাদক এবং টিভি টকশো-র মডারেটর

৫. বর্তমান পৃথিবীর জঙ্গি তত্ত্বে ছবি একটি ছোট বিতর্ক৷ বাংলাদেশসহ পৃথিবীর যে সমস্ত দেশ জঙ্গিবাদে আক্রান্ত, তাদের গতানুগতিক ধারার বাইরে নতুন করে নীতিনির্ধারণ করতে হবে৷ ফ্রান্সের গণমাধ্যম ছবি প্রকাশ না করলেও জঙ্গি সংকট থেকে মুক্ত হতে পারবেনা৷ অ্যামেরিকার ভুল যুদ্ধ নীতিকে অন্ধভাবে সমর্থন করতে গিয়ে জঙ্গিবাদের থাবায় ধরা পড়েছে ইউরোপ৷ জঙ্গি নিয়ে রাজনৈতিক সুবিধার রাজনীতি করতে গিয়ে সংকটে পড়েছে বাংলাদেশ৷

ছবি প্রকাশ বা বিক্ষিপ্তভাবে একেক সময় একেকটি বিষয় সামনে না এনে সামগ্রিকভাবে পরিস্থিতির মূল্যায়ন জরুরি৷ জঙ্গিবাদের জন্ম ও বিস্তাররোধ করণীয় নির্ধারণ না করে, জঙ্গিবাদের থাবা থেকে মুক্তি মিলবে না৷

আপনার কি কিছু বলার আছে? লিখুন নীচের মন্তব্যের ঘরে৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়