1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

অন্বেষণ

জঙ্গল ছাড়া মানুষ যে সত্যিই বাঁচে না

সংরক্ষিত অরণ্যে থাকেন বিস্মৃত সব উপজাতির নানা মানুষ, জঙ্গলই যাদের জীবন৷ তাদের জঙ্গলে রাখাটা যেমন সমস্যাকর, তেমনই সমস্যাকর তাদের স্থানান্তর করা৷ ইথিওপিয়া একটি সমাধানসূত্র দেখাচ্ছে৷

ভিডিও দেখুন 05:39

ইথিওপিয়ায় বন সংরক্ষণের আরেক উপায়

দক্ষিণ-পশ্চিম ইথিওপিয়ার শেকা অরণ্য৷ প্রায় ২৩০ বর্গকিলোমিটার এলাকা জুড়ে বিস্তৃত এই বনানীকে ইথিওপিয়ার ‘ফুসফুস' বলা হয়ে থাকে৷ বহু বিরল ও বিপন্ন প্রজাতির গাছপালা ও পশুপাখির আশ্রয় এই অরণ্য৷ একটি ‘কোর এরিয়া' আছে, যা পুরোপুরি সংরক্ষিত৷ এছাড়া আছে উন্নয়নের জন্য চিহ্নিত এলাকা৷

মাশা সেই ধরনের একটি এলাকা৷ প্রায় পঞ্চাশ হাজার মানুষের বাস এখানে৷ গোটা শেকা অরণ্য ইউনেস্কোর বায়োস্ফিয়ার রিজার্ভের মধ্যে পড়ে৷ তার মধ্যে অর্ধেক হলো বিকাশের এলাকা, যেখানে টেকসইভাবে চাষবাস ও বসবাস করা চলে৷ ওদিকে আরো বেশি চাষবাস মানে আরো কম বনজঙ্গল৷ আসেসো উপজাতির প্রধান ডাকিটো আটেস্টা বলেন, ‘‘আমরা বিভিন্ন গাঁয়ের বাসিন্দা ও সেই সঙ্গে সরকারি কর্মকর্তাদের সঙ্গে শলাপরামর্শ করি৷ এভাবে আমরা অরণ্য সংরক্ষণের চেষ্টা করি৷''

গাছ কাটার বিকল্প

মৌমাছি পোষা সেই ধরনের একটি বিকল্প প্রকল্প৷ ইথিওপিয়ার ‘মেল্কা' নামের একটি এনজিও এই মৌমাছি পোষার বাক্সগুলো দিয়েছে৷ ‘মেল্কা' টাকা পায় আন্তর্জাতিক জলবায়ু সুরক্ষা উদ্যোগ থেকে৷ ‘মেল্কা' ত্রাণ সংস্থার আডুগ্না শাভেনো বলেন: ‘‘এই পন্থায় বিভিন্ন গোষ্ঠী জঙ্গল থেকে বেরিয়ে এসে একসঙ্গে কাজ করছে৷ তার সুবিধেটা কোথায়? ওরা যদি সকলে একসঙ্গে এই আধুনিক মৌচাকগুলোর দেখাশুনো করে, তাহলে গাছ কাটা কমবে৷''

মৌচাষি আয়েলে আলেমায়েহু বলেন, ‘‘মধু বিক্রি করে আমরা আমাদের ছেলেমেয়েদের জামাকাপড়, স্কুলের বইখাতা কিনে দিতে পারি৷ আমরা কর দিই, নিজেদের বাড়িঘর বানাই৷''

চা'বাগান৷ আগে এজন্য অনেকটা জঙ্গল পুড়িয়ে কিংবা কেটে সাফ করা হতো৷ আজ আর তার অনুমতি পাওয়া যায় না৷ তা সত্ত্বেও আপোশ করার প্রয়োজন পড়ে৷ এক সৌদি বিনিয়োগকারীর এই কফি প্ল্যান্টেশনটি প্রায় দশ বর্গকিলোমিটার এলাকা জুড়ে৷ মাঝখানে একটা আস্ত শহর গজিয়ে উঠেছে৷ মানুষজন এখানে কাজ পায়, যেমন ২১ বছর বয়সি মেসার্ট৷ তার রোজগার মাসে চল্লিশ ইউরো, যা কিনা ইথিওপিয়ার গড় আয় বলা চলে৷

কফিচাষের জন্য ছায়া লাগে, কাজেই গাছ না কাটাই ভালো৷ এ সবই টেকসই ও পরিবেশসম্মত পন্থা, বলেন কফিবাগানের কর্মকর্তা ও অরণ্য সংরক্ষণ বিভাগের প্রতিনিধিরা৷ কিন্তু এখানেও ‘মানিয়ে-গুছিয়ে' নিতে হয়৷ শেকা কৃষি বিভাগের আতানাফু দেগফে বলেন, ‘‘ছায়া বেশি হলে তা যদি কফি ফসলের ওপর প্রভাব ফেলে, তাহলে কিছু কিছু গাছ কাটতে হবে৷ তাতে উৎপাদন বাড়ে, আবার পরিবেশেরও উপকার হয়৷''

বৃক্ষদেবতা

একটি গাছের নাম ‘লুলে' গাছ৷ এই গাছটি বিপন্ন প্রজাতিগুলির তালিকায় পড়ে৷ লুলে গাছটি খাড়া গোষ্ঠীপতি ডাকিটো আটেস্টা-র নিজের বাগানে৷ তাঁকে সম্মান করে চলতে হয়৷ অরণ্য সংরক্ষণ কাজ করে সামাজিক নিয়মকানুনের মাধ্যমে৷ বিনা অনুমতিতে গাছ কাটলে তার সাজা হল, একটি আস্ত ষাঁড় দিতে হবে৷ লুলে গাছ আবার পবিত্রও বটে৷ কাজেই এই গাছ কাটা চলবে না৷

আসেসো প্রধান ডাকিটো আটেস্টা বলেন, ‘‘আমাদের এই পবিত্র স্থানগুলো বহু প্রজন্ম ধরে চলে আসছে৷ আমাদের পিতৃপুরুষেরা এগুলো খুঁজে বার করেছেন৷ আমরা ওখানে গিয়ে বৃষ্টির জন্য, ভালো ফসলের জন্য প্রার্থনা করি৷ এসব জায়গায় দেবতারা আমাদের প্রার্থনা শোনেন৷''

জঙ্গলই জীবন

এটা জঙ্গলের ‘কোর এরিয়া' – এখানে কোনো কিছু করা নিষেধ৷ কিন্তু চুরি করে কাঠ কাটলে দু'চার পয়সা বাড়তি রোজগার করা যায়৷ কাঠ কাটতে হয়, কেননা মরা গাছ বা ঝড়তি-পড়তি ডালপালা দিয়ে রান্নার কাজ চলে না৷

মেঞ্জা উপজাতির মানুষরা জঙ্গলে বাস করেন আর বাঁদরের মাংস খান বলে লোকে এদের নীচু নজরে দেখে৷ কিন্তু মেঞ্জাদেরও বন কেটে চাষের জমি করার অধিকার নেই৷ তাই এরা গাছ পুড়িয়ে কাঠকয়লা তৈরি করেন৷ এখানেও ‘মেল্কা' ত্রাণ সংস্থা একটি বিকল্পের ব্যবস্থা করেছে৷ তারা মেঞ্জাদের ষাঁড় কিনে দেয়৷ সেই ষাঁড় বড় হলে, তাকে বেচে আরো নতুন ষাঁড় কেনেন মেঞ্জারা৷

শেকা-র মানুষেরা জঙ্গলে থাকেন, জঙ্গল থেকেই তাদের দিন চলে৷ জঙ্গল না বাঁচলে তাঁরাও বাঁচবেন না৷ ডাকিটো আটেস্টা বলেন, ‘‘আমাদের পবিত্র স্থানগুলো যদি ধ্বংস করা হয়, গাছ কেটে ফেলা হয়, তাহলে মানুষও আর বেঁচে থাকতে পারবে না৷ বৃষ্টি ছাড়া ফসল হবে না৷ সেটাই হবে অন্তের সূচনা৷''

কাজেই শেকা-র মানুষদের আশা, জঙ্গল যেন আরো বহুদিন, বহু বছর ধরে বেঁচে থাকে৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

ইন্টারনেট লিংক

এই বিষয়ে অডিও এবং ভিডিও