1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

জার্মানি ইউরোপ

ছোটদের নয়, শুধু বড়দের খেলার জায়গা

ছোটদের যেমন প্লেয়িং গ্রাউন্ড থাকে, জার্মানিতে বড়দের জন্যও সেই রকম পাবলিক শো জাম্পিং গ্রাউন্ডের ব্যবস্থা করা আছে৷ বড়রা সেখানে ব্যালান্সিং কিংবা এক্সারসাইজ করে নিজেদের ফিট রাখতে পারেন৷

ডয়চে ভেলের মুখ্য কার্যালয় যে বন শহরে, আপনি যদি সেখানকার ব্রুজার ব্যার্গ এলাকাতেও যান, তাহলে এ ধরনের একটি বড়দের প্লেগ্রাউন্ডের দেখা পাবেন: ব্যায়াম কিংবা কসরত করার ছ'টি সরঞ্জাম রাখা রয়েছে৷ তাদের মধ্যে হাত-পায়ের ব্যায়াম করার সরঞ্জাম আছে; ব্যালান্স করার জন্য স্ল্যাকলাইন আছে৷ কোনো ‘জগার' হয়ত দৌড় শেষ করে এসে এখানে একটু লেগ এক্সটেনশন মেশিনে বসে পায়ের এক্সারসাইজ করে নিলেন৷ তিনি সারাদিন কাজের পর খানিকটা জগিং করে এখানেই আসেন, নিখর্চায় ফিটনেস ট্রেনিং করার জন্য৷

‘ফিট, ফ্রি, ফান অ্যান্ড ফাংশন'

এই ধরনের ‘বড়দের খেলার জায়গা'-কে জার্মান পরিভাষায় বলে ফোর-এফ স্পোর্ট সেন্টার৷ ঐ চারটে এফ হলো ‘ফিট, ফ্রি, ফান অ্যান্ড ফাংশন'-এর সংক্ষিপ্ত রূপ৷ এগুলো বানায় ‘প্লেপার্ক' নামধারী এক জার্মান কোম্পানি৷ ৪০০-র বেশি এ ধরনের ফোর-এফ স্পোর্ট সেন্টার সৃষ্টি করা হয়েছে জার্মানিতে৷

জায়গাটি বড় আকারের হলে এবং ব্যায়ামের সরঞ্জাম বেশি হলে এক লাখ ইউরোর বেশি খরচা পড়াটাও অস্বাভাবিক নয়৷ কিন্তু এর জনস্বাস্থ্যগত লাভ এতই বেশি, যে অর্থের পরিমাণটাকে মাত্রাধিক বলে মনে করার কোনো কারণ দেখেন না উদ্যোক্তারা৷

আমরা নাম দিয়েছি ‘বড়দের খেলার জায়গা', কিন্তু সেটা সজ্ঞানে এবং সকারণেই৷ ফোর এফ সেন্টারগুলির বড় অনুরাগী হলেন ৫০ বছরের উপরে যাঁদের বয়স, এমনকি ৬৫ বছরের উপরে যাঁদের বয়স, সেই প্রবীণেরা৷ ফোর এফ সেন্টারে এই বয়স্কদের অনুপাত হলো ৩০ শতাংশ৷ এঁদের মধ্যে অনেকেই এই ‘খেলার জায়গাগুলিতে' ১৫ থেকে ৩০ মিনিট ব্যায়াম করে থাকেন৷ মনে রাখতে হবে, জার্মান সমজে বৃদ্ধ-বৃদ্ধাদের সংখ্যা ও অনুপাত বাড়ছে৷ আর ঠিক সেই অনুপাতে বাড়ছে এই ফোর এফ সেন্টারগুলির উপযোগিতা৷

বিভিন্ন শহরের পৌর কর্তৃপক্ষ মডেলটি পছন্দ করেছেন, কেননা এর ফলে বিভিন্ন প্রজন্মের মানুষ একসঙ্গে পাবলিক স্পেস ব্যবহার করতে পারছেন৷ চীন এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার অন্যান্য দেশে যেমন দল বেঁধে সরকারি পার্কে ‘তাই চি' ইত্যাদি করার প্রথা আছে, তেমনই জার্মানিতে এই ‘বড়দের খেলার জায়গা' একদিন সমাজজীবনের অঙ্গ হয়ে উঠবে বলে আশা করছেন কর্মকর্তারা৷ বিশেষ করে যখন অন্যান্য ছোটখাটো কাজ করতে বেরিয়ে সহজেই ফোর এফ সেন্টারে এক চক্কর কেটে আসা যায়৷

সবচেয়ে বড় কথা, মানুষ একাকী যা করার প্রেরণা পায় না, সমবয়সি ও সমব্যথীদের সঙ্গে ঠিক সেই কাজ করেই আনন্দ পায় মানুষ: যেমন ফোর এফ সেন্টারে ব্যায়াম করে৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন