1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বিশ্ব

ছিল রাজধানী, হল সালাফিদের ঘাঁটি

জার্মানি থেকে প্রায় সাড়ে চারশো' উগ্র ইসলামপন্থি সিরিয়া যাত্রা করেছে৷ তাদের মধ্যে মোট দশ শতাংশের বাস এই বন শহরে৷ বন কী ভাবে উগ্র সালাফি মতাদর্শের কেন্দ্র হয়ে উঠল, তা নিয়ে ভাবনা-চিন্তা করেছেন মাটিয়াস ফন হাইন৷

সাবেক রাজধানী বন আজও একটি অভিজাত শহর: এখানে জাতিসংঘের একটি কার্যালয় থেকে শুরু করে ডয়চে পোস্ট কিংবা ডয়চে টেলিকম-এর মতো বড় বড় কোম্পানির হেডকোয়ার্টার্স আছে৷ সেই সঙ্গে রয়েছে রোমান্টিক রাইন নদী, বেটোফেন ফেস্টিভাল এবং কার্নিভাল৷ সেই ছোট্ট, ছিমছাম, সুন্দর বন শহরের এখন মিডিয়ায় নাম করা হচ্ছে সালাফি আর ইসলামপন্থি, সন্ত্রাসবাদ আর জিহাদের সঙ্গে৷

বন রেলওয়ে স্টেশনে বোমাবাজির ব্যর্থ প্রচেষ্টার দায়ে ড্যুসেলডর্ফের প্রাদেশিক আদালতে এক ব্যক্তির বিচার চলেছে, যে জাতিতে জার্মান এবং পরে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করে৷ তবে বন-এর সঙ্গে জঙ্গি ইসলামি মতাদর্শের সম্পর্ক বহুদিনের: বন থেকে আগত জিহাদি বেকাই হারাশ আফগানিস্তানে নিহত হয় ২০১০ সালে; তার আগে হারাশ একটি ইন্টারনেট ভিডিও-তে জিহাদের ডাক দিয়েছিল৷ পাকিস্তান আর আফগানিস্তানের সীমান্ত এলাকা থেকে প্রেরিত ভিডিও বার্তায় জার্মানিতে সন্ত্রাসী আক্রমণের আহ্বান জানিয়েছিল ইয়াসিন আর মুনির চৌকা – এই দুই ভাইয়ের বাড়িও ছিল বন শহরে৷

Bonn Demonstrierende Muslime gegen Rechtsradikalismus

দৃশ্যত উগ্রপন্থি সালাফিদের ঘাঁটি হয়ে উঠেছে বন

ইসলাম-বিদ্বেষ নিয়ে উদ্বেগ

বন যে দৃশ্যত উগ্রপন্থি সালাফি-দের ঘাঁটি হয়ে উঠেছে, সে বিষয়ে কলেটা মানেমান-ও চিন্তিত৷ কলেটা হলেন বিদেশি-বহিরাগতদের সমাজে অন্তর্ভুক্তির ব্যাপারে বন শহরের সরকারিভাবে নিযুক্ত মধ্যস্থ৷ তাঁর প্রধান চিন্তা হল কিশোর-তরুণদের উগ্রপন্থি হয়ে ওঠা নিয়ে৷ অপরদিকে তাঁর চিন্তা ক্রমবর্ধমান ইসলাম-বিদ্বেষ নিয়ে৷ বন যে সালাফি-দের ঘাঁটি হয়ে উঠেছে, কলেটার মতে তার কারণ: রাজধানী থাকার আমলেই বন-এ অনেকগুলো মসজিদ গড়া হয়েছিল৷ আরব দেশগুলির দূতাবাসগুলি নিশ্চিত করতে চেয়েছিল যে, তাদের কর্মীরা নমাজ পড়ার জন্য মসজিদে যেতে পারবেন৷ এইভাবেই কয়েকটি মসজিদ উগ্রপন্থি মুসলিমদের দেখাশোনার স্থান হয়ে ওঠে৷

আজ আরবি হল বন-এ জার্মানের পরে সবচেয়ে প্রচলিত ভাষা৷ বিশেষ করে বন-এর দক্ষিণাংশে, বাড গোডেসব্যার্গ এলাকায়, শুধু আরবি বলেই কাজ চালিয়ে নেওয়া যায়৷ যে কারণে আরব দেশগুলি থেকে বহু মানুষ বাড গোডেসব্যার্গে আসেন বিশেষত চিকিৎসা করানোর জন্য৷ তবে শুধু চিকিৎসাপ্রার্থীরাই নন, সেই সঙ্গে উগ্র ইসলামপন্থিদেরও আগমন ঘটে থাকে৷ হামবুর্গ, উল্ম ইত্যাদি শহরে তাদের দেখাসাক্ষাতের জায়গাগুলি বন্ধ করে দেওয়ার পর ২০০৫ সাল থেকে নাকি সুপরিচিত সালাফি-রা বন-এ এসে ভিড় জমিয়েছে৷

বাড গোডেসব্যার্গের কেন্দ্রে আজ একাধিক আরব রেস্তোরাঁ, নানা ধরনের আরব দোকানপাট, যাদের নাম আবার আরবি ভাষায় লেখা – সেই সঙ্গে একাধিক আরব কল-শপ, যেখান থেকে দেশে টেলিফোন করা যায়৷ বাড়ির দালালরা আরবি কায়দায় সাজানো, স্বল্প মেয়াদে ভাড়া নেওয়ার উপযোগী ফ্ল্যাট ভাড়া দিয়ে থাকে৷ বাজারে বা ফুটপাথে বোরখা পরা মহিলা হামেশা চোখে পড়বে৷ বলতে কি, এই গ্রীষ্মেই একটা দোকান খোলা হয়েছে, যেখানে ‘‘মহিলাদের জন্য ইসলামি বস্ত্র'' পাওয়া যায়৷

বাদশাহ ফাহদ অ্যাকাডেমি

বাড গোডেসব্যার্গের আরো দক্ষিণে গেলে দেখতে পাওয়া যাবে ‘ক্যোনিশ ফাহদ অ্যাকাডেমি'-র ভবন৷ বাইরে থেকে দেখতে একটা মসজিদের মতো; আসলে এটি সৌদি আরবের একটি বৈদেশিক স্কুল৷ বন-এ সালাফি মতাদর্শ শিকড় গাড়ল কি করে, এ প্রশ্ন উঠলেই রাজা ফাহদ অ্যাকাডেমি-র নাম এসে পড়বে৷ স্কুলের অধ্যক্ষ ইব্রাহিম আল-মেগ্রেন অবশ্য সে কথা মানতে রাজি নন৷ তিনি জানালেন জার্মান কর্তৃপক্ষের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সহযোগিতার কথা; প্রতি বছর স্কুলের পাঠ্যপুস্তকগুলি রিভাইজ করার কথা; পাঠক্রমের শেষে শুধু আরব মাধ্যমিক নয়, সেই সঙ্গে আন্তর্জাতিক পরীক্ষারও ব্যবস্থা রাখা আছে৷

২০০৩ সালে এই স্কুলটি যখন জার্মান অভ্যন্তরীণ গুপ্তচর বিভাগের নজরে আসে, তখন পরিস্থিতি ছিল ভিন্ন: এক শিক্ষক নাকি ‘পবিত্র যুদ্ধের'' ডাক দিয়েছিলেন; সপ্তাহে মাত্র এক ঘণ্টা জার্মান শেখানোর ব্যবস্থা ছিল; সারা জার্মানি থেকে আরব পরিবারবর্গ বন-এ এসে বাসা বেঁধেছিলেন শুধু যাতে তাদের সন্তান হানিকর পশ্চিমি প্রভাব মুক্ত পরিবেশে পড়াশুনা করতে পারে, সেই জন্য৷ বন-এর জিহাদি বেকাই হারাশ-ও ছিল এই অ্যাকাডেমি-র ছাত্র৷

সে সব দিন গেছে, সেই সঙ্গে বাদশাহ ফাহদ অ্যাকাডেমির ছাত্রসংখ্যা কমে দাঁড়িয়েছে দেড়শো'য়, যদিও এই স্কুলে ছ'শো পড়ুয়ার পড়াশোনার ব্যবস্থা আছে৷ অপরদিকে অ্যাকাডেমির কাছে অপর একটি সাধারণ স্কুলে মুসলমান ছাত্রছাত্রীর অনুপাত আজ ৮০ শতাংশ৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়