1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বিশ্ব

ছাত্রলীগের ৮ জনের ফাঁসি, সন্তুষ্ট বিশ্বজিতের পরিবার

গত বছর ডিসেম্বরে বিরোধী দলের অবরোধের সময় ঢাকায় নিহত দোকান-কর্মচারী বিশ্বজিৎ হত্যা মামলায় ছাত্রলীগের ৮ কর্মীকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত৷ এছাড়া ১৩ জনকে দেয়া হয়েছে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড৷

দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল বুধবার এই রায় ঘোষণা করেন৷

গত বছরের ৯ ডিসেম্বর বিরোধী দলের অবরোধ চলাকালে ছাত্রলীগের কর্মীরা পুরনো ঢাকার বাহাদূর শাহ পার্ক এলাকায় বিশ্বজিৎ দাসকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করে৷ একটি দর্জি দোকানের কর্মচারী বিশ্বজিৎ সকালে পায়ে হেঁটে কাজে যাচ্ছিলেন৷ তখন বাহাদুর শাহ পার্কের সামনে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটলে জগন্নাথ কলেজ শাখা ছাত্রলীগের কর্মীরা তাঁকে সেখানেই নির্মমভাবে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে আহত করে৷ সে প্রাণ বাঁচাতে পাশের একটি ক্লিনিক ভবনে আশ্রয় নিয়েও বাঁচতে পারেনি৷ সেখানে তাকে ঘেরাও করে কুপিয়ে হত্যা করা হয়৷ পুলিশ এবং সাংবাদিকদের সামনেই এই নির্মম ঘটনাটি ঘটে৷

এই ঘটনার পর সারাদেশে তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হলে ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করা হয়৷ চলতি বছরের ৫ মার্চ তদন্ত শেষে পুলিশ ছাত্রলীগের ২১ কর্মীর বিরুদ্ধে চার্জশিট দেয়৷ মামলার সাক্ষ্য গ্রহণ শেষে বুধবার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল-৪ এর বিচারক এ বি এম নিজামুল হক রায় দেন৷ রায়ে ৮ জনকে ফাঁসি এবং ১৩ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের আদেশ দেয়া হয়েছে৷ কারাদণ্ড প্রাপ্তদের প্রত্যেককে ২০ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে৷

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ৮ জনের মধ্যে ৬ জন কারাগারে আছেন৷ তারা হলেন, রফিকুল ইসলাম শাকিল, মাহফুজুর রহমান ওরফে নাহিদ, জি এম রাশেদুজ্জামান ওরফে শাওন, কাইয়ুম মিয়া ও ইমদাদুল হক ওরফে এমদাদ৷ আর পলাতক আছেন রাজন তালুকদার ও নুরে আলম৷ যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত ১৩ জনের মধ্যে এস এম গোলাম কিবরিয়া এবং গোলাম মোস্তফা কারাগারে আছেন৷ বাকি ১১ জন এখনো পলাতক৷

বিশ্বজিৎ হত্যার ঘটনায় পুলিশ স্বেচ্ছায় আসামিদের আটক করেনি৷ হাইকোর্ট সংবাদপত্রে প্রকাশিত ছবি এবং এবং ভিডিও ফুটেজ দেখে স্বপ্রণোদিত হয়ে অপরাধীদের গ্রেফতারের নির্দেশ দিলে পুলিশ তৎপর হয়৷

রায় ঘোষণার পর বিশ্বজিতের ভাই উত্তম কুমার দাস ডয়চে ভেলেকে জানান, এই রায়ে তাঁরা মোটামুটি সন্তুষ্ট৷ এখন তাদের দাবি, পলাতক আসামিদের গ্রেফতার এবং দ্রুত রায় কার্যকর করা৷ তিনি জানান বিশ্বজিৎ হত্যার পর তাঁদের পরিবার আর্থিক বিপর্যের মুখে পড়েছে৷ তাদের পরিবার এখন সংকটের মুখে আছে৷

এদিকে, পাবলিক প্রসিকিউটর আব্দুল্লাহ আবু জানান, আদালত ন্যায়বিচার করেছেন৷ এতে প্রমাণিত হলো, কেউ অপরাধ করলে সে যতই ক্ষমতাধর হোক না কেন পার পায় না৷ আসামি পক্ষের আইনজীবীরা রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করার কথা জানিয়েছেন৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়