1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

পাঠক ভাবনা

‘‘ছবিটার দিকে তাকালেই অঝরে অশ্রু ঝরতে থাকে''

তুরস্কের উপকূলে এক শিশুর মৃতদেহের ছবি ডয়চে ভেলের পাঠকদের জন্য প্রকাশের কারণ ব্যাখ্যা করেছেন প্রধান সম্পাদক আলেক্সান্ডার কুডাশেফ৷ ছবিটি দেখে অনেক পাঠকই তাদের আবেগ, রাগ, মানবতার নানা কথা জানিয়েছেন ফেসবুকে৷

সমুদ্রসৈকতে একটি শিশুর মৃতদেহ পড়ে থাকার বীভৎস দৃশ্য, যে দৃশ্যে সিরিয়ার গৃহযুদ্ধের ভয়াবহতা ফুটে ওঠেছে৷ যে ছবি দেখলে আবেগ ধরে রাখা কঠিন৷ আর সেকথাই জানিয়েছেন আমাদের পাঠক মো.নজরুল ইসলাম এভাবে, ‘‘ছবিটার দিকে তাকালেই অঝরে অশ্রু ঝরতে থাকে৷ এই ছেলেটি পরনে যে কাপড়, জুতা, তা যে সে নিজে পরিধান করতে পারেনি আমি নিশ্চিত৷ তার মা কত আদর করে পরিয়ে দিয়েছিল... চোখের পানি আটকানো সত্যি সত্যি অসম্ভব৷ খুবই স্পর্শকাতর, হে আল্লাহ রক্ষা করুন সকল শিশুদেরকে৷'' ফেসবুক বন্ধু রওনক জাহান, সেলিম খান রেজা, জাহির আহমেদও প্রায় একই কথা লিখেছেন৷

বিভ্রানু দে ও মীর কামরুদ্দিন, নাজমুল হাসানও শিশুর এই মর্মান্তিক ছবিটি প্রকাশের পক্ষেই মত দিয়েছেন৷ কাজি মানিকও মনে করেন সত্যকে জানতে দেয়া উচিত৷ আমির হোসেন বকুলের মন্তব্য, ‘‘বিপন্ন মানবতা, অবক্ষয় মূল্যবোধের, ব্যর্থতা জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের৷''

মো.মামুন আল মিরাজের প্রশ্ন, মানবতা আজ কোথায়?

গৃহযুদ্ধে বিধ্বস্ত দেশ সিরিয়া থেকে পলায়নের অসহায় ও মারাত্মক চিত্রই এই শিশুর ছবি৷ ডয়চে ভেলের ফেসবুকে শিশুর এই ছবিটি দেখে বন্ধু সোহেল আল্লার কাছে ফরিয়াদ জানিয়েছে, ‘‘হে আল্লাহ সিরিয়ার মুসলমানদেরকে তুমি রক্ষা করো৷''

মুসলিম রাষ্ট্রগুলো এদের অভিশাপেই ধ্বংস হয়ে যাবে, এই দায় আমাদের সবার৷ এরকমই মনে করেন শাহাবুদ্দিন আহমেদ আলাল৷

এই ছবিটি প্রকাশের কারণ হিসেবে ডয়চে ভেলের প্রধান সম্পাদক কুডাশেফ জানিয়েছেন, ‘‘এই ছবি আমাদের চিন্তা করতে বাধ্য করে, আমাদের হতবাক করে দেয়৷ এই ছবি দেখলে আমাদের সবার মনে হয় – শুধু এ বছর নয়, গোটা দশকের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ছবি এটি৷ গত কয়েক মাস ধরে যা কিছু আমাদের নাড়া দিচ্ছে, স্পর্শ করছে, ক্রোধ ও বিরক্তি জাগিয়ে তুলছে, এই ছবি সেই সব আবেগের অভিব্যক্তি৷ যে কারণে ডয়চে ভেলে এই ছবিটি দেখানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে৷''

ছবিটি প্রকাশের জন্য ধন্যবাদ দিয়েছেন লিটন সরকার৷ তাঁর মন্তব্য, ‘‘প্রথমে ধন্যবাদ আপনাদের, ছবিটা পোস্ট করার জন্য৷ কিছু কথা বলি, তবে কাজের কাজ কিছু হবে না, আজ কাল বা পরশু৷ মানুষ জন্ম থেকেই বেইমান৷ তা না হলে আল্লাহর বেহেস্ত থেকে বিতাড়িত হয় কী করে৷ মানুষের কারণে আজ পৃথিবিটা ধ্বংস হতে চলছে, তবু আমরা নির্বাক চেয়ে থাকবো৷''

শিশুর মৃতদেহের ছবিটা দেখে ডয়চে ভেলের ফেসবুক বন্ধু এ কে শরীফ সরকারের চোখ ভিজে গেছে শিশুটির মায়ের কথা চিন্তা করেই৷

সুবির মম অসহায় অবুঝ শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যুর দৃশ্য আর সহ্য করতে পারছিলেন না ৷ তিনি ফেসবুকে শুধু লিখেছেন, ‘‘আমি এই ছবিটা আর দেখতে চাই না, এটা মানবতার মৃত্যু৷''

শিশুটিকে উদ্দেশ্য করে ফেসবুক বন্ধু জাবেদ খান তার আবেগ প্রকাশ করেছেন এভাবে, ‘‘বেবি, আমরা সবাই তোমাকে ভালোবাসি''

সংকলন: নুরুননাহার সাত্তার

সম্পাদনা: সঞ্জীব বর্মন

নির্বাচিত প্রতিবেদন