1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বাংলাদেশ

চ্যালেঞ্জের মুখে বাল্যবিবাহ নিরোধ আইনের বিশেষ বিধান

নতুন বাল্যবিবাহ নিরোধ আইনের বিশেষ বিধান কেন বাতিল হবে না, সরকারের কাছে তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছে হার্টকোর্ট৷ ঐ বিধানে বিশেষ পরিস্থিতিতে পিতা-মাতা বা অভিভাবকের সম্মতিতে ১৮ বছর বয়সের নীচেও বিয়ের অনুমতি দেওয়া হয়৷

বাংলাদেশে আগের আইনে ১৮ বছরের নীচে বিয়ে নিষিদ্ধ এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ ছিল৷ গত মার্চ মাসে প্রণীত নতুন ‘বাল্যবিবাহ নিরোধ আইন ২০১৭'-এ ১৮ বছরের নীচে বিয়ে নিষিদ্ধ করা হলেও, ঐ একই আইনের বিশেষ বিধানে তার আবার সুযোগও রাখা হয়েছে৷ বিশেষ বিধানের ১৯ ধারায়বলা হয়, ‘এই আইনের অন্যান্য বিধানে যা কিছুই থাকুক না কেন, বিধি দ্বারা নির্ধারিত কোনো বিশেষ প্রেক্ষাপটে অপ্রাপ্তবয়স্কদের সর্বোত্তম স্বার্থে, আদালতের নির্দেশ ও পিতা-মাতা বা প্রযোজ্য ক্ষেত্রে অভিভাবকের সম্মতিক্রমে, বিধি দ্বারা নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুসরণক্রমে বিয়ে সম্পাদিত হলে, তা এই আইনের অধীন অপরাধ বলে গণ্য হবে না৷'

এই বিশেষ বিধানকে চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট করে বাংলাদেশ জাতীয় মহিলা আইনজীবী সমিতি ও নারীপক্ষ৷ সোমবার বিচারপতি মইনুল ইসলাম চৌধুরী ও বিচারপতি জে বি এম হাসানের বেঞ্চ প্রাথমিক শুনানির পর চার সপ্তাহের রুল দেন৷ রুলে বিশেষ বিধান কেন বাতিল করা হবে না সরকারকে তা জানাতে বলা হয়েছে৷

অডিও শুনুন 03:53

‘বিশেষ বিধান রাখায় বাল্যবিবাহ বেড়ে যাবে’

জাতীয় মহিলা আইনজীবী সমিতির প্রধান ফাওজিয়া করিম ফিরোজ আদালতে বক্তব্য তুলে ধরেন৷ তিনি ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘বিশেষ বিধানটি আমাদের সংবিধানের ২৮ অনুচ্ছেদ, এই আইনেরই ৭ এবং ৮ ধারা, পেনাল কোড এবং নারী ও শিশু অধিকার সংক্রান্ত আন্তর্জাতিক সনদগুলোর বিরোধী৷ এই কারণে আমারা ‘বাল্যবিবাহ নিরোধ আইন ২০১৭'-এর বিশেষ বিধান বাতিল চেয়েছি৷''

তিনি ব্যাখ্যা করে বলেন, ‘‘সংবিধানের ২৮ অনুচ্ছেদে শিশু ও নারীর উন্নয়ন নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে৷ বিশেষ বিধান উন্নয়নের পরিপন্থি৷ এই আইনেরই ৭ এবং ৮ ধারায় ১৮ বছরের নীচে বিয়ে হলে পিতা-মাতা বা অভিভাবকের শাস্তির বিধান আছে৷ শুধু তাই নয়, যারা বিয়ে করবেন, তাদেরও শাস্তির কথা বলা হয়েছে৷ বিশেষ বিধান ওই দু'টি ধারার বিরুদ্ধে যায়৷''

ফাওজিয়া করিম আরো জানান, ‘‘বাংলাদেশ শিশু ও নারীর অধিকার সংক্রান্ত আন্তর্জাতিক সদনগুলোর স্বাক্ষরকারী৷ চলতি বছর সিডও সনদে বাংলাদেশকে বাল্যবিবাহ রোধে সব ধরনের পদক্ষেপ নিতে বলা হয়েছে এবং বাংলাদেশও পদক্ষেপ নেয়ার অঙ্গীকার করেছে৷ কিন্তু বিশেষ বিধান অঙ্গীকারের বিরুদ্ধে যায়৷''

নির্বাচিত প্রতিবেদন

তাঁর কথায়, ‘‘বিশেষ বিধান রাখায় বাল্যবিবাহ বেড়ে যাবে৷ এছাড়া এই বিধান ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে নারী ও শিশুকেও ক্ষতিগ্রস্ত করা হবে৷ এই বিধানটি নারী ও শিশুর সাস্থ্য, মাতৃস্বাস্থ্য এবং নারী শিক্ষার অন্তরায়৷''

তিনি বলেন, ‘‘বাল্যবিবাহের আধিক্যের দিক দিয়ে বাংলাদেশের অবস্থান বিশ্বে এখন অষ্টম৷ বাল্যবিবাহ যখন পুরোপুরি নিষিদ্ধ ছিল, তখনই এই অবস্থা৷ এখন নতুন আইনে বিশেষ ব্যবস্থায় বাল্যবিবাহের সুযোগ থাকায় পরিস্থিতি আরো খারাপ হবে৷''

প্রসঙ্গত, সম্প্রতি ওয়াশিংটন ভিত্তিক ‘থিংক ট্যাংক' ইন্টারন্যাশনাল ফুড পলিসি রিচার্স ইনস্টিটিউট(আইএফপিআরআই)-এর এক গবেষণায় বলা হয়, বাংলাদেশে গত দু'দশকে বাল্যবিবাহের হার শতকরা ৬২ দশমিক ৩ ভাগ থেকে কমে ৪৩ ভাগ হয়েছে৷

আইএফপিআরআই-এর গবেষণায় দেখা যায়, ১৯৯৬ থেকে থেকে ২০০৫ সালে বাংলাদেশে ১৫ বছরের কম বয়সি মেয়েদের বিয়ের হার ছিল শকরা ১৫ দশমিক ৯ ভাগ, ১৫-১৮ বছর বয়সিদের বিয়ের হার ছিল ৪৬ দশমিক ৫ ভাগ৷ সব মিলিয়ে বাল্যবিবাহের হার ছিল শতকরা ৬২ দশমিক ৩ ভাগ৷

২০০৬ সাল থেকে ২০১৫ সালে ১৫ বছরের কম বয়সি মেয়েদের বিয়ের হার শকরা ৫ দশমিক ৪ ভাগ, ১৫-১৮ বছর বয়সিদের বিয়ের হার ৩৭ দশমিক ৮ ভাগ৷ সব মিলিয়ে বাল্যবিবাহের হার শতকরা ৪৩ দশমিক ২ ভাগ৷

বাংলাদেশে বাল্যবিয়ের হার কমলেও তাতে আত্মতৃপ্তির তেমন কোনো কারণ নেই৷ কারণ গত দু'দশকে ১৫ বছরের কম বয়সিদের বিবাহের হার উল্লেখযোগ্যভাবে কমলেও, মধ্যবর্তী ১৫-১৮ বছর বয়সিদের বিয়ের হার তেমন কমেনি৷ দৃশ্যত, মাত্র ১০ ভাগের মত কমেছে৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

এই বিষয়ে অডিও এবং ভিডিও

সংশ্লিষ্ট বিষয়